প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক বছরে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ

রমজান আলী : দেশে বিদেশি বিনিযোগের গতি বাড়ছে। গত বছর কমলেও এবার বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই (জানুয়ারি থেকে জুন) বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে নতুন বিদেশি বিনিয়োগও (ইক্যুইটি) বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালে দেশে মোট নিট এফডিআই আসে ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার; যা ২০১৬ সালের তুলনায় ১৮ কোটি ১১ লাখ ডলার বা ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৪১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা)। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ এসেছিল ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি বিনিয়োগ বেশি এসেছে ৪২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার বা ৪৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত বছরের শেষ ছয় (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) মাসের চেয়েও এ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে; বৃদ্ধির হার প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ। গত বছরের শেষ ছয় মাসে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসে ১১৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে যে পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে তার মধ্যে নতুন বিনিয়োগ বা ইক্যুইটি মূলধন রয়েছে ৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে এর পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে বহুজাতিক কোম্পানির পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে এসেছে ৬১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। ২০১৭ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার। এছাড়া প্রথম ছয় মাসে আন্তঃকোম্পানি ঋণ হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৪৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০১৭ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার।

সার্ভে প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে যেসব দেশ থেকে বেশি বিনিয়োগ আসছে তার মধ্যে রয়েছেÑ চীন, যুক্তরাজ্য, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিশাস, মালেশিয়া, ইন্ডিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, শ্রীলংকা, বার্মুডা, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফ্রান্স ও সৌদি আরব অন্যতম। অন্যদিকে চলতি বছরে যেসব খাতে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে তার মধ্যে রয়েছেÑ বিদ্যুৎ, টেক্সটাইল অ্যান্ড ওয়েরিং, ব্যাংক, খাদ্য, বাণিজ্য, নির্মাণ, গ্যাস ও জ্বালানি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, টেলিকমিউনিকেশন, রাসায়নিক ও ওষুধ, বিমা, কম্পিউটার সফটওয়্যার ও আইটি, সার, সিমেন্ট এবং গাড়ি ও পরিবহন সামগ্রী অন্যতম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২১ সালে মধ্যম ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। এর মধ্যে শুধু বিদেশি বিনিয়োগই দরকার হবে বছরে ১ হাজার কোটি ডলার। জানা গেছে, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার থেকে নানা প্রণোদনা ও বিভিন্ন উৎসাহমূলক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ১৭টি খাতে কর অবকাশ সুবিধা পাচ্ছেন বিদেশিরা। বিদেশিদের মুনাফা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও বিধি-বিধান শিথিল করা আছে। মুনাফাসহ শতভাগ মূলধন ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় যন্ত্রপাতির অবচয় সুবিধা, শুল্কমুক্ত যন্ত্রাংশ আমদানি এবং রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে কম সুদে ঋণ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশিরা। এছাড়া বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হচ্ছে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপন এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) প্রতিষ্ঠার অনুমতি দান। এসব সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যই হলো বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো।

-সম্পাদনা শাহীন চৌধুরী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত