প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
অদ্ভুত সারল্য বাংলাদেশের মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য

তরিকুল ইসলাম : বিদায়বেলা সবার জন্যই আবেগঘন, ব্যতিক্রম নন মার্শা বার্নিকাট। তিন বছর বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে অনেকটাই আবেগপ্রবণ ছিলেন তিনি। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে তার বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যখন এসেছিলাম তখন দেশটি সম্পর্কে জানা থাকলেও দেখার দৃষ্টিতে এটা ছিল অচেনা দেশ। কিন্তু এখন সেই দেশ ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। সমৃদ্ধির পথে এগোতে থাকা দারুণ সম্ভাবনার বাংলাদেশ দেখছি। অদ্ভুত সারল্য বাংলাদেশের মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য। তাদের ভালোবাসা, মমতা সবকিছুই অকৃত্রিম। এই মানুষগুলোর কথা চিরদিন মনে থাকবে, আবার দেখা হবে। কারণ এদেশের মানুষ গত তিন বছরে এতোটা ভালোবাসা দিয়েছে, আপন করে নিয়েছে, তার তুলনা নেই।’’

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বার্নিকাট। এ সময়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিষয়ে প্রতিটি দেশেরই জটিলতা থাকে, বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এ কথা উল্লেখ করে বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিদেশি সহায়তা ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে সংলাপ সবচেয়ে ভালো। তবে সংলাপ শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নয়, সব পর্যায়েই সব সময়ই চলমান থাকা উচিত। আর এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রক্রিয়াকে অবশ্যই বাধাহীন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো দল বা জোট নয়, সব সময়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে বাংলাদেশে আগামীতে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, আইনটি নিয়ে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে মতোবিনিময় হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও সরকারের মতবিনিময় হয়। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে চূড়ান্ত আইনে তাদের দেওয়া মতামতের প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। এখন যে আইনটি পাস হয়েছে সেটি মত প্রকাশের জন্য বিপজ্জনক। এর ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশের অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ আইনের অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে কী ঘটেছে তা এখন বিশ্ববাসী জানে। রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র এ সংকট নিরসনে আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে ঢাকায় তার উপর হামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটি একটি ভিন্ন ধরনের আক্রমণ। এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে পূর্ণ তদন্ত চাইবো। যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য অপেক্ষা করবে।

২০১৫ সালের শুরুতে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র মিশনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন মার্শা বার্নিকাট। তিন বছরের দায়িত্ব পালন শেষে আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছেন তিনি। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত