প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাইবার হামলার ঝুঁকিতে আগামী প্রজন্মের মার্কিন অস্ত্রসম্ভার

নূর মাজিদ : তথ্য প্রযুক্তির অব্যাহত বিকাশের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব চাহিদা ও গবেষণার ফলাফল। পেন্টাগনের তৈরি বিশ্বের প্রথম কার্যকরি নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা আর্পানেট এর বিকাশের পরবর্তী পর্যায়কেই আজকে আমরা ইন্টারনেট বলে অভিহিত করে থাকি। তবে সময়ের সাথে সাথে এই ইন্টারনেটের উন্নয়নে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রও স¤পৃক্ত হয়েছে। বিশ্বের সামরিক বাহিনিগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রাপ্তির জন্য নিজস্ব নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। এমনকি আধুনিক অস্ত্রসম্ভারকেও এই নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা ব্যবহারের উন্নত সরঞ্জামে সজ্জিত করা হয়। আধুনিক যুগের মনুষ্যবিহীন ড্রোণ, পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন বা মহাকাশে ভেসে বেড়ানো গোয়েন্দা উপগ্রহ এরা সকলেই এই ব্যবস্থার একেকটি স্বয়ংক্রিয় অংশ। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রজন্মের অস্ত্রভান্ডার স¤পূর্ণভাবে এই নেটওয়ার্কের কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল। আগামী প্রজন্মের এই অস্ত্র সম্ভাবের গবেষণা ও উৎপাদনের শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করছে পেন্টাগন। তাই এসকল অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়েও তাদের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এক পেন্টাগন প্রতিবেদন জানিয়েছে, আগামী প্রজন্মের জন্য নির্মিত মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের সিংহভাগ প্রতিযোগী ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই প্রতিবেদনে পেন্টাগনের শীর্ষ বিশেষজ্ঞগণ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিগত পাঁচ বছরে যেসকল নতুন প্রজন্মের অস্ত্র মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে প্রবেশ করেছে তারা সকলেই আধুনিক প্রতিযোগী চীন ও রাশিয়ার সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সকল হামলার মাধ্যমে দেশদুটি মার্কিন অস্ত্রগুলোর উৎপাদনে ব্যবহৃত গবেষণা রহস্য উৎপাদনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অস্ত্র হ্যাক করতেও সক্ষম হবে বলে তারা জানিয়েছেন। মূলত নতুন প্রজন্মের অস্ত্রের ওপর পেন্টাগনের নিজস্ব মুল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রিত সাইবার হামলার প্রেক্ষিতেই এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। নিয়ন্ত্রিত সাইবার হামলায় পেন্টাগন বিস্মিত হয়ে আবিষ্কার করেছে তাদের তৈরি আগামী প্রজন্মের অস্ত্রের সোর্স কোড হ্যাক করতে সক্ষম বেসামরিক হ্যাকারগণ। এই কাজে পেন্টাগন যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক¤িপউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হ্যাকারদের নিয়োগ দিয়েছিলো তাদের ৯০ শতাংশই অতি স্বল্প সময়ের মাঝে মার্কিন অস্ত্রের সোর্স কোড আনলক করার পাসওয়ার্ড সক্ষম হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আতঙ্কিত পেন্টাগন, কারণ চীন ও রাশিয়া তাদের সামরিক বাহিনীতে বিশেষভাবে সামরিক অস্ত্রবিষয়ে প্রশিক্ষিত হ্যাকারদের নিয়োগ দেয়। এই ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে চীন। ধারণা করা হয়, দেশটির সামরিক বাহিনীর সাইবার ইউনিটে এক লক্ষ অতি দক্ষ হ্যাকার রয়েছেন। রাশিয়া ও চীনের মতো দেশ তাই আগামী প্রজন্মের অস্ত্রগুলোকে যে কোন সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেই ব্যবহার করার লক্ষ্যে হ্যাক করতে পারে বলে আশংকা করছে পেন্টাগন। এই সমস্যা সমাধানে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি বিশেষ দল কাজ করছে বলেও তারা জানিয়েছে। দ্য ইন্টারসেপ্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ