প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিষ্ঠুর ধর্মঘট এবং কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট

মাসুদ কামাল : পরিবহন ধর্মঘটে দেশ যখন বিপর্যস্ত তখন ঘুরেফিরেই সামনে চলে আসছেন মন্ত্রী শাজাহান খানের নাম। এমন সংকটে ত্রাতা হিসেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী তো দূরের কথা, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও যেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছেন হাসির জন্য বিখ্যাত এই মন্ত্রী মহোদয়। তিনি কেবল সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রীই নন, একইসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতিও। এই সংগঠনই ডেকেছে দেশকে বিকলাঙ্গ করে দেওয়া ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট।

ধর্মঘট ডেকেছে তার সংগঠন, অথচ প্রথম দিন সাংবাদিকেরা যখন তাকে জিজ্ঞাসা করলো এ বিষয়ে, বললেন ধর্মঘটের বিষয়ে কোনো কিছু জানেন না তিনি! তাকে না জানিয়েই তার সংগঠন এমন একটা ধর্মঘট ডেকে বসলো? এ প্রশ্নের জবাবও তিনি দেবেন না। অথচ যে আইনটির বিরুদ্ধে এই ধর্মঘট, সেটি প্রণয়নের পিছনে এই মন্ত্রীর কি কোনোই ভূমিকা ছিলো না? আইনটি যখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলো, সেখানেও তো মন্ত্রী মহোদয়ের উপস্থিতি ছিলো।

পরে যখন সংসদে সেটি পাস হলো, সেখানেও সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন তিনি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাস হওয়া কোনো আইনের বিরোধিতা কী কোন মন্ত্রী করতে পারেন? যে আইন তিনি নিজে করেছেন, তার বিরোধিতায় কীভাবে তিনি তার সংগঠনের লোকদেরকে লেলিয়ে দেন? উনি আসলে কী মন্ত্রী নাকি পরিবহন শ্রমিক? ইংরেজিতে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বলে একটা কথা আছে। তার কোনোই কী প্রয়োগ থাকতে নেই এই দেশে? উনি আসলে কি আইন প্রণয়নকারী, নাকি আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলনকারী?

আবার, ধর্মঘট আহ্বানের পর সেটি বাস্তবায়নের নামে যে অরাজকতা হলো, তার দায় কে নেবে? পুলিশের সামনেই উচ্ছৃঙ্খল পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি ভাঙচুর করেছে, চালক, যাত্রীদের মুখে পোড়া মবিল মাখিয়ে দিয়েছে। কেউ কিছু বলেননি। একজন লোককেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশের এই নীরবতার পিছনেও কী ক্ষমতাধর কারও ভূমিকা ছিলো? এসব প্রশ্নের জবাব কে দেবে? কেউ কী নেই জবাব দেওয়ার? নাকি প্রশ্ন উচ্চারণই বড় কোনো অপরাধ?

লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ