প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১০২ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও ৭ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন : নসরুল হামিদ

স্বপ্না চক্রবর্তী : বৃহস্পতিবার দেশের ১০২টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, এই কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি উড়োজাহাজে জ্বালানি তেল পরিবহন নিরাপদ ঝুঁকিমুক্ত, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন করতে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ থেকে কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো পর্যন্ত পাইপলাইনের স্থাপনার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুতের প্রকৃত উৎপাদন ছিলো ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বিগত ১০ বছরে এর উৎপাদন ক্ষমতা ৪ গুণের বেশি বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াটে।

তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ১৩ হাজার ৬৫৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে। এছাড়া ২৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে যার মোট ক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ৪৬১ মেগাওয়াট। অন্যদিকে প্রায় ২০ হাজার ১৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিকল্পনাধীন আছে।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতে বর্তমান সরকারের সময়ে যে বিনিয়োগ হয়েছে তা অন্য কোনো সরকারের সময়ে হয়নি। এই সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ১৮ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে আমদানি করা জেট এ-১ জ্বালানি তেল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে সরবরাহ করার জন্য পদ্মা অয়েল কোম্পানির চট্টগ্রামের পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনা থেকে নদীপথে কোস্টাল ট্যাংকারে করে নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত গোদনাইল ডিপোতে আনা হয়। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ জ্বালানি ১৫০টি ট্যাংক লরির মাধ্যমে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে পরিবহন করা হয়।

এসময় জানানো হয়, শতভাগ বিদ্যুতায়ন হওয়া উপজেলারগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা জেলার ৫টি, কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি, মৌলভীবাজার জেলার ১টি, নাটোরের ৩টি, রাজশাহীর ৪টি, বাগেরহাটের ১টি, যশোরে ৩টি, চুয়াডাঙ্গার দু’টি, পিরোজপুর সদর, মানিকগঞ্জের ৩টি, নওগার ৪টি, ঝালকাঠির ২টি, পাবনা সদর, সিলেটের ৪টি, খুলনার ডুমুরিয়া, ফেনী সদর, কুষ্টিয়া সদর, দিনাজপুরের ২টি, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ, চট্টগ্রামের ৪টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩টি, কুমিল্লার ১১টি, নোয়াখালীর ২টি, রংপুরের ২টি, সুনামগঞ্জ দক্ষিণ, সাতক্ষীরার তালা, কক্সবাজারের ২টি, মেহেরপুরেরর গাংনী, ভোলার ২টি. সিরাজগঞ্জের ৪টি, নেত্রকোনার ২টি, মাদারীপুর সদর, নীলফামারী সদর, গাজীপুর ২টি, শরীয়তপুরের ৩টি, চাদপুরের ৩টি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, বগুড়ার ৭টি, ফরিদুপরের ২টি, মাগুরার ২টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেবে সরকার। এছাড়া ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) প্রধান কার্যালয় ভবনের ও আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের নেওয়া কর্মপরিকল্পনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার এবং ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং এক লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ও প্রয়োজনীয় উপকেন্দ্র নির্মাণ ও ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ সবিচ ড. আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধবতন কর্মকর্তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ