প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুই পক্ষকে ছাড় দেওয়ার আহ্বান বিশ্লেষকদের

দৈনিক আমাদের সময় : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগামীকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠেয় সংলাপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, একটি মাত্র সংলাপে বিদ্যামান সংকটের উত্তরণ ঘটবে না। তবে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হতে পারে। তাদের মতে, দুপক্ষই ছাড় দিলে সংলাপ ফলপ্রসূ হবে।

 

ট্রান্সফারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রধান নির্বাহী ইফতেখারুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, এটি দেশবাসীর জন্য একটি সুসংবাদ। একটি সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বা অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা আশা করা ঠিক নয়। আমরা আশা করব, সংলাপ যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে হয়। ১ নভেম্বরের সংলাপ সফল হলে তা হবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে আরও সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, সংলাপের এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে আরেকটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত হলো রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। কারণ দুদিন আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিলÑ সংলাপের কোনো সুযোগ নেই। যে প্রেক্ষাপটেই হোক, যেহেতু সংলাপের সূত্রপাত হলো; এটি অব্যাহত থাকলে ভালো ফল আসবে।

 

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজমান অবস্থার উত্তরণে সংলাপের যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের আশাবাদী করে। মনে রাখতে হবেÑ এ সংলাপে কারও কোনো হারজিত নেই। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করাই মুখ্য। দুপক্ষই যদি ছাড়ের মানসিকতা নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সংলাপে বসে, তা হলে এ উদ্যোগের সুফল দেশের জনগণ পাবে। সংলাপে বসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আশা করছিÑ এ সংলাপের মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশের দ্বার উন্মোচিত হবে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আমেনা মোহসিন আমাদের সময়কে বলেন, প্রথমেই আমি স্বাগত জানাই সংলাপে বসার বিষয়টিকে। এখানে দুপক্ষকেই ছাড় দিয়ে, খোলা মন নিয়ে বসতে হবে। যদি তা হয়, তবে এটি সবার জন্যই কল্যাণকর হবে। আমরা নতুন আশার আলো দেখতে পাব।

 

সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে গত রবিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির উদ্দেশে চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর পর দিনই ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। পরে রাতে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ফোন করে এ বিষয়ে কথাও বলেন।

 

সেই আলোকে মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চিঠি নিয়ে যান আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ