প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গোছানো আ. লীগ, এলোমেলো বিএনপি

দীপক চৌধুরী : জীবনভর সাধ্যের সবটুকু আপনজকে দেওয়ার মধ্যে কেউ কেউ আনন্দ পান। চারপাশের সবার জন্য উজাড় করে দেয়ার মানুষ আমরা দেখেছি। আবার এর উল্টো চরিত্রও দেখেছি। স্বাধীনতার পর ভুরিভুরি রাজনৈতিক চরিত্রহীন দেখেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণকে উজাড় করে দিয়ে গেছেন। স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন দেশ। তাঁর আন্দোলন সংগ্রাম ছিল মানুষের জন্যই। শেষপর্যন্ত জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন এই বাংলায়। বঙ্গবন্ধু ক্ষমতা চাননি। চেয়েছেন জনগণের সুখ। অধিকার প্রতিষ্ঠা। এর ঠিক উল্টো চরিত্রের অধিকারী ছিল খুনি মোস্তাক। তার ছিল ক্ষমতার লোভ। তার দল ডেমোক্রেটিক লীগের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, যিনি এখন জেলে।

‘বড় ঐক্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রার’ সময় তিনি ছিলেন মুক্ত। সেদিন ছিল ২১ সেপ্টেম্বর। মহানগর নাট্যমঞ্চের ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক হিসেবে গিয়েছিলাম। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল ও বক্তব্য দিয়েছিলেন ঐক্যের অনুষ্ঠানে। কী যে হলো হায়। মাঝপথে ঐক্য থেকে ‘ছিটকে’ গেলেন বিকল্পধারার সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ‘রাজনীতির সাম্প্রদায়িক মানুষ’ বি চৌধুরীর ২০০১-এর ‘সাবাস বাংলাদেশে’র কথা ভুলতে পারবো না। একহাতে গীতা আর অপর হাতে কুরআন ধরে বক্তব্য দিতেন তিনি। এটি সে সময় বিটিভি ও একুশে টিভি প্রচার করতো। নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাক হওয়ার মতো অপপ্রচার। মানে নৌকার গীতা আর ধানের শীষের কুরআন। এখন স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেন তিনি। তার ভাষায়, ‘যারা স্বীধনতায় বিশ্বাস করবে না, তাদের সঙ্গে ঐক্য নয়। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির ঐক্য চাই।’

অথচ সেই সময় বি চৌধুরীর যে সরকারে ছিলেন সেই বিএনপি-জামায়াত সরকারেই ছিল মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী। যাদের ফাঁসি হয়েছে। এটা পরিস্কার দেখা যায়, ভোটের রাজনীতিতে একদিকে আওয়ামী লীগ আর অন্যদিকে বিএনপি। বাস্তবে মানুষের চোখে তাই দৃশ্যমান হয়। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম সাহেবরা বলে থাকেন, ‘৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন এ দেশে আর হবে না এবং হতে দেওয়া হবে না। এই ভয়ে সরকার বিএনপিকে কোণঠাসা করতে চায়। যাঁরা নির্বাচনে ভূমিকা রাখবেন, তাঁদের কারাগারে রাখতে চাচ্ছে।’ আসলে এসব কথা চর্বিত চর্বণ। কে চায়, ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন এ দেশে হোক? আর যদি এ সরকারকে বাধ্যই করা হয়, আরেকটি ‘পাঁচ জানুয়ারি’ করাতে তাহলে কী আওয়ামী লীগ মুখে আঙ্গুল দিয়ে চকলেটের মতো চুষবে? পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান আছে। সমাধান হয় আন্তরিকতায়। তর্ক করে হয় না, ঠান্ডা মাথায় সমস্যার সমাধান করতে হয়। তর্ক করে কেউ জয়ী হয় না, ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কিন্তু বিএনপি গায়ের শক্তি দিয়ে তর্ক করছে, দফা দিয়ে তর্ক করছে এখনো। বিএনপি এখন কোথায়ও নেই। এবার দলটিকে নির্বাচনে যেতেই হবে। জনগণকে ‘গিনিপিগ’ বানানোর রাজনীতি এদেশে অচল। বাস্তবে আমরা তো দেখি, গোছানো আওয়ামী লীগ। এলো মেলো বিএনপি। বঙ্গবন্ধুর দোয়া শেখ হাসিনার মধ্যে আছে। রাজনীতি ও অর্থনীতির সাফল্যের পুরোভাগেই তিনি। তিনি দলের নেতাদের নিয়ে প্রতিমাসে বৈঠক করছেন। বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বসছেন। হয়ে উঠছেন সাংবাদিকবান্ধব। রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ও প্রশাসনের বিষয়ে নিজের অভিমত তুলে ধরছেন।

রাজনীতির প্রসঙ্গে আসি। শুনেছি এবার নাকি ২১০ আসন আনতে চায় আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে তরুণ প্রার্থীই ৭০জন। জাপাকে দেবে ৪৫টি আসন। ১৪ দলকে আলোচনার মাধ্যমে আসন দিতে চায় দলটি। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার মাথায় সারাদেশের সাংগঠনিক চিত্র। নির্বাচন সামনে, দরোজায় কড়া নাড়ছে। সময় একদম নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট এখনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়নি। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ডিসেম্বরের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে!

বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সূত্রে কথা বলে মনে হয়েছে মারাত্মক সংকটে রয়েছে বিএনপি। কারণ, দলটির নেতারাও নাকি জানেন না, শরিকদের কত সিট দিতে হবে। ভাগাবাগির সিদ্ধান্ত আসবে লন্ডন থেকে। এর মানে কী? সর্বনাশা কথাবার্তা। শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনী এলাকা ও সাংসদদের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে করা একাধিক জরিপ প্রতিবেদনও রেখেছেন তাঁর কাছে। কিন্তু বিএনপি নামের দলটি এখনো সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি নেতাদের কী ভূমিকা এখন রাখা উচিৎ। ঐক্যের পরামর্শে আসন ভাগাভাগির দুরুহ কাজ বিএনপির তরুণপ্রার্থীরাই মেনে নেবে না। দলটির পরিকল্পনা বুমেরাং হবে। নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পরিকল্পনা সুফল বয়ে আনবে না। বিএনপির কঠিন বেলায় এগিয়ে যাওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করবে জাতীয় ঐক্য।

লেখক : উপ-সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ