প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লক্ষ্মীপুর-৪ অাসনে দুই জোটের লড়াই

আমজাদ হোসেন আমু, রামগতি ( লক্ষ্মীপুর): রামগতি-কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ সংসদীয় আসন। জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। লড়াই এগিয়ে দুই জোটের প্রার্থীরা। সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, এই আসনের আগামী দিনের প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ততই জমে উঠছে।চলছে প্রার্থীর হিসাব নিকাশ।

মেঘনার ভাঙনে গত কয়েক বছরে এ আসনের অনেক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মেঘনার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। নদী ভাঙন আর প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই এখানকার মানুষ প্রতিদিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন। দুই উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনের অধিকাংশ মানুষ মৎস্য শিকার এবং কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ এলাকার মানুষের প্রতিনিধি হয়ে তাদের সুখ-দুঃখের কথা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীরা ছাড়াও দুই জোটের শরিক দলের অন্য নেতারাও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

মূলত এ আসনে আগামী নির্বাচনে লড়াই হবে ১৪ দলের জোটের প্রার্থীর সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীর। তবে দুই বড় দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পাশাপাশি জেএসডি (জাসদ),  এলডিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাত পাখা) মার্কা সমর্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নির্বাচনি প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন।

এ আসনে স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ আওয়ামী লীগের এম সিরাজুল ইসলাম, ১৯৭৯ সাম্যবাদী দলের মোহাম্মদ তোয়াহা, ১৯৮৬ জাসদের আ স ম আব্দুর রব, ৫ম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র আব্দুর রব চৌধুরী,৭ম নির্বাচনে জাসদের আ স ম রব,৮ম,৯ম নির্বাচনে বিএনপি’র এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, দশম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল্লাহ আল মামুনএমপি নির্বাচিত হয়।

এদিকে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (আল মামুন)। বর্তমান সরকারের সময়ে ভাঙন রোধে ১৩৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে সাড়ে দুইশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নদী ভাঙন রোধে দ্বিতীয় দফায় অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেন।সরকারের সকল উন্নয়নের জোয়ার সর্বসাধারণের দ্বার গোড়াই পৌছে দিচ্চেন। তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী।তাই প্রচার-প্রচারনার কমতি নেই।

এছাড়াও সরকারের উন্নয়নের প্রচার চালিয়ে এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এবং এ আসনের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফরিদুন্নাহার লাইলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ কমিটির সহ সম্পাদক আবু জাহের সাজু মনোনয়ন প্রত্যাশা করছে।

এ আসনের বর্তমান সরকার দলীয় এমপি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (আল মামুন) জানান, ‘রামগতি-কমলনগরে অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। এ অঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে যে বড় দাবি ছিল নদী ভাঙন প্রতিরোধ। সে বিষয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে। বর্তমান সরকারের আমলে এ আসনে যে উন্নয়ন হয়েছে অতীতের ৪০ বছরেও এ পরিমাণ কাজ হয়নি। নেতাকর্মীদের দুর্দিনে পাশে থেকে তাদের আগলে রাখার চেষ্টা করেছি।’

সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি লাইলী জানান, দলের জন্য কাজ করছি। নৌকার জন্য ভোট যাচ্ছি। আশা করছি দল মূল্যায়ন করবে। আরেক প্রার্থী সাজু, তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ছাত্র জীবন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত। রামগতি কমলনগর নদী ভাঙন কবলিত এলাকা। আমি দলের নমিনেশন প্রার্থী। দল নমিনেশন দিলে, মেঘনা ভাঙন রোধে কাজসহ এলাকার মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করবো।

এ আসনে বিএনপি থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজান, স্বেচ্ছাসেবক কেন্দ্রীয় দলের সভাপতি সফিউল বারী বাবু এবং জোট বিহীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ (পীর সাহেব)।

২০০১ ও ২০০৮ এর নির্বাচনে আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি নির্বাচিত হন। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সভাপতি আশরাফ উদ্দিন নিজান জানান, ‘আমি দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে কাজ করেছি। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ৭০ ভাগ মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছি। দলের পাঁচ হাজার ৩৯০ জন নেতাকর্মীর মামলা মোকাবেলা করতে সহযোগিতা করছি ও তাদের মুক্ত করার বিষয়ে চিন্তা করছি। মনোনয়ন নিয়ে এখন চিন্তা করার প্রয়োজন মনে করছি না। দলীয় নেত্রী বেগম জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নমেনিশান নিয়ে চিন্তা করবেন। তারা যা ভালো মনে করবেন তাই মেনে নেবো।’

বিএনপি জোটের অন্যতম নেতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবু জানান, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে দলের জন্য কাজ করেছি। আমি ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। দল যখন ক্ষমতায় ছিল এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছি। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। বিএনপি যদি একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, আমি আশা করি দল আমার ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করবে।’

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা, জেএসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। এরশাদ সরকারের সময় তিনি একবার সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনার ঐক্যমতের সরকারের মন্ত্রী হন তিনি। আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন আসম আব্দুর রব।

ইসলামী আন্দোলন  বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর -৪ রামগতি -কমলনগর আসনের নমিনেশন প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, ইসলামী আন্দোলন  কোন জোটে বিশ্বাসি না। তার দল সারা বাংলাদেশে ৩০০ আসনে নির্বাচনে প্রার্থী দিবে। খালেদ সাইফুল্লাহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি’র উপদেষ্টা, সাবেক নির্বাহী সদস্য,বর্তমান কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আগামী একাদশ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সভাপতির নির্দেশে দলের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাত পাখা)  মার্কায় নির্বাচন করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ