প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকায় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা ২ নভেম্বর

প্রিয় সংবাদ : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্ট‌নে বিএন‌পির কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ের সাম‌নে জনসভা করার ঘোষণা দি‌য়ে‌ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

২৯ অ‌ক্টোবর, বেলা সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে নয়াপল্ট‌নে বিএন‌পির কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এই জনসভা করার ঘোষণা দেন দল‌টির সি‌নিয়র যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভী।

রুহুল ক‌বির রিজভী ব‌লেন, ‘আগামী ২ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় (ভিআইপি রোড) জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।’

রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। আর গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত সারবস্তু হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় কাটে বিরোধীদের প্রতি বিদ্বেষ প্রদর্শন করে, অবিরাম কুৎসিত অসংযমী বাক্য বিলাসে। সন্ত্রাসের পরিচর্যা ও বিস্তার আওয়ামী লীগের চরিত্র। মূলত আওয়ামী লীগের ইতিহাস একটা ‘ক্রাইম স্টোরি’ ছাড়া আর কিছুই নয়। শুধু বিরোধী দলই নয়, সরকারবিরোধী সমালোচনায় দল নিরপেক্ষ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিপাকে ফেলার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে (আওয়ামী লীগ)।’

‘দেশের জননন্দিত নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে বন্দী করে রাখা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি-এখন চলছে প্রতিবাদী বিশিষ্টজনদের ওপর স্টিম রোলার।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘সরকারের পক্ষে কোনো জনমত নেই বলেই ভোটারবিহীন সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বন্দুকের জোরে আদালতকে কব্জায় নিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

‘ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেফতারের পরও হয়রানি ও নির্যাতনের তীব্রতা হ্রাস পায়নি। এখন চলছে প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ওপর হানাদারি আক্রমণ। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের জানমালের ওপর চলছে সরকারি ক্যাডারদের বেপরোয়া আগ্রাসন। তার গড়া প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জনগণের, তারপরেও এই প্রতিষ্ঠানের জায়গা-জমি দখল করতে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে দলীয় মাস্তানদের।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ঢাকার আশুলিয়ায় মির্জানগরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট, কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন, ছাত্রী হোস্টেল ও গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসে হামলা একটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, এটি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদেই হয়েছে। গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনাকারীদের এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় একাধিকবার মামলা করতে যাওয়া হলেও মামলা নেওয়া হয়নি।’

‘সরকারের অপশাসনের সমালোচনা করার জন্যই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। নির্ভিক জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ভয় দেখানোর জন্যই এই বর্বরোচিত হামলা, বিএনপি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের অবিলম্বে শাস্তি দাবি করছি।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা কখনোই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে দিবেন না, তার কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি ক্ষমতার মসনদ থেকে ছিটকে পড়বেন। এই ভয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে জালিয়াতির নির্বাচনেই তিনি উৎসাহী। ইভিএম জালিয়াতির নির্বাচনের প্রমাণিত যন্ত্র। সেই জন্য এই জালিয়াতির যন্ত্রই শেখ হাসিনার একমাত্র ভরসা। দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য আন্দোলনে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে ভোটারদের ভোটাধিকারের কবর রচিত হবে।’

সা‌বেক এই ছাত্র‌নেতা ব‌লেন, ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানেই তা হবে স্বেচ্ছায় গণতন্ত্রের মৃত্যু ডেকে আনা। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে প্রকৃত নির্বাচনী পরিবেশ। বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি।’

‘নির্বাচনকে একতরফা করার জন্যই চলছে সরকারের নানা আয়োজন। এমনও কথা শোনা যাচ্ছে-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি ইউনিটের প্রধানকে নাকি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী লীগের পক্ষে সমতল করার জন্য। সে জন্য তিনি বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের বলেছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রেরণের জন্য। এটি এক দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনার অংশ।’

গণতন্ত্রকামী মানুষকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য আহ্বান জানান বিএন‌পির এই নেতা।

এ ছাড়া সংবাদ স‌ম্মেল‌নে বিএন‌পির পক্ষ থে‌কে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানি‌য়ে‌ অবিলম্বে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান রিজভী।

এ সময় রিজভী বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা ‘গায়েবি’ মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৪২৪৫টি গায়েবি মামলার এজাহারে ৯৮ হাজার ৮৭৫ জনকে জ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আর দুই লাখ ৯৩ হাজার ১৩৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত ও জ্ঞাত আসামিদের সংখ্যা তিন লাখ ৯২ হাজার ১২ জন। এখন পর্যন্ত গায়েবি মামলায় ৫৫৩৭ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ