প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পেশীশক্তির চেয়ে সুশাসন অনেক শক্তিশালী

সালেহ্ রনক : অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে যখন একটি দেশের জন্ম হয় তখন সেই রাষ্ট্র হবে মানবিক রাষ্ট্র, নাগরিক বান্ধব রাষ্ট্র, নিরাপদ রাষ্ট্র, সর্বোপরি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এটাই স্বাভাবিক। ত্যাগের ইতিহাস যে রাষ্ট্রের ভিত্তিমূল, সেই রাষ্ট্রের সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো কল্যাণকামী একটি রাষ্ট্রের জন্য কাজ করে যাবেন এটাও স্বাভাবিক চাওয়া। আর কিছুদিন পর দেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি, এই মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে খুব জানতে ইচ্ছে করছে, আমরা কি সত্যিকারের স্বাধীনতার সুফল ঘরে তুলতে পেরেছি, স্বাধীনতা কিভাবে উপভোগ করতে হয় তা শিখেছি?

স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৫০ বছরের মধ্যে অন্য সকল দেশ যেখানে নাগরিক অধিকার ও সুযোগ  সুবিধা নিশ্চিত করে কল্যাণকামী ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সেখানে বাংলাদেশের অর্জন খুবই নগণ্য। উন্নয়নের নানাবিধ সূচকে দেশ এগিয়ে গেলেও, দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন হলেও যখন নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত টহল পুলিশ কোনো নারীকে গভীর রাতে বাইরে বের হওয়ার জন্য হেনস্তা করে এবং তার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে তখন সকল দৃশ্যমান উন্নয়নও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তবে কি সকল নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও  সুযোগ সুবিধাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে হয়?

নাগরিক তার অধিকার প্রাপ্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করবেই এতে দোষের কিছু নেই বরং আমাদের রয়েছে সংগ্রাম, আন্দোলনের গৌরবান্বিত ইতিহাস। অথচ আজকাল আমরা আন্দোলনের নামে এসব কি দেখছি? পরিবহন শ্রমিকরা তাদের অন্যায় দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য আন্দোলনের যে জঘন্য পথ বেছে নিয়েছে তা শুধু ঘৃণিতই নয়, দেশকে করেছে কালিমালিপ্ত। শ্রমিকদের ঘামে সচল থাকে একটি রাষ্ট্র, তাই তাদের মতো করে তাদের দাবি-দাওয়া থাকাটাও অন্যায় কিছু নয়। তাদের দাবি ন্যায় না অন্যায় তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

কিন্তু দাবি আদায়ের জন্য যখন তারা স্কুলগামী ছাত্র- ছাত্রী, অফিসগামী, পথচারী, চালকদের মুখ পোড়া মবিল মেখে দেয় তখন কি প্রকৃতপক্ষে দেশের মুখেই কালি লেপন করে দেয়া হচ্ছে না? শিক্ষিত আর নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর আন্দোলনে গুণগত পার্থক্য থাকবে সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতা যখন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী তখন প্রশ্ন জাগে, নেতা তার কর্মীদের কি এই শিক্ষাই দিয়েছেন?

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে অ্যাম্বুলেন্সে প্রসূতি ব্যাথায় কাতরাচ্ছে আর চালকের মুখে পোড়া মবিল মেখে দিল পরিবহন শ্রমিকরা। মুখে পোড়া মবিল মেখে দিয়ে কান ধরে উঠবস করানোও হয়েছে। নৃশংসতার সকল সীমা অতিক্রম করে এরা অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সাত দিন বয়সী শিশুকে আটকে রেখেছে এবং মারা যাচ্ছে জেনেও এদের মন একটুও টলেনি। কি কি বিষয় অবরোধের বাইরে, তারা তাও বিবেচনার প্রয়োজন বোধ করেনি। এতো নিষ্ঠুর এরা কিভাবে হলো? মৃত শিশুর মুখখানি বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হয়ে আজ। আর এই হত্যার দায়ভারই বা কার? পরিবহন শ্রমিকদের অন্যায় দাবি-দাওয়ার নামে চলমান ধর্মঘট নিয়ে কারো কোনো কথা নেই। শ্রমিক নেতা তথা নৌ-পরিবহন মন্ত্রী আরও এক কাঠি সরেস।

তিনি নাকি জানেনই না পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কথা। যখন শ্রমিক সংগঠনের কোনো নেতা মানুষ মারার লাইসেন্সের জন্য, অন্যায় ৮ দফা দাবি আদায়ের জন্য সরকারকে ৯৬ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় তখন বুঝতে বাকি থাকে না এরা এতবড় স্পর্ধা কিভাবে দেখায়? এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আলাপ আলোচনা হওয়ার পর সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়েছে, যাতে যুক্ত ছিলেন পরিবহন শ্রমিক, মালিক ও সরকারি দলের নেতারা। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই নৈরাজ্য? এতদিন তারা কেন আপত্তি তোলেননি?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্ত ও নির্বাচনকালীন সময় সকল সরকার ও দলের জন্য ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ।এই সময়ে প্রধান মাঝি হয়ে শক্ত হাতে নৌকার হাল ধরতে না পারলে তীরে পৌঁছানোয় আশংকা তৈরি হতে পারে। আপনার কাছে নিশ্চয়ই খানসাহেবদের চেয়ে ক্লিন ইমেজের নেতারা অগ্রাধিকার পাবে। আমরা সবাই কমবেশি জানি যে, আর্বজনা তা যত সুন্দর আর দামিই হোক না কেন তা শুধু দুর্গন্ধই ছড়ায়। আগামীর রাজনৈতিকদল আওয়ামী লীগ, আগামীর সরকার, সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করবে সত্যিকারের সৎ, মেধাবী ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা মন্ত্রীদের সমন্বয়ে এই আশা করছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ