প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাপে নয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে এই সংলাপ : কাদের

আনিসুর রহমান তপন : দেশে কোনো প্রতিবাদের ঝড় নেই, আন্দোলন মুখর অবস্থাও নেই যে সরকার কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করে সংলাপে বসেছে। বিষয়টি এমন নয়। এই সংলাপ গণতন্ত্রের স্বার্থে, গণতন্ত্রের অব্যাহত গতিকে ধরে রাখতে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টা হচ্ছে ড. কামাল হোসেন সাহেব ঐকফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমাদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন। জবাবে শেখ হাসিনাও বলেছেন, আমার দরজা কারো জন্য বন্ধ নয়। কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তার জন্য দরজা খোলা আছে। দেখা করতে চেয়ে যেহেতু চিঠি দিয়েছেন, ফলে আমি দেখা করবো। বিষয়টি এমন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটা আসলে কারও চাপের কাছে নয়। কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যে আলোচনা সেটা সরকারের সঙ্গে নয়, এ আলোচনা আওয়ামী লীগের সঙ্গে। এটা পরিস্কার করে বুঝতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংলাপ নিয়ে আমরা যা বলেছি, সেটা আমাদের সরকার এবং দলের পলিসি ম্যাটার। তারা হয়তো তাদের বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। তাদের ৭ দফা দাবি এবং ১১ লক্ষ্য নিয়ে তারা আলোচনা করতে চান। তাতে মোস্ট ওয়েলকাম।। আমাদের দলের নেত্রী যখন চেয়েছেন, তখন আলাপ-আলোচনা খোলামেলা পরিবেশেই হবে। আর আলোচনার টেবিলেই সিদ্ধান্ত হবে।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আলোচনায় আলোচ্য বিষয় কী হবে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয় ও লেভেল প্লেইং-ফিল্ড এবং সভা-সমাবেশে সমান অধিকার নিয়ে তারা আলোচনা করতে চান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সভা-সমাবেশ তো তারা করছেনই। কিন্তু যখন শিডিউল ঘোষণা হবে তখন সভা-সমাবেশের সমান অধিকারের বিষয়টি চলে যাবে একেবারেই নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে। দে উইল ডিসাইড ইট।

তাদের আলোচ্য বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয় আছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, এর মধ্যে কিছু আছে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, দুই একটি বিষয় আছে যা আইন-আদালতের বিষয়, আবার দুই একটি বিষয় আছে যা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।

ঐক্যফ্রন্টের কিছু দাবি সংবিধান সম্মত নয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারা তাদের দাবিতে অটল থাকবে, না সরে আসবে। অপেক্ষা করেন দেখেন না কী হয়! তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের এমন অনেক দাবি আছে যাতে আমরা বলতে পারি না যে, মেনে নেওয়া হলো। তাদের দাবির সঙ্গে আমরা একমত হতে পারি, বাট ডিসাইড করবে নির্বাচন কমিশন। আলোচনায় বিদেশি পর্যবেক্ষকের বিষয়টি আছে, সেটা তো মেনে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সেটাও হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিষয়।

ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হবে কি না? জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের বাইরে এই মুহূর্তে অন্য কোনো দলের সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নেই। আশা করছি, ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে ড. কামাল জামায়াতের কোনো নেতাকে নিয়ে আসবেন না।

সংলাপে ঐক্যফ্রন্ট এবং আওয়ামী লীগের কতজন প্রতিনিধি থাকবেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছি। এসময় তিনি প্রাথমিকভাবে তাদের প্রতিনিধি দলে ১৫ জন থাকতে পারেন জানালে আমি বলেছি ১৫ জন কেন ২০/২৫ জনও আসতে পারেন। তবে তাদের প্রতিনিধির তালিকা আজ (মঙ্গলবার) আওয়ামী লীগের অফিসে জানিয়ে দিবেন বলে মন্টু আমাকে জানিয়েছেন। বিপরীতে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে কতজন থাকবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে তাদের তালিকা দেখি, এরপর আমাদের কে কে থাকবেন সেটা ঠিক করে নেব।

সংলাপ নিয়ে আগের বক্তব্য থেকে সরে আসছেন কি না, জবাবে কাদের বলেন, আমাদের দলের নেতারা আমরা সবাই একই ভয়েসে কথা বলি। আমাদের পলিসি সরকার ও দলের যা ছিল তাই বলেছি। আমরা কিন্তু শিফট করিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ