প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাকিস্তানের আব্বাসের উত্থান প্রমাণ করে ক্রিকেটে পরিবর্তন ঘটছে

স্পোর্টস ডেস্ক : জীবন ও জীবনসংশ্লিষ্ট সব কিছুই পরিবর্তনশীল। কালের পরিক্রমায় সব কিছুতেই পরিবর্তন আসে। বিবর্তনবাদের করাঘাতে জীবনধারণ, হাঁটাচলা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছদ, কৃষ্টিকালচার, জলবায়ু ভিন্ন রূপ ধারণ করে। খেলাধুলাও এর বাইরে নয়। যুগে যুগে বিনোদনের এ মাধ্যমটিতেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটে পরিবর্তন আসছে। শতাব্দী তো বহুদূরের কথা, অর্ধশতাব্দী আগের ক্রিকেটের সঙ্গে এখন এর ঢের ফারাক। পাকিস্তানের উঠতি পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের উত্থানের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়।

গেল এক দশকে ক্রিকেটে ঘটেছে ব্যাপক রদবদল। টি-টোয়েন্টির সূচনা হওয়ায় এর আমূল বদলে গেছে। এখন ছক্কা হাঁকানো অনেক সহজ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে ওয়ানডে ও টেস্ট ফরম্যাটেও। বিংশ শতাব্দীর সামান্য আগেও যেখানে ৩০০ প্লাস স্কোর দেখা যেত কালেভদ্রে, সেখানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এখন তা দেখা যায় হরহামেশা। সেঞ্চুরিও যেন ডালভাত হয়ে গেছে। অথচ ৪০ বছর আগেও হাফসেঞ্চুরি করা ছিল বিশাল ব্যাপার।

বিরাট কোহলি তো সব সংস্করণ মিলিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরির ‘সেঞ্চুরিকেও’ হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন। অনেকে লিটল মাস্টারের চেয়ে বর্তমান ভারতীয় অধিনায়ককেই এগিয়ে রাখছেন। কিন্তু না, দুজনের সময় আলাদা। এখন মেজাজ-মর্জির বিবর্তনে রান পাওয়া যত সহজ, দেড় দশক আগেই তা ছিল না।

একটা সময় পেসাররা ছিলেন ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক। সূচনালগ্নে যতটা না সুইং, লেন্থ, ইয়র্কার ভীতি সৃষ্টি করত, তার চেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়াত পেস। গতি দিয়েই ব্যাটারদের কাঁপিয়ে ছাড়তেন গতিদানবরা। সঙ্গে ছিল অ্যাথলেট দৌড় ও উচ্চতা। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছিলেন জেফ থমসন ও ডেনিস লিলি।

সময়ের প্রেক্ষাপটে সুইং, লেন্থ, ইয়র্কারই হয়ে দাঁড়ায় মূল অস্ত্র। এ দিয়েই তো ব্যাটসম্যানদের ঘায়েল করেছেন দুই ডব্লিউ ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস।

এখন তাতেও পরিবর্তন এসেছে। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আব্বাস। তার বলে নেই আহামরি গতি ও সুইং। মাত্র ৮০ মাইল বেগে বল করেন। একসময় মাশরাফি বিন মুর্তজাই গতি তুলতেন ৮৫ মাইলের ওপরে।

পাকিস্তানের এ উঠতি সেনসেশন ক্ষীপ্রগতির দৌড় দেন না, সীমানা থেকে দৌড়ে আসেন না, আর সবার মতো উচ্চতা বা আগ্রাসী ভাবও নেই। শুধু অ্যাকুরেসি বজায় রেখে বল করেন। অফস্টাম্পে বল রাখেন। ব্যাটসম্যানের সামান্য সামনে বল ফেলেন। তাতে থাকে হালকা মুভমেন্ট। এতেই কুপোকাত ব্যাটসম্যানরা। এমন টেকনিক-কৌশলের বোলারকেই ভাবা হচ্ছে আগামীর সুপারস্টার।

ইদানীং অনেক বোলারকে তেমন পন্থা অবলম্বন করে বল করতে দেখা যাচ্ছে। এর মানে হচ্ছে- ক্রিকেটে বিবর্তন ঘটছে। বিবর্তনবাদের শিকার হচ্ছে খেলাটি। ক্রিকইনফো/ যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ