প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আ.লীগ-ঐক্যফ্রন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাব অপ্রত্যাশিত’

আশিক রহমান : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির একটাও বাস্তবায়ন হবে না, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের হুঁশিয়ারি যে, দাবি না মানলে কল্পনাতীত শাস্তি পেতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দাবি আদায়ে কথা বলতে পারেন যে কেউ। কিন্তু তার ভাষা হতে হবে শোভন। মার্জিত। কিন্তু এ ধরনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব অপ্রত্যাশিত। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের সুযোগ নিয়ে অশুভ কিংবা অগণতান্ত্রিক কিছু ঘটলে কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। না রাজনীতির, না জনগণের।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফার একটি হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন। একই দাবি তো সরকারেরও। সরকারও তো চায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এ ব্যাপারে উদ্যোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে অন্য দাবিগুলো সংবিধানসম্মত নয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে দেশে প্রবৃদ্ধি হয়নি। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস সারাদেশ ছেয়ে গিয়েছিলো এমনটিই মনে করে আওয়ামী লীগ। তার প্রেক্ষিতেই হয়তো ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা না মানার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন এখন ঐক্যফ্রন্টের নেতা। দাবি আদায়ে কথা তিনি বলতেই পারেন। এতে অসুবিধে নেই। কিন্তু তিনি যে ভাষায় বলেছেন তা অশোভন। এ ধরনের ভাষায় তিনি দাবি আদায়ের কথা বলতে পারেন না। দেশের রাজনীতিতে এটা একটা সমস্যা। সংযম ও পরিশীলিত ভাষায় আমাদের কথাবার্তা উচিত। অসদাচরণের ফলে অনেক সংকট তৈরি করছে। যা কারও কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে দাবিগুলো করেছে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এই দাবির তো কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন যেটা বলেছেন, যা বোঝাতে চেয়েছেন এখন যারা ভুল-ভাল করবেন তাদের শাস্তি পেতে হবে। যারা আন্দোলন করছেন তারাও যদি ভুল করেন তাদেরও শাস্তি পেতে হবে। আওয়ামী লীগ থেকে বলা হচ্ছে ঐকফ্রন্টের ৭ দফার কিছুই মানা হবে না। দাবি মানা না হলে গণতন্ত্র আছে বলার দরকার কী সরকারের? কারও কথা না শুনলে, দাবি মানা না হলে গণতন্ত্র বাদ দিয়ে একদলীয় ব্যবস্থা তৈরি করুক তারা। স্বৈরতন্ত্র শাসন হিসেবে চিহ্নিত করলে তো আর কেউ কিছু বলবে না। দাবিও জানাবে না।

সিপিবির সভাপতিম-লীর সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হায়দার আকবর খান রনো বলেন, রাজনীতিক ভাষায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য-মন্তব্য হবে। কিন্তু মৌলিকভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগ একই। আমরা কোনোটার সঙ্গে নেই। এ অগণতান্ত্রিক সরকারের বদলে আরেক অগণতান্ত্রিক সরকার আসবে। এক লুটেরার বদলে আরেক লুটেরা আসবে, এতে কী লাভ জনগণের? গুম, খুন, মিটিং-মিছিল, একটা সমাবেশও করতে ঠিকমতো দিচ্ছে না বিরোধীদলগুলোকে। এটা তো স্বৈরাচারি আচরণ। আবার বিএনপিও তার শাসনামলে প্রায় একই কাজ করেছে। ক্রসফায়ার ও ক্লিটহার্ট অপারেশন অভিযান করেছিলো বিএনপি সরকার। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। কিন্তু বিএনপি তো তাদের নিয়েই চলছে, বিচার তো দূরের কথা। এ ব্যাপারে তারা একদম চুপচাপ, কোনো কিছুই বলে না। জামায়াতের বিষয়ে কামাল হোসেনের বক্তব্য কী? কোনো কিছুই তো পরিষ্কার না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত