Skip to main content

৩৬ শতাংশ মানুষ ভোক্তা অধিকার আইন সর্ম্পকে জানেনা

মোহাম্মদ রুবেল: ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশের ৩৬.২০ শতাংশ মানুষ ভোক্তা অধিকার আইনের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানেনা। তাছাড়া বর্তমান আইনে সরাসরি মামলা করার বিধান না থাকায় এবং ভোক্তাদের সচেতনতার অভাবে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন। ফলে ভোক্তা হিসেবে প্রতারিত হবার পরও অভিযোগের বিষয়ে ভোক্তাদের অনীহায় গতি পাচ্ছে না অধিদপ্তরের কাজও। এতে করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সুফলও পাচ্ছে না ভোক্তা সাধারণ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০০৯ আইনে বলা আছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সালে আওতায় পণ্যের দাম, মানের আপত্তিতে অভিযোগ জানাতে পারেন ক্রেতা। পণ্য কেনার ৩০ দিনের মধ্যে ভোক্তারা ইমেইল অথবা সরাসরি অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করতে পারেন। ঢাকার বাইরেও অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়েও অভিযোগের সুযোগ রয়েছে। প্রমাণিত হলে, সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদ- ও ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে আইনে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান আইনে ভোক্তার সরাসরি মামলা করার অধিকার না থাকা, অপরাধীদের শাস্তি জরিমানা অতি নগণ্য হওয়ায় আইনটির সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। ভোগ্যপণ্য কেনা ছাড়াও অন্যান্য কেনাকাটা, বাসভাড়া, ডায়াগনস্টিক সেবা, এমনকি বাসাভাড়ার ক্ষেত্রেও ভোক্তারা ঠকছেন। কনজ্যুমারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ হতে জানা যায়, এখনো দেশের ৩৬.২০ শতাংশ মানুষ জানে না দেশে ক্রেতা ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণমূলক একটি আইন কার্যকর আছে। ৪৭.৫৫ শতাংশ মানুষ জানে না ক্রেতাভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারিভাবে একটি অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। পণ্য ও সেবা গ্রণ করে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও ৩৩.৩৩ শতাংশ মানুষ কোথাও কোনো অভিযোগ করে না। ৬৯.৬০ শতাংশ মানুষ জাতীয় অধিকার সংরক্ষণ কার্যক্রম বিষয়ে জানে না। অপরদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, নানা সংকটকে মোকাবেলা করেই সারাদেশে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে এবং বিগত ৯ বছরের ভোক্তাদের দায়ের করা বিভিন্ন মামলাসমূহ নিষ্পত্তি করে বছরে প্রায় ৩৭ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত করে ২৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩শ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জরিমানার আদায়কৃত অর্থের ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে দেয়া হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শফিকুল ইসলাম লস্কর আমাদের অর্থনীতিকে জানান, ৬৪ জেলায় বিচারকেরও সংকট রয়েছে। ঢাকায় অধিদফতরে ১৪ জন বিচারক রয়েছেন। সারাদেশে মাত্র ৪৫ জন বিচারক রয়েছেন। তাই অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং ভেজাল বিরোধি অভিযান চালাতে সমস্যা হচ্ছে। তাই আমরা বিসিএস নন ক্যাডার থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ চেয়েছি, সরকারও আন্তরিক রয়েছেন। এসব বিচারকরা তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করেন। আগামীতে ভোক্তার অধকিার সংরক্ষণে প্রতিটি জেলায় বিচারক থাকবে আশা করি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, ভোক্তা অধিকার নিশ্চত করতে হলে সর্ব প্রথম জননগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। কিন্তু এটি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টা কিংবা সক্ষমতা দিয়ে সম্ভব নয়। এটে সরকারের আন্তরিকতা থাকতে হবে।পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিইআইকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। সম্পদনায়: বিশ্বজিৎ দত্ত, হুমায়ুন কবির খোকন।

অন্যান্য সংবাদ