প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপকে ঘিরে হঠাৎ রাজনীতিতে সুবাতাস

হুমায়ুন কবির খোকন : সংলাপকে ঘিরে হঠাৎ রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে। সবার দৃষ্টি এখন গণভবনের দিকে। কাল যেখানে বৃহস্পতিবার দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দুই দল ও জোটের মধ্যে সংলাপে কী ফল বেরিয়ে আসে। সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেন।

বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডিসহ বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কাঙ্খিত সংলাপ হবে গণভবনে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় আওয়ামী লীগের । সংলাপকে ইতিবাচকভাবে দেখছে রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছে। দলগুলোর নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে এমন সংলাপ প্রয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ড. কামাল হোসেনের বাসায় গিয়ে তার হাতে আমন্ত্রণের চিঠি পৌঁছে দেন। চিঠি হস্তান্তরের পর গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র ড. কামাল হোসেনের কাছে দিয়েছি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উনাদেরকে আমন্ত্রণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্যাডে শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে কামাল হোসেনকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে,‘‘জনাব, সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আপনার ২৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের পত্রের জন্য ধন্যবাদ। অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য আমার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত। তাই আলোচনার জন্য আপনি যে সময় চেয়েছেন, সে পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ০১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় আপনাকে আমি গণভবনে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি’’। চিঠিতে ঠিকানা ছিল, জাতীয় ঐক্যফেরাম, গণফোরামের আরামবাগ কার্যালয়। পরে ড. কামাল হোসেন বলেন, সংলাপের জন্য আগামী ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সাড়ার মাধ্যমে আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হলো। গণতান্ত্রিক আলোচনা প্রক্রিয়াকে ধরে আমি বারবার উদ্যোগ নিয়েছি। আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা একটি বাস্তব অবস্থায় পৌঁছাব। আমি আশা করি, এই আলোচনার উদ্যোগ ইতিবাচক হয়েছে এবং হবে। তিনি বলেন, সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠি পেয়েছি। আগামী ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে যাবে। আমি আশাবাদী একটি ইতিবাচক আলোচনা হবে।

লোকমুখে গুঞ্জন আছে আপনি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, এ খবর ভিত্তিহীন। এসময় হাত জোড় করে তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। ঐক্যফ্রন্ট এর অন্যতম নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি এই উদ্যোগে ভীষণ খুশি। আশা করি প্রধানমন্ত্রী বসলে অধিকাংশ ইস্যুুতেই আমরা একমত হতে পারব।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও এক্যফ্রন্ট নেতা মোস্তফা মাহাসিন মন্টু বলেন, আমরা যে সংলাপ চেয়েছিলাম, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সাড়া দেওয়ার সরকারকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, গণভবনে আলোচনার মাধ্যম দেশে চলমান রাজনৈতিক সমস্যার একটি সমাধান পাওয়া যাবে।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত আসার কোনো সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে রাজনীতিতে জামায়াত ঢোকার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমরা শুধু ৭ দফা নয়, অন্যান্য বিষয় ও বর্তমান যে বিষয়গুলো আছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে দেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাব। এর জন্য উনি যদি কোনো সাহায্য সহযোগিতা আমাদের কাছে চান, অবশ্যই ড. কামাল হোসেন সাহেব বিস্তারিত কথা বলতে পারবেন। যেহেতু উনি সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম, উনি এ ব্যাপারে ব্যাখ্যাটা দিতে পারবেন। এ বিষয়টি আমরা উনার উপরে ছেড়ে দিচ্ছি, উনি সংলাপের নেতৃত্ব দেবেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চিঠি দেন ড. কামাল হোসেন।এরই প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার সাত সকালে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে যায়। সম্পাদনা: ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ