প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঙ্গবন্ধুর দেয়া শহীদ পরিবারের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবি

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত শহীদ একেএম সামসুল হক খানের পরিবারের নামে বরাদ্দ দেয়া জমি জোর করে দখল করে ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

এ বিষয়ে থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। প্রায় বিশ কোটি টাকার ওই সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নবাবপুরের বাসিন্দা আজহারুর হক খান বলেন, ১৯৭১ সালে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক একেএম সামসুল হক খানকে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১০ সালে তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয় সরকার।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সামসুল হক খানের মা মাসুদা খানমকে ঢাকার নবাবপুর রোডের ২২১ নম্বর হোল্ডিংয়ে চার কাঠার প্লটটি ইজারা দেন। পরে তিনি উত্তরসূরি হিসেবে তার আরেক ছেলে আজহারুল হক খানকে ওই জমি হস্তান্তর করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই জমিতে মাসুদা করপোরেশন ও এসএইচকে করপোরেশন নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

স্থানীয় শেখ জাবেদ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন ওই জমি আর বাড়ি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে থানায় একাধিকবার জিডিও করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাবেদের লোকজন জমি দখল করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার পরদিনই তারা এ বিষয়ে বংশাল থানায় মামলা করেন। কিন্তু থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। পুলিশের আইজি ও লালবাগ জোনের ডিসির সঙ্গে সাক্ষাত করেও কোন সুরাহা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ওই জমির মূল মালিক ছিলেন গোপীনাথ বসাক নামে এক ব্যক্তি। তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। সরকার তখন জমিটি অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণা করে। পুরান ঢাকায় এ রকম কয়েকশ বাড়ি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে লিজ দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু জায়গা দখলদাররা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দখল করে নিয়েছে। তাদের জমির পাশে আট কাঠার ২২২ নম্বর প্লটও জাবেদ ও তার ভাই আবেদ দখল করে বিশাল টাওয়ার নির্মাণ করেছে। এখন তাদের জমিটি তারা দখল করে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এ ঘটনা তদন্ত করে শহীদ পরিবারের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার মইনুর রহমান জুয়েল, সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ, শহীদুল ইসলাম স্বপন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ