প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদকের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষের ‘জিরো টলারেন্স’

সুজন কৈরী: কারাগারে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে কারা অধিদপ্তর। দেশের সকল কারাগারের যে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী ও বন্দীর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি, সেবন বা পরিবহনের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগে থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অবলম্বন করছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা মাদক ও টাকাসহ গ্রেফতার হওয়ার পর আবারো কারা অধিদপ্তর সকল কারাগারের জেল সুপার ও জেলারদের বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ নজরদারীর নির্দেশ দিয়েছে।

কারাসূত্র জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ কঠোরভাবে রোধ করতে কারাগারে স্থাপিত বডি স্ক্যানার বা আর্চওয়ে গেইট দিয়ে বন্দীদেরকে তল্লাশী করতে বলা হয়েছে। এছাড়া হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সকলের ব্যাগ পরীক্ষা করা ছাড়াও সন্দেহজনক সকল বন্দীকে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রয়োজনে একাধিকবার পরীক্ষারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগারে শিফট পরিবর্তনের সময় সকল কর্মচারীর বডি পরীক্ষা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কারাগারের মাদক প্রবেশের সাথে যুক্ত রয়েছেন এমন কারারক্ষী থেকে শুরু করে হাবিলদার, সুবেদার সার্জেন্ট, ডেপুটি জেলার, জেলার এমনকি জেল সুপারসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণদেরকে বিশেষ নজরদারী করছে কারা অধিদপ্তর। এজন্য কারা গোয়েন্দাসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য যাচাইপূর্বক তাদের নিয়মিত কর্মকান্ডের উপর বিশেষ নজরদারী করা হচ্ছে। গত কয়েকমাস ধরে মাদকের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চললেও বর্তমানে তা বর্তমানে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, কারাগারের ভেতরে কোনোক্রমেই যেন মাদক প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য আমরা কারাগারের দায়িত্বরতদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা প্রথম থেকেই জিরো টলারেন্স রয়েছি। যা আমাদের নিয়মিত কাজেরই অংশ। কারাগারের যে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী ও বন্দীসহ কারা সংশ্লিষ্ট যে কোনো ব্যক্তি মাদক বিক্রি, সেবন বা পরিবহন করলে সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে কারাবিধি অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করছি। সেইসঙ্গে মাদকের সঙ্গে জড়িত হয়ে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ফৈাজদারী অপরাধে অভিযুক্তদেরও ছাড় দেয়া হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি প্রচলিত আইনেও নিয়মিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৮ কারাগারে ৫০ হাজারের অধিক বন্দী মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা চাইবেন কারাগারে বসেই মাদক সেবন করতে। আদালত থেকে আসা নতুন ও পুরাতন বন্দীরা এমনকি তাদের আত্নীয়রাও বিভিন্ন সময়ে নানা উপায়ে বন্দীকে দিয়ে কারাভ্যন্তরে মাদক প্রবেশের চেষ্টা করেন। এছাড়া কারাভ্যন্তরে কিছু সংখ্যক দুষ্টু কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্দীদের সঙ্গে যোগসাজোশ করে মাদক প্রবেশের কাজ করেন। আমরা তাদের হাতেনাতে ধরার পর তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। এছাড়া কারাগারের ভেতর মাদক প্রবেশের চেষ্টার দায়ে বন্দীর স্বজনসহ অনেককে আমরা পুলিশে সোপর্দ করেছি। এছাড়া মাদকের সাথে যে কোনো শ্রেণীর কারা কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত আছে কি না তা দেখতে কঠোর নজরদারী করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ