প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে ২ কেন্দ্রের সৌরবিদ্যুৎ

শাহীন চৌধুরী: দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় নানামুখী প্রকল্পের মধ্যে এবার যুক্ত হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। দেশের ২টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২০ মেগািওয়াট ও ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী ওইদিন দেশের আরও ১০২ উপজেলায় শত ভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি এবং ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন।

দেশের সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র কক্সবাজারের টেকনাফে সম্প্রতি চালু হয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ মেগাওয়াট। ইতিমধ্যেই এখান থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে দেয়া শুরু হয়েছে। এদিকে বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র থেকে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ নেট মিটারিং এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দেয়া হচ্ছে। এই গবেষণা কেন্দ্রে গড়ে ১১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর বাকীটা গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

টেকনাফের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড ১১৬ একর জায়গার উপর এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। সেখান থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সোলারটেক এনার্জি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুহের লতিফ খান জানিয়েছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে টেকনাফের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশের জোগান দেয়া সম্ভব।

টেকনাফ উপজেলার আলীখালী এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পূর্ব পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অবস্থান। নাফ নদীর তীরে সারি করে বসানো হয়েছে ৮৭ হাজার সৌর প্যানেল। এ প্যানেলগুলোর মাঝখানে রয়েছে পাঁচটা উপকেন্দ্র। সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রথমে মূল স্টেশনে রাখা হয়। পরে ওই এলাকার লেদায় অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। এর আগে সর্বোচ্চ তিন মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল।

বাগেরহাটের চিংড়ি গবেষনা কেন্দ্রে ২০১৭ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে গবেষণা ও প্রশাসনিক ভবনের ছাদে এবং পুকুর এলাকায় ২৫ কিলোওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়। পরে স্রেডা ও জিআইজেড’র সহযোগিতায় এই বিদ্যুৎ গ্রিডে দিচ্ছে। বাগেরহাটে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এই বিদ্যুৎ নিচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৫৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে জলবিদ্যুৎ থেকে। আগামী বছর এই ক্ষমতা ৬০০ মেগাওয়াট হবে। এছাড়া পরের দুই বছর, অর্থাৎ ২০২০ ও ২০২১ সালে আরো এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ২০২১ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে দুই হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

২০০৮ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের দশ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছিল। ওই লক্ষ্যে পৌছার ক্ষেত্রে এখনো ৫ শতাংশ কম রয়েছে।
এ ব্যাপারে বিপিডিবি’র পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, বিপিডিবি’র পাইপলাইনে এ ধরনের আরও কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো উৎপাদনে আসবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ