প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পরিবহন সমিতির নেতারা নতুন আইনের অনেক ভাষাই বুঝতে অক্ষম’

রাশেদা রওনক খান : বিভিন্ন বৈঠকে পরিবহন সমিতির নেতাদের সাথে কথা বলে বিভিন্নসময়ে যা ধারণা পেলাম, তা হচ্ছে- তারা এই আইনের অনেক ভাষাই বুঝতে অক্ষম, তাদেরকে আগে বোঝানোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল, বহুবার বলেছি, আজকে আরেকবার বললাম! উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি, নতুন আইনে বলা হয়েছে, গাড়ি চালানোর অপেশাদার লাইসেন্স পেতে হলে অষ্টম শ্রেণি পাস ও ১৮ বছর হতে হবে। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২১ বছর হতে হবে। পরিবহন সমিতির নেতারা ধরে নিচ্ছেন, যারা ৮ম শ্রেণী পাশ নয়, সকল বর্তমান চালকদের লাইসেন্স বাতিল হবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা কখনোই নয়। কেবল এই আইন কার্যকরের পর যারা নতুনভাবে লাইসেন্স নেবেন, তাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট অথোরিটি’র উচিত ছিল এই বিষয়গুলো ভালভাবে বুঝিয়ে বলা।

যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সমিতির নেতৃত্ব একজনের হাতে থাকবে, তখন এই ধরনের নৈরাজ্য দিন দিন বাড়তেই থাকবে। এই ধরনের পরিস্থিতি এই শেষ সময়ে এসে তৈরি হওয়া সরকারের জন্য বিপদজনকই কেবল না, যেকোনো মুহূর্তে সংকট ঘনীভূত হতে পারে। ষড়যন্ত্র চারদিকে, এই মুহূর্তে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য খুব দ্রুত সকল উদ্যোগ নিতে হবে। যে কোন ব্যক্তি একটি এলাকার নেতা হতে পারেন, সেখান থেকে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি (এমপি) হতে পারেন, এমনকি ক্ষমতাবলে মন্ত্রীও হতে পারেন, কিন্তু একজন ‘পলিসি মেকার’ই কি করে ‘পলিসি মেকার’দের বা ‘সরকার’ কে চাপ দেয়ার জন্য সমিতির নেতা হতে পারেন, তা আমার বোধগম্য নয়! পৃথিবীর কোথাও এই দৃষ্টান্ত আছে কিনা আমার জানা নেই!

অতএব, সমিতি ‘মামার বাড়ির আবদার’ করে সরকারকে কেবল চাপ দিচ্ছেনা, পরিস্থিতি এতো অস্থির করে তুলছে যে, সরকার বিরোধীরা এই সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইবেনা। মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের, যারা বঙ্গবন্ধু’র সাহস, আদর্শ, নেতৃত্ব ও আন্দোলনের ইতিহাস বুকে লালন করতো। কিন্তু এই মুহূর্তে সড়কের প্রেক্ষাপট একদমই ভিন্ন, যারা মুখে কালি লেপন করছে, মবিল দিচ্ছে, তারা নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কোন কিছুকেই পরোয়া করেনা।

‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর খসড়াতে গৃহীত সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও নড়া যাবেনা। তাতে আবার বড় ধরনের অরাজকতা তৈরি হবে হয়তো। বরং গৃহীত সিদ্ধান্ত ও নীতিমালায় প্রতিটি বাক্য তাদের বুঝিয়ে দিয়ে তাদের এই ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া জরুরি এবং দ্রুত আইন কার্যকর করতে হবে। হয়তো আরও আগেই এমনটি হতো, কিন্তু এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য ঠিক নির্বাচনের আগের সময়টা বেছে নেবার পেছনেও থাকতে পারে বড় ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ