প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কষ্ট করব, তবু আইন থাকুক’

রাইজিং বিডি : সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে বিপর্যস্ত জনজীবন। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন সোমবারেও রাজধানীর সড়কে ছিল না গণপরিবহন।

সকাল থেকে কর্মজীবী মানুষরা পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে গিয়েছেন। কেউ কেউ বাড়তি ভাড়া দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান বা রাইড শেয়ারিংয়ের সার্ভিস নিয়েছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও পায়ে হেঁটে তাদের প্রতিষ্ঠানে গেছেন। দিন শেষ একই অবস্থার মধ্যে ঘরে ফিরতে হয়েছে সাধারণ মানুষদের। তবে সবকিছুর পরও সাধারণ মানুষরা বলছেন, পরিবহন ধর্মঘটে তাদের কিছু কষ্ট হলেও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে যেন আইনের পরিবর্তন না হয়ে তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়।

সোমবার দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খবর সংগ্রহকালে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে অনেকের কথা হয়। তাদের বেশিরভাগেরই দাবি, কঠোর আইন থাকলে ও তার সঠিক প্রয়োগ হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমবে।

তবে অনেকে উপহাস করে বলেন, যে দেশে মন্ত্রী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না, সে দেশে গাড়ি চালকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি করা হয়েছে। এটা অন্যায়। তাই ধর্মঘট যৌক্তিক।

ফার্মগেটে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবিদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি হেঁটে শুক্রাবাদ থেকে মহাখালী যাচ্ছিলেন। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ক্ষোভ থাকলেও তিনি বলছেন, তারা (পরিবহন শ্রমিক) তাদের দাবি জানাতে পারে। তবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নয়। তবে একটু কষ্ট হলেও আমরা কিন্তু বিষয়টির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি। ধর্মঘট আরো বাড়ালে হয়তো আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে যাব। কিন্তু যারা গাড়ি বন্ধ রেখেছেন তাদের ভবিষ্যত কী? আজ কিংবা কাল তাদের ঘরে খাবার ফুরাবে। আবার কাজে আসতে হবে।

তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন নিয়ে তারা যতই আন্দোলন করুক, আমি মনে করি, আইনে শাস্তি কমই দেওয়া হয়েছে। যাই হোক, এই আইনই থাকুক। কিছু দিন কষ্ট হলে তা করব।

ফার্মগেটে কাশফিয়া নাজনিন নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ল্যাব ক্লাস আছে। ক্যাম্পাসে যেতেই হবে। বিআরটিসি ছাড়া কোনো বাস নেই। সেখানেও ওঠা যাচ্ছে না। রিকশায় ভাড়া বেশি চায়।

তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর স্বার্থে আইন যা হয়েছে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এর বিরোধিতা করে জনগণের ভোগান্তির কোনো মানে হয় না।

প্রেসক্লাব এলাকায় মশিউর রহমান নামে একজন বলেন, গাড়ির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয় আর চালক যদি ঠিকমতো চালান তাহলে তো দুর্ঘটনা ঘটবে না। এ হিসেবে তো চালকদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোন বিষয়টা নিয়ে তারা ভয় পাচ্ছেন তা আমার বোধগাম্য নয়।

পরিবহন শ্রমিকেরা প্রায়ই মাদকাসক্ত থাকেন, অভিযোগ করে তোফায়েল আহমেদ নামে একজন বলেন, নেশা করে গাড়ি চালালে তো এক্সিডেন্ট করবেই। আগে তারা নিজে ঠিক হোক। তারপর আন্দোলন করুক। অপরাধ করবে কিন্তু সেটার শাস্তি পাবে না, তা তো হতে পারে না।

তোফাজ্জল হোসেন নামে বেসরকারি বিশ্বিবদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, যারা আইনপ্রণেতা, মন্ত্রী, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী? তাদের সবাই কি উচ্চ শিক্ষিত? তাদের জন্য যদি শিক্ষার কোনো মানদণ্ড না থাকে তাহলে গাড়িচালকরা কী অপরাধ করেছেন? তাদের অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে কেন?

তিনি বলেন, আমি পরিবহন ধর্মঘট সমর্থন করছি না। তবে শ্রমিকদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। মূলত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করছিলেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ সড়ক দুর্ঘটনার সাজা কমিয়ে আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে রোববার থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

এ সংগঠনের ডাকে পরিবহন শ্রমিকরা রোববার ভোর থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ