প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছয় বছরেও টাইমস্কেল পাননি সরকারি মাধ্যমিকের তিন হাজার শিক্ষক

বাংলা ট্রিবিউন : সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে ৬ বছর আগে। কিন্তু এতদিনেও তাদের বাড়তি আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রায় তিন হাজার শিক্ষক এখনও তাদের প্রাপ্য টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের অর্থ পাননি। বিষয়টি নিয়ে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে অনেক ঘুরেছেন। অবশেষে দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছেন তারা।

২০১২ সালে ১৫ মে এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেয় সরকার। মর্যাদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবনমানও উন্নত হওয়ার কথা। বাড়ার কথা বেতনও। কিন্তু বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার পাশাপাশি টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডও থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষকরা।

নতুন বেতন স্কেল হওয়ার আগে সরকারি মাধ্যমিকের নন-গেজেটেড শিক্ষকদের চাকরির বয়স ৮ বছর পূর্ণ হলে তারা প্রথম টাইমস্কেল পেতেন। এছাড়া বয়স ১২ বছর হওয়ার পর দ্বিতীয় টাইম স্কেল ও ১৫ বছর হলে তৃতীয় টাইম স্কেল পেতেন। এর ফলে শিক্ষকরা ধাপে ধাপে নবম, অষ্টম ও সপ্তম গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পেতেন। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেট ঘোষণা হলেও তাদের এখনও সিলেকশন ও টাইমস্কেলের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়নি।

শিক্ষকরা জানান, ১০ম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে ৮ বছর চাকরি করেছেন এমন এক হাজার ৩৩৫ জন সহকারী শিক্ষকের প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার কথা। এসব শিক্ষকরা ২০০৫ ও ২০০৬ ব্যাচের। এছাড়া ২০০১ ও ২০০২ ব্যাচের এক হাজার ৩১৩ জন শিক্ষক চাকরির ১২ বছর পূর্ণ করেছেন। হিসাব মতে, তাদের এখন সপ্তম গ্রেডে দ্বিতীয় টাইম স্কেল পাওয়ার কথা। এই শিক্ষকরা অনেক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দফতরে ঘোরাঘুরি করলেও কোনও ফল পাননি।

২০১৫ সালের জুলাই মাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মাউশি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ে দাখিলের জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাউশি সচিবকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ২০১৫ সালের বেতন স্কেল কার্যকর করার আগে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বিষয়ে ২০০৯ সালের বেতন স্কেল অনুসরণ করতে হবে। গত বছরের জুলাইয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও টাইমস্কেল সংক্রান্ত একটি সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাইমস্কেল পাওয়ার যোগ্য শিক্ষকদের একটি তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তবে এক বছরেও শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাননি।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, ২০০৫ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া কোনও শিক্ষকই সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পাননি। দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড হিসেবে যেসব শিক্ষকের চাকরির বয়স ৪ বছর হয়েছে তাদের সিলেকশন গ্রেড, যাদের ৮ বছর হয়েছে তাদের প্রথম টাইম স্কেল এবং যাদের ১২ বছর হয়েছে তাদের দ্বিতীয় টাইম স্কেল দেওয়ার কথা।

গত ২১ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বঞ্চিত শিক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা দ্রুত দেওয়ার দাবি জানান। তা না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন শিক্ষকরা।

বকেয়া টাইমস্কেল-সিলেকশন গ্রেড বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বেলাল বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা পেলেও ন্যায্য আর্থিক পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে দৌড়াদৌড়ি করেও লাভ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, আমাদের বকেয়া টাইমস্কেল-সিলেকশন গ্রেড জটিলতা দ্রুত নিরসন করুন।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) আবদুল মান্নান এ বিষয়ে বলেন, ‘দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকরা সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি দফায় দফায় চেষ্টা করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েও বিষয়টির সমাধান করা যায়নি। আমরাও চাই দ্রুত এই শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দিয়ে দেওয়া হোক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ