প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রেনুপোনার অকাল মৃত্যু রোধে বাড়বে পাঁচ হাজার কোটি টাকার এক লাখ টন ইলিশ

মতিনুজ্জামান মিটু : নদীর মোহনায় ভাষমান জালের খাচা ব্যবহারে রেনুপোনার অকাল মৃত্যু রোধে বছরে আরও অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকার এক লাখ টন ইলিশ উৎপাদন সম্ভব।একান্ত সাক্ষাতকারে এমনই অপার সম্ভাবনার কথা শোনালেন বাংলাদেশ প্রাণি বিজ্ঞান সমিতির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও মৎস্য অধিদফতরের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের জাতীয় পরামর্শক এম. এন সরকার।

ইলিশের রেনুপোনা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবছরে দেশে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়। প্রতিটি’র ওজন গড়ে ৪০০ গ্রাম হারে এই পরিমাণ ইলিশের সংখ্যা হয় প্রায় ১০ কোটি। এই ১০ কোটি ইলিশের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি মাছ নদীর মোহনা বা উপযুক্ত স্থানে ডিম পেড়ে থাকে। প্রতিটি মাতৃ ইলিশ অন্তত ১০ লাখ করে ৫ লাখ হাজার কোটি ডিম ছাড়ে। এর থেকে রেনুপোনা হয় ৩ লাখ হাজার কোটি। যার মধ্যে বেঁচে থাকে মাত্র ৩০ হাজার কোটি। ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ কোটি রেনু পোনা স্রোতের টানে লবনাক্ত সহিঞ্চু হওয়ার আগেই সাগরে যেয়ে মারা যায়। এভাবে নষ্ট হয় কোটি কোটি লাখ ইলিশের রেনুপোনা। নষ্ট হয়ে যাওয়া এই বিশাল সংখ্যক রেনুপোনার মধ্যে সামান্যও যদি রক্ষা করা যায় তাহলে বছরে আরও অন্তত ১ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন করা যাবে। ৫০০ টাকা কেজি ধরলেও বর্তমান বাজারে যার দাম ৫ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য এজন্য দরকার বিস্তারিত গবেষণা।

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক যৌথ সেমিনারে আমি এবিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি। যা সকলের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে।

উপস্থাপনায় আমি জানিয়েছি, বৃহদাকার ভাষমান জালের খাচা(জায়ান্ট টেস্টটিউব) পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে রেনুপোনা নদীর মিঠাপানিতে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ আটকে রাখা গেলে ইলিশের উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে। জালের এই নেট এমন হবে যাতে পোনা বের হয়ে যেতে না পারে। কিন্তু এই নেটের মধ্য দিয়ে প্লাঙ্কটন( প্রাণিকণা বা মাছের খাবার) যাতায়াত করতে পারবে। নদীর স্রোতশীল পরিবেশে এ খাচা স্থাপন করতে হবে। লক্ষিপুরের রামগতি, পটুয়াখালির কলাপাড়া, বরগুনার পাথরঘাটা ও ভোলার চরফ্যাশনে এ খাচা বসানো যেতে পারে। গোলাকার, আয়তকার, বর্গাকার আকারের নেট ব্যবহার করা যেতে পারে।পানির স্রোত প্রতি সেকেন্ড কত মিটার হবে? নদীর কিনারা থেকে খাচা স্থাপনের দুরত্ব, প্রতি ঘটনমিটার আয়তনে সর্বোচ্চ কত সংখ্যাক পোনা আটকানো যাবে ইত্যাদি সম্পর্কে গবেষণা দরকার। মৎস্য অধিদফতর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এই গবেষণা চালানো যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সংখ্যক জেলেদেরও কর্মের সংস্থান হতে পারে। এটা করা গেলে জেলেদেরও নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ও জাটকা ধরার জন্য জেল খাটতে হবেনা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ