প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলার তিন দিন পরেও মামলা হয়নি

আহমেদ ইসমাম, সাভার থেকে ফিরে: সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলার তিন দিন পর ঐ হামলার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। গত শুক্রবার সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসী তিন ঘণ্টা ব্যাপি এ হামলা চালায়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ছাত্রী হোস্টেল ও অডিটরিয়াম দখল নেওয়া। হামলার সময় তারা ভাংচুর লুটপাট করে পুরো এলাকায় ভীতির সঞ্চার করে। সিসি ক্যামেরার তাঁর ছিড়ে দেয়। নিয়ে যায় কয়েকটি দামি এলইডি টিভি। সাজানো গোছানো ভিআইপি কক্ষ তছনছ করে। ক্যাশ থেকে থেকে নিয়ে যায় প্রায় ৫ লাখ টাকা। মূল ভবনের সামনে কটন টেক্সটাইল ক্রাফটস লিমিটেড নামে একটি ব্যানার লাগিয়ে দিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। তবে আশে পাশে এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান খুজে পাওয়া যায়নি। পিএইচ ভবনে হামলা চালানোর পর তারা অগ্রসর হয় ছাত্রী হোস্টেলের দিকে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, আমি সকাল ১০টার সময় টিউশনি করে ফিরছিলাম। এমন সময় দেখি কয়েকজন আমাদের হোস্টেলের সামনে ব্যারিকেট দিয়ে রেখেছে। আর দূর থেকে আমাকে বলছে যাও এখান থেকে চলে যাও। না গেলে তোমাদের তুলে নিয়ে যাব। এ সময় পাশ থেকে একজন বলে উঠে ‘এই নে তোদের যার যেটা ভাল লাগে তুলে নে’। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ভয় পেয়ে যাই। যে যার মত আমরা স্থান ত্যাগ করে চলে যাই। এর পরেও তারা আমাদের হোস্টেল এর সামনে থেকে বলতে থাকে তোমরা এখান থেকে চলে যাও। এটা আমাদের জায়গা। এ সময় আমাদের কয়েকজন ছাত্রীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। এতে সেই ছাত্রীরা অপমানে কাঁদতে থাকে। আমরা ভয়ে কেউ সামনে যেতে পারছিলাম না। নিরাপত্তার জন্য একটি আনসার ছাউনি থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা সেখানে ছিল না। এর পর আমরা উপায় না পেয়ে তিন ঘণ্টা পর এক্যবদ্ধ হয়ে আমরা তাদের হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করি। এতে দুপুর ১২ টার দিকে তারা আস্তে আস্তে চলে যায়।

র‌্যাবের হাতে পা হারানো গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র লিমন হোসোন বলেন, আমি নাস্তা করছিলাম। এমন সময় খবর পাই সিএইচ ভবনে হামলা হচ্ছে। খবর শুনেই দ্রুত ছুটে যাই ঘটনা স্থলে। গিয়ে দেখি কে বা কারা আমাদের ছাত্রীদের ওপর হামলা করছে। তারা সবাইকে এখান থেকে বের হয়ে যেতে বলছে। সন্ত্রাসিরা বিক্ষিপ্ত ভাবে চারদিকে ছুটাছুটি করে ভাঙচুর করছে। এমন অবস্থায় আমি কাউকে না পেয়ে একাই প্রতিরোধ করি। এ সময় তারা আমাকে ধাক্কা দিলে পাশে থাকা ইটের উপর পড়ে যাই। এত আমার বাম হাতে আঘাত পেয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ ঘটনায় আমি ব্যক্তিগত ভাবে আশুলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে। থানা থেকে বলা হয় আমরা আগে তদন্ত করব তার পরে মামলা নেব।

পিএইচ ভবনের তত্বাবধায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, আমি বিশ বছর ধরে এখানে আছি, কোনো দিন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দিকে চোখ তুলে তাকায়নি। কিন্তু এখন কি হল জানি না এমন হামলা হল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের অনেক লুটপাট দেখেছি কিন্তু সেটা এমন বর্বর ছিল না। যারা হামলা চালিয়েছে তাদের আমরা কেউ চিনতে পারিনি। ধারনা করছি তারা ভাড়া করা গু-া বাহিনী হতে পারে। এমন ঘটনার পর সাথে সাথে আমরা আশুলিয়া থানায় যাই মামলা করার জন্য। কিন্তু থানা থেকে জানানো হয় আমরা আগে তদন্ত করব তার পর মামলা নিব। তাই আমরা আর মামলা করতে পারি নাই। এর আগেও যখন আমাদের সিএইচ ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে ১৬ শতক জায়গা স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা দখল করে নিয়েছে। আমরা পুলিশকে জানিয়ে কোনো উপকার পাইনি। তবে গত রবিবার দুজন ব্যাক্তি এসেছিলেন তারা নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ এ কর্মরত আছে। পরে তারা পুরো এলাকা ঘুরে দেখছে। আমাদের উপর কি কি হামলা হয়েছে তা সব শুনেছে এবং দেখেছে।

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাসির হোসেন বলেন, আমি অনেক দিন থেকেই বলে আসছিলাম আমার জায়গা ফেরত দিতে কিন্তু সেটা তারা আমলে নেয়নি এর পর আমি দেওয়াল ভেঙে আমার ১৬ শতক জায়গা দখল নিয়েছি। এ সব হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। হামলার সময় আমি দূরে এক আত্মীয়র বাসায় ছিলাম। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
গতকাল প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত আশুলিয়া থানায় যোগাযোগ করা হলে থানা থেকে এই প্রতিবেদককে জানানো হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় কোনো মামালা হয়নি। সম্পাদনা: মাহাবুব আলম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ