প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন শেখ হাসিনা

আনিসুর রহমান তপন ও আহমেদ জাফর : ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে সম্মতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে তার এ সম্মতির কথা জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।

পরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছিুক মন্ত্রিসভার একাধিক সিনিয়র সদস্য জানান, ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি পাঠিয়ে আলোচনায় বসার জন্য নিজেদের আগ্রহের কথা জানান। ওই প্রেক্ষিতে নিজের সম্মতির কথা জানান শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের বিরোধিতা করে এর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। সংলাপের বিরোধিতা করে তারা বলেন, এর আগে আমরাই তাদের সন্ত্রাসী দল বলে আখ্যা দিয়েছি। এখন তাদের সঙ্গে সংলাপে বসা ঠিক হবে না। তবে সংলাপের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে মন্ত্রিসভার কয়েক সদস্য বলেন, আমরা তো তাদের ডাকি নি। বরং তারাই আলোচনা করতে চেয়েছে।

পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্তব্য না করে বলেন, আমি তাদের ডাকি নাই। বরং তারাই দরখাস্ত দিয়ে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা লিখিতভাবে আবেদন করেছে, আমরা আলোচনা করবো।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, আমি সরকার প্রধান। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে যে কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইতে পারে। আর কোনো নাগরিক যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো আমি সেটা মানা করতে পারি না।
তাছাড়া ১০ম সংসদ নির্বাচনের আগে আমি নিজে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। সেদিন তারা আমার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। অথচ এবার তারাই চাইছে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সরকার প্রধান হিসেবে আমার সঙ্গে আলোচনা করতে। কাজেই আলোচনা হতে পারে।

আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কদেরকে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারের সংলাপ হবে এ বিষয়টি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।

এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সবার সম্মতিক্রমে জাতীয় ঐক্যের ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে সবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার আগেই এই সংলাপ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দরজা কারো জন্যে বন্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ঐক্যেফ্রন্ট সংলাপে বসার কথা বলেছে। তাই দলের সকল নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে সবার সম্মতিক্রমেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবার জন্যই তার দরজা খোলা রেখেছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, তবে কারো চাপে নতী স্বীকার করে এই সংলাপ হচ্ছে না। অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে যাতে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের জন্যই এই সংলাপ হবে।

সংলাপের জন্য এখনো দিনক্ষণ, স্থান ঠিক করা হয়নি জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তবে খুব দ্রæতই তা নির্ধারণ করে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ঐক্যফ্রন্ট একটি চিঠি দিয়েছে। দলের পক্ষে সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই চিঠিতে কি আছে তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ (সোমবার) মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে ডেকে এ বিষয়ে মতামত জানতে চান। তখন সবার সম্মতিক্রমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসার সিদ্ধান্তদ নেয় আওয়ামী লীগ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ