প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর উদ্বোধন হলো ইস্তাম্বুলে

সাইদুর রহমান: তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের ইউরোপীয় অংশে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানব্দর। বিমানবন্দরের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দেশটির ৩৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

কাজ শুরুর পর থেকে বছরে (৯০ মিলিয়ন) প্রায় ৯ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। আর সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে বছরে (২০০ মিলিয়ন) প্রায় ১৫ কোটি যাত্রীকে সেবা দেবার মাধ্যমে এটিই হবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর। প্রাথমিক পর্যায়ে বছর প্রতি আয় হবে ২২ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালে ৪০বিলিয়ন ডলারে পৌছবে।

কাজ শেষ হবার পর এই নতুন বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর চেয়েও তিনগুণ যাত্রীকে সেবা দিতে পারবে। এক ছাঁদের নিচে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ টার্মিনাল ভবন এবং ডিউটি ফ্রি এরিয়া ছাড়াও এটিই হতে যাচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ‘সবুজ বিমানবন্দর’।এতে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আন্ডার ফ্লোর রাডার, প্রতি কোণে ক্যামেরা ইত্যাদি। পুরা বিমানবন্দর জুড়ে কমপক্ষে ৯ হাজার ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং কলাকৌশলের দিক থেকেও জটিল এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইস্তাম্বুল গ্র্যান্ড এয়ারপোর্ট কোম্পানি, যেটি তুরস্কের ভিশন ২০২৩ কে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করতে ৩০ হাজার কর্মী সপ্তাহে সাতদিন তিন শিফটে চব্বিশ ঘন্টা কাজ চলছেন।

দৈনিক প্রায় ৩ হাজার বিমান এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবে। ২৫০টি এয়ারলাইন্সের সেবা গ্রহণের সুযোগের মাধ্যমে এই বিমানবন্দর থেকে পৃথিবীর নানা দিকে প্রায় ৩৫০টি শহরে যাওয়া যাবে। গত ১৪ বছরে তুরস্কে বিমানবন্দরের সংখ্যা ২৬ থেকে বেড়ে ৫৫ তে উন্নীত হয়েছে। তবে বিমানযাত্রীর সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি থেকে পাঁচগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটিতে।

পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করলে বন্দরটির সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১১ কোটি। ইস্তাম্বুলের বর্তমান আতাতুর্ক এয়ারপোর্টের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬ কোটি, যা নতুন এয়ারপোর্টের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতার এক তৃতীয়াংশ মাত্র।

এছাড়াও এই বিমানবন্দরে তৈরি হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল ভবন, যেখানে ৩৪৭টি বিমানকে জায়গা দেয়া যাবে, যেখানে ১১৪টি বিমান প্রধাণ টার্মিনালে অবস্থান করতে পারবে। পাশাপাশি, প্রায় ৭০,০০০ গাড়ীর জন্য মূল পার্কিং সুবিধা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরও ১৮,০০০ গাড়ী রাখার জায়গা এখানে থাকবেম যা হবে ইউরোপের বৃহত্তম পার্কিং লট। বিমানবন্দরের ৫৬০০০ বর্গমিটার ডিউটি-ফ্রি এরিয়াতে থাকবে দেশী-বিদেশী প্রায় ৪০০টি ব্র্যান্ড আউটলেট। তবে সকল ব্যবসায়িক স্থাপনাই হবে পরিবেশবান্ধব, যে কারণে এই বিমানবন্দরকে বিশ্বের প্রথম ‘সবুজ’ বা পরিবেশবান্ধব বিমানবন্দর বলা হবে। আর বর্তমানের আতার্তুক বিমানবন্দরকে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের আদলে জাতীয় পার্কে পরিণত করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ