প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, আওয়ামী লীগে দুশ্চিন্তা?

গোলাম মাওলা রনি : নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি দলীয় ২০-দলীয় জোট-যুক্তফ্রন্ট-গণফোরাম-জাসদ রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। আলোচনায়ও আছে এই ফ্রন্টটি। প্রশ্ন উঠেছে ঐক্যফ্রন্টের স্থায়িত্বকাল নিয়ে। ভবিষ্যৎ কী এই ঐক্যফ্রন্টের? আদৌ কী টিকবে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট, ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমানের মান্নার সমন্বয়ে গঠিত এই ফ্রন্ট? যে যাই বলুক, আমার ধারণা রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টিকে যাবে। কারণ টিকে থাকা ছাড়া তাদের কাছে এর কোনো বিকল্পও নেই। সরকার যদি তাদের বিষয়ে রিলাক্স থাকতো তাহলে রাজনীতিতে তারা টিকে থাকতে পারতো না। কারণ তারা তখন নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত থাকতো।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, সরকার ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। গ্রেপ্তারও করছে। প্রথম দিকে পরিস্থিতি এমনটি ছিলো না। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তার পক্ষে ড. কামাল হোসেন বিবৃতি দিতে চাননি। কিন্তু পরবর্তী সময় যখন তার বিরুদ্ধে আরও মামলা দেওয়া হলো তখন অনেক শক্ত বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। যখন পাল্টাপাল্টি হয়ে যায় তখন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকার যদি ঐক্যফ্রন্টকে সহযোগিতা করতো এবং ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের হয়রানি না করে ছেড়ে দিতো, একটা কৌশল গ্রহণ করতো তাহলে ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যেতো। কেননা ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্ত উপাদান ছিলো ফ্রন্টটির নেতাকর্মীদের। এখানে অনেক নেতা আছেন। তার মধ্যে সিনিয়র অনেক নেতাও আছেন। সরকার যখন হার্ডলাইনে গেছে তখন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে।

ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি-জামায়াত এবং আওয়ামী লীগবিরোধীরা রয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের ভোট রয়েছে ৩৮ বা ৪০ শতাংশ। যা আওয়ামী লীগের ভোটের কাছাকাছি। এই ভোটটা তো তাদের আছে। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগবিরোধী ভোটও রয়েছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী একটা ভোটও এখানে অপচয় হবে। ফলে ঐক্যফ্রন্টকে তাচ্ছিল্য করা যাবে না। বরং তাদের আমলে নিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত এবং সেই অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করা দরকার। তাদেরকে সরকার যতো সুন্দরভাবে হ্যান্ডেল করবে ততো ভালো হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা জামায়াতকে নিয়ে এতোটা ভাবে না। তারা ভাবে নিজেদের দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে নিয়ে। আওয়ামী লীগের মধ্যে কিছু মানুষ রয়েছেন যারা জামায়াতকে গালাগালি করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়। সাধারণ নেতাকর্মীরা কখনোই জামায়াতকে টার্গেট করে না, তাদের নিশানা বিএনপির দিকে। জামায়াতও আওয়ামী লীগকে টার্গেট করে না, তাদের লক্ষ্য থাকে ভোটার বৃদ্ধি করা। জামায়াত আসনভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকে বেশি।

লেখক : কলামিস্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ