প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল
আইন কী বলে

মানবজমিন : সংসদ নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত আইন ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ এইচ ধারার আওতায় ৪ উপদফা অনুসারে নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করেছে। ২০০৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর জামায়াতের নিবন্ধন আবেদন মঞ্জুর করেছিল নির্বাচন কমিশন। ২০০৯ সালে ইসির ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করা হয়।

গতকাল ইসির সচিব হেলালুদ্দীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের আদেশে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। তাই তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হলো।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য সেলিম উদ্দিন গতরাতে মানবজমিনকে বলেন, এটি বিচারাধীন বিষয়। তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ আদালতের প্রতি অনাস্থার সামিল। এতে আমরা আতঙ্কিত এবং বিচলিত।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ এইচ ধারাটির তরজমা নিচে তুলে ধরা হলো।

“১) ৯০ এইচ ধারায় বলা আছে: এই অধ্যায়ের অধীন নিবন্ধনের জন্য কোন রাজনৈতিক দল যোগ্যতা অর্জন করবে না, যদি-
(ক) বাংলাদেশ সংবিধানে নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বিপরীতে যদি তার দলের গঠনতন্ত্রের কোনো বিধানের সংঘাত হয়।
(খ) ধর্ম, জাতি, বর্ণ, ভাষা বা লিঙ্গ সম্পর্কিত কোন বৈষম্যমূলক বিধান দলের গঠনতন্ত্রে লেখা থাকে।
অথবা
(গ) নাম, পতাকা, প্রতীক বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বা লিঙ্গ বিষয়ে কোনো বৈষম্য দলের গঠনতন্ত্রে আছে বলে প্রতীয়মান হয়। অথবা
(ঘ) যদি তার গঠনতন্ত্রে দলবিহীন বা একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অনুকূলে কোনো লক্ষ্য অর্জনের বিষয় সন্নিবেশিত থাকে। অথবা
(ই) বিদেশে কোনো অফিস, শাখা প্রতিষ্ঠা বা কোনো ধরনের কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে গঠনতন্ত্রে যদি কোনো বিধান থাকে।
(২) এমন কোনো নামে রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হবে না, যে নামে আগে থেকেই কোনো দলের নিবন্ধন থাকে।
তবে একাধিক দল যদি একই নামে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে তাহলে নির্বাচন কমিশন সব পক্ষকে নিয়ে উপযুক্ত শুনানির সুযোগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো একটি দল তখন নিবন্ধন পাবে।
(৩) বিলুপ্ত ঘোষিত কোন রাজনৈতিক দলের নামে কোনো দলের নিবন্ধন করা যাবে না।
(৪) যে দলের নাম বিলুপ্ত বা বাতিল করা হয়েছে, তাদের নাম সরকারি প্রজ্ঞাপনে জারি করা হবে।
৯০ ই ধারার ৩ উপ দফা বলেছে, দলের নিবন্ধন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সংবিধানে কী আছে?
১৯৭২ সালের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে ধর্মভিত্তিক বা ধর্মের নামে সব দল নিষিদ্ধ ছিল। এই অনুচ্ছেদটি ৫ম সংশোধনীতে বাতিল করা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ৫ম সংশোধনী বাতিল মামলার রায়ে মূল সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদটি পুনরুজ্জীবিত করে। সেই ৩৮ অনুচ্ছেদ সংবিধানে রায়ের আলোকে মুদ্রিত করেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। এরপর ১৫তম সংশোধনীতে আওয়ামী লীগ আর মূল ৩৮ অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে আনেনি। বর্তমানে ৩৮ অনুচ্ছেদটি নিচে তুলে দেয়া হলো:

৩৮। জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধসাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির উক্তরূপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি-
(ক) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;
(খ) উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;
(গ) উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা
(ঘ) উহার গঠন ও উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ