প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. কামাল শাস্তির ভয় দেখিয়ে কি ‘জয়’ পাবেন?

মাসুদা ভাট্টি : যে কেউ নির্দ্বিধায় স্বীকার করবেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতির মূল সমস্যা প্রতিহিংসাপরায়ণতা। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে রাজনীতি, রাষ্ট্র এমনকি প্রাণে মেরে ফেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেই দেশের রাজনৈতিক সমস্যা মিটমাট করা যাচ্ছে না। ৭৫ না হলে, ২১ আগস্ট না ঘটলে, একের পর এক রাজনৈতিক নেতৃত্ব খুন না হলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দূরত্ব এতোটা হতো না এবং একই সঙ্গে একথাও সত্য যে, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিও এতোটা উত্তপ্ত, সংঘাতময় এবং অগণতান্ত্রিক হতো না।

কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, আমরা বয়সে বাড়ছি সত্য কিন্তু রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় বাড়তে পারছি না, আর তাইতো দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক রাজনীতি না করে ‘দমননীতি’ করে এবং সকলেই একথা স্বীকার করবেন যে, বিএনপির নেতৃত্বে যে পক্ষটি তারা আসলে আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্নই করে দিতে চায়। উদাহরণ ৭৫-এর ১৫ আগস্ট, ২০০৪-এর ২১ আগস্ট, কিবরিয়া হত্যা, আহসানউল্লাহ্ মাস্টার হত্যাসহ দীর্ঘ।

কিন্তু এখন যখন বিএনপি একটি রাজনৈতিক দুঃসময় পার করছে এবং আইনের আশ্রয় নিয়ে আওয়ামী লীগ দলটিকে একটি কঠিন অবস্থার মধ্যে ফেলেছে এবং তা থেকে উত্তরণে রাজনীতিতে ও সত্যিকার অর্থেই প্রায় “অশীতিপর” হয়ে যাওয়া ড. কামাল হোসেনের কাঁধে ভর করে নতুন করে দাঁড়াতে চাইছে তখন অনেকেই ভাবছে, এবার বুঝি বিএনপি এদেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো ধারা প্রবর্তন করবে এবং পুরোনো ও হিংসাত্মক ধারাটি থেকে বেরুবে। এর আগে একথা সকলেই বলেছেন যে, এবার বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে।

উত্তরে বিএনপি-চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও বলেছেন যে, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কিন্তু তার এই বক্তব্যকেও অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রামে নবগঠিত ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় ড. কামাল বলেছেন, “দাবী না মানলে এমন শাস্তি পেতে হবে যা কল্পনাও করতে পারবেন না”। রাজনীতিতে এই হুমকি এদেশে নতুন নয়, আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই ভাবছে যে, এর চেয়ে বড় শাস্তিতো ২১ আগস্টে আওয়ামী লীগকে দিয়েই দিয়েছে দলের প্রধান নেতৃত্বের ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে, এরপর আর শাস্তি কিছু বাকি থাকে কি?

এখন আওয়ামী লীগের পক্ষের লোকেরা এই প্রশ্নও তুলছেন যে, যদি ক্ষমতায় গিয়েই বিরুদ্ধ পক্ষকে শাস্তি দেওয়া যায় তাহলে শেখ হাসিনা কী দোষ করছেন, তিনিতো ক্ষমতায় গিয়েই যাদেরকে শাস্তি দেওয়ার তা দিচ্ছেন। তার মানে হচ্ছে যে, আমরা আসলে সমস্যা থেকে বেরুচ্ছি না, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বেরুচ্ছি না, আমরা বরং সমস্যাকে আরো ভয়ঙ্কর করে তুলছি।

ড. কামাল হোসেনের মতো মান্যবর আইনজ্ঞ যদি এরকম একটি বে-আইনি হুমকি দেন তাহলে তিনি যে, প্রধানমন্ত্রীকে মাত্র দু’দিন আগেই আইন শেখালেন এবং বললেন যে, প্রধানমন্ত্রী হয়ে মামলা করার আহ্বান জানাতে পারেন না, সেক্ষেত্রেতো এ প্রশ্নও তোলা হচ্ছে যে, বেগম জিয়ার হাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকার পরও যখন শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয় এবং পক্ষান্তরে তার নির্দেশও কি ছিল এই হত্যাচেষ্টায়? আর তার মানে হচ্ছে শেখ হাসিনাতো মামলা করতে বলেছেন মাত্র, কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি? মোটকথা, রাজনীতি যখন সুস্থ ও স্বাভাবিক করার একটি সুযোগ ড. কামাল পেয়েছেন, এতোদিন যে কথা তিনি বলে এসেছেন, এখন তিনি তার সম্পূর্ণ উল্টো বক্তব্য রাখছেন। তিনি হুমকি দিচ্ছেন কল্পনাতীত শাস্তি দেওয়ার জন্য।

প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, কে এই ভয়ঙ্কর শাস্তি পেতে ক্ষমতা হাতছাড়া করতে চাইবে বলুন? আরো বড় কথা হলো, যে ৭ দফা মেনে নিতে তিনি আজ হুমকি দিচ্ছেন সেই সাত দফার প্রথমটিতেই আছে বেগম জিয়ার মুক্তির কথা। কিছুদিন আগেও তিনি বেগম জিয়ার পক্ষে মামলা লড়তে রাজি হননি। আর এখন তিনি চাইছেন তার মুক্তি, শুধু মুক্তি নয়, মুক্তি না দিলে তিনি ভয়ঙ্কর শাস্তিরও ভয় দেখাচ্ছেন। ভয় কি ‘জয়’-এর কৌশল হতে পারে? না হওয়া উচিত?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ