প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশ্নটা হচ্ছে, এরপরে কী? ভোট গণনা? না ফল ঘোষণা?

যায়নুদ্দিন সানী : দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক কবে নাগাদ খোলাসা হবে, সেটা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। আজকে রায় হলো। প্রত্যাশিত রায়। আই মিন, কনভিক্টেড হবে, সেটা প্রত্যাশিত। আর সেই রায়ের পরে বিএনপি যে হুঙ্কার দেওয়া ছাড়া আর কিছু করতে পারবে না, সেটাও অজানা ছিলো না। আজকে সারাদিন অযথাই পুলিশে পুলিশে রাস্তা ঘিরে রাখা হলো। ঐক্যের মিটিংয়ে লোক সমাগম দেখে আওয়ামীরা ঘাবড়েছে? তেমনটা হলে বলবো, ওভার রিঅ্যাক্ট করেছে। বিএনপি টাইট দেওয়ার ফর্মুলা আওয়ামীরা শিখে গেছে। তারপরও কেন যেন আওয়ামীরা প্যানিক করছে। আই থিঙ্ক, ঐক্যের ভীড়কে ওরা বিএনপির রাজপথের স্ট্রেন্্থ ভাবছে। বাট ইট ইজ নট। গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, বিএনপি সেই লাইনে আর এগোবে না। দে হ্যাড এনাভ অফ দ্যাট।

বিএনপি সংবাদ শিরোনাম থেকে সরে অনেক আগেই গিয়েছিলো। ঐক্য কি করবে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছিলো। আশার চেয়ে নিরাশাই বেশি ছিলো। তারপরেও ঐক্য কেমন কেমন করে কেন যেন কয়েকটা ব্যাপার নিয়ে শিরোনাম হলো, স্পেশালি ক্যাচাল, মিটিং আর চরিত্রহীন নিয়ে।

ঐক্যে যে কিছু ক্যাচাল হবে, সেটা নিয়ে মনে হয় না কারও মনে কোনো সন্দেহ ছিলো। স্পেশালি মাহী বি. চৌধুরী দেড়শ আসন চাওয়ার পর থেকে বোঝাই যাচ্ছিলো বেলুন যেকোনো সময় ফাটবে। ঐক্যের ফেসবুক বাহিনীর নাখোশ নাখোশ ভাব সেদিন থেকেই শুরু হয়ে যায়। ফাইনাল অ্যাকশান হয় ঐক্যের প্রেস কনফারেন্স আর ফোনালাপ ফাঁসের মধ্যদিয়ে।

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে ঐক্য যতো না আলোচনায় আসলো এর জনসমাগম নিয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি শিরোনামে আসলো ‘চরিত্রহীন’ সাগা নিয়ে। কারণও ছিলো। মাইনুল সাহেব প্যাচে পড়া মানে ঐক্য প্যাচে পড়া। সুযোগটা আওয়ামীরা ছাড়বে কেন? ওদিকে কাহিনিও বেশ ভালোই ডালপালা ছড়ায়। অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যাডাম তসলিমা মাঠে নেমে পড়েন। ভাট্টির ব্যাপারে হাটে হাঁড়ি ভাঙার প্রজেক্ট নিয়ে। একের পর এক কলাম লিখে ভাট্টির জন্য কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেন। অবশেষে, তিনি যেমনটা করেন, গায়ের ঝাল মিটে যাওয়ার পরে উনার ফেভারেট টপিক, স্ক্যান্ডাল আর ধর্মে ফেরত যান। ‘সাবরিমালা’ ‘জর্জ’ এসব কাহিনি চলে আসাতে তিনি টপিক চেঞ্জ করতে বাধ্য হয়েছেন। ভাট্টি ক্যাম্পও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

তখন ঝামেলায় পড়েন বুদ্ধিজীবী গ্রুপটা। লাফাতে লাফাতে ভাট্টির জন্য বিবৃতি তো দিয়ে দিয়েছিলো, বাট যেটা ভাবেননি, সেটা হচ্ছে, এর পরিণাম কী হবে। ভাট্টি এপিসোডের পরে বুদ্ধিজীবী বাহিনী পড়লো মজার এক সমস্যায়। প্রায় প্রতিদিনই এখানে সেখানে কোনো না কোনো নারী অবমাননা হচ্ছে। কখনো পুলিশ, কখনো ‘সাসপেক্টেড সরকার সমর্থক’, কখনো শ্রমিক গ্রুপ। আর সেসবে বিবৃতি না দিলে ফেসবুক ফুঁসে উঠছে। ‘গণস্বাস্থ্যে হামলা এবং নারীদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া’র ঘটনা ফেসবুক তোলপাড় করলো। সবাই যতো না ঘটনা নিয়ে নিন্দা জানাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি টিপ্পনি কাটছে বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে। ‘এখন কেন মুখে কুলুপ?’। অবশেষে সেদিন দেখলাম নারী পক্ষের প্যাডে একটা প্রতিবাদ লিপির একটা স্ক্রিনশট। শর্ট অব অনুরোধে ঢেকি গেলা।

অবস্থা বেগতিক দেখে সম্প্রতি হাসান আজিজুল সাহেব বলেছেন, এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে বললেন এরা ‘পথরুদ্ধ মৃতুক’পে’ আছে। এটা পল্টি মারার লক্ষণ, না মুখ ফসকে বলা, বোঝা যাচ্ছে না। আই গেস, সম্মান ফিরিয়ে আনবার চেষ্টা। ‘টু লিটিল, টু লেট’। অবশ্য উনি ক্লিয়ার করেননি, সেই বুদ্ধিজীবীদের দলে তিনি নিজেও আছেন কি না। তাই বোঝা যাচ্ছে না, এটা আত্মসমালোচনা, না খেদোক্তি? ‘তোমরা সবাই খারাপ, আমি ভালো।’ না ‘আমরা সবাই খারাপ, ইনক্লুডিং মি’। যাই হোক, এই মুহূর্তের মিলিয়ন ডলার কোয়েশচেন হচ্ছে, ‘ঐক্য আদৌ কোনো খেল দেখাতে পারবে কিনা’? নির্বাচন কারচুপির যে ভয় বিরোধী দল করছে, সেটা আটকাতে পারবে কিনা? এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত আছে। আপনিও নিজের মতে অটল থাকতে পারেন। তবে বিভিন্ন ঘটনার অ্যানালাইসিস করে একটা সম্ভাবনা খোঁজার চেষ্টা করা যেতে পারে।

আওয়ামীরা তখনই মচকাবে, যদি ঐক্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে, কিছু ব্যাপার নিয়ে বোধহয় আওয়ামীরা একটু ওভার এস্টিমেট করছে। ঐক্যের বিভিন্ন মিটিংয়ে যে বেশ ভালোই লোক এসেছে’ এটা তার একটা। ঐক্য বিএনপির জন্য যে সুযোগ এনেছে, এটা বিএনপি দুহাতে আঁকড়ে ধরবেই। ওদের এখন ‘ডু অর ডাই’ সিচুয়েশান। বাট এরা আন্দোলনে নামবে কিনা? নট অ্যা সেটলড কেস।

দ্বিতীয় ওভার এস্টিমেশান হচ্ছে ড. কামাল হোসেন। উনাকে মাত্রাতিরিক্ত অ্যাটাক করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই উনার সম্পর্কে নতুন তথ্য বাজারে আসছে। কামাল হোসেনকে নিয়ে সমস্যায় আছে আওয়ামীরা। কীভাবে অ্যাটাক করবে ঠিক করে উঠতে পারছে না। ‘উনি অনেক আগে থেকেই রাজাকার’ বলতে গেলে সমস্যায় পড়ছে। নিজেরা একসময় এই রাজাকারকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী করেছিলো। ‘রিসেন্ট রাজাকার হয়েছেন’ বললে মনের ঝাল মিটছে না। কেমন গতানুগতিক শোনাচ্ছে। তাই দেখলাম কক্টেল ফর্মুলা চালু হয়েছে। ‘উনার আসল চেহারা চিনে গিয়েছিলেন দেখে বঙ্গবন্ধু সত্তরে উনাকে নমিনেশান দেননি’ মুক্তিযুদ্ধ আর বর্তমান পরিস্থিতি দুটোই কাভার হচ্ছে। আক্রমণের এসব নতুন পথ ওভাররিঅ্যাক্ট, নো ডাউট। বাট হোয়াট অ্যাবাউট বিএনপি? ওরাও কী ঐক্য নিয়ে ওভার এস্টিমেট করছে না? কিংবা কামাল হোসেন সাহেব হিমসেলফ? উনিই বা কি ভরসায় এই ক্যাম্পে এলেন? বিএনপির সাথে কি ডিল হয়েছে? বাজারে তো গুজব, প্রধানমন্ত্রী করা হবে। সেটা কি হবে?

আর যেসব ব্যাপার গতানুগতিক স্ট্যাইলে চলছে, তার মধ্যে বিএনপি এবং ঐক্যের সমালোচনায় আওয়ামী এবং আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের কোমড় বেঁধে নেমে পড়া। ওদের দোষ দিই না। এমনটা না করলে পেটে লাত্থি পড়বে! সো এটা নিয়ে তেমন আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু উনারা যেটা বুঝতে পারছেন না, ওদের কাজকর্ম দেখে সবাই একটাই সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছেন, আর তা হচ্ছে ‘উনারা প্যানিক করছেন’। আওয়ামীরা যখন ড. কামাল সম্পর্কে অতি মাত্রায় কটাক্ষ করে, তখন বরং বেশি করে সন্দেহ জাগে, ‘আওয়ামীস আর নার্ভাস’।

লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট, ঐক্য প্রক্রিয়া, একের পর এক রায়, সিনহা সাহেবের বই সব কিছুকে কি কো ইনসিডেন্স বলা যায়? হয়তো যায়, তবে একটা সমীকরণ হিসেবেও দেখা যায়। যেভাবেই ভাবি না কেন, এতক্ষণ পর্যন্ত যা ঘটেছে, লাইক ২১ আগস্টের রায় এবং সেটায় তারেক শাস্তি পাবে কিন্তু খালেদা জিয়া বেঁচে যাবেন কিংবা জিয়া অরফানেজে খালেদা জিয়া শাস্তি হবে, রায়গুলো ঠিক এই সময়ে হবে, এগুলোতে কোনো হিন্ট খোঁজা ঠিক হবে কিনা? পার্ট অফ দ্য প্ল্যান মনে করা যায় কিনা? বিএনপিকে নির্বাচনে আনবার চেষ্টা মনে করবো কিনা? আর তাই মূল নাটকের ক্লাইম্যাক্সের জন্য যারা অপেক্ষা করে আছেন, যারা এসব দৃশ্যে ক্লু খুঁজছেন, তারা ভাবতে বসে গেছেন, কি হতে যাচ্ছে। আর যেসব বাঙালি সব বোঝে, তারা এখন থেকেই জানে গল্পের পরের ধাপে কী হবে। তাদের দেওয়া তত্ত্ব অনুসারে বিএনপি নির্বাচনে আসবে এবং এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। প্রশ্নটা হচ্ছে, এরপরে কী? ভোট গণনা? না ফল ঘোষণা?

লেখক : কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ