প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মইনুল কেন সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে, প্রশ্ন ড. কামালের

প্রিয় সংবাদ : প্রথিতযশা সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে হয়েও মইনুলকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে রাখার বিষয়টিকে দুর্ভাগ্যের বলে মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন।

২৮ অক্টোবর, রবিবার কারাগারে ডিভিশন চেয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানিতে এ মন্তব্য করেন বর্ষীয়ান এ আইনজীবী।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ এ নেতা বলেন, ‘মইনুল হোসেনের জন্য কেন ডিভিশন চেয়ে আবদেন করতে হবে? রাষ্ট্র নিজে থেকেইতো ডিভিশন দেবে। কিন্ত আমাদের দুর্ভাগ্য, বঙ্গবন্ধুর এই বাংলাদেশে আজ মানিক মিয়ার ছেলেকে ডিভিশনের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে।’

আদালতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।

শুনানিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যে মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে সেটা জামিনযোগ্য। তারপরও তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের মালিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে।’

‘এই মানিক মিয়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কারাগারে ছিলেন। তার নামে মানিক মিয়া এভিনিউ করা হয়েছে। অথচ তাকে কারাগারে ডিভিশন না দিয়ে সাধারণ কয়েদির সঙ্গে রাখা হয়েছে’, যোগ করেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী।

শুনানি চলাকালে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়ে বলেন, ‘মি. ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। এটা কী হচ্ছে? সামান্য একটি বিষয় নিয়ে কী আমাদের হস্তক্ষেপ করতে হবে? জেলার (তত্বাবধায়ক) কোন এখতিয়ার বলে বলেন যে, তাকে (মইনুল হোসেন) সাধারণ হাজতিদের সঙ্গে রাখা হবে?’

এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বিচারিক হাকিম আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেবেন। সরাসরি হাইকোর্টে আসার সুযোগ নেই। এ ছাড়া হাকিম আদালতের কোনো আদেশের কপি এখানে নেই। তাই এটা অসম্পূর্ণ আবেদন।’

শুনানির সময় খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ঢাকার হাকিম আদালতের আদেশের পর আমরা রংপুর আদালতে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো লিখিত আদেশ দেয়নি ওই আদালত। ফলে এখানে তা দিতে পারিনি।’

সে সময় আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান, ‘মইনুল হোসেনকে ডিভিশন দেওয়া যায় কি না?’

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বিষয়টি দেখবে বিচারিক আদালত।’

সে সময় খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘উচ্চ পর্যায় থেকে বলা হলো, মামলা করেন। আমরা দেখব। এটা বলার পরই দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৮টি মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। আমরা তো তার জামিন চাচ্ছি না। আমাদের আবেদন ডিভিশনের জন্য।’

মইনুল হোসেনের সহধর্মিনী সাজু হোসেনের করা আবেদনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করে আদালত। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

১৬ অক্টোবর রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে জামায়াতের এজেন্ট বললে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে উদ্দেশ করে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মাসুদা ভাট্টিসহ বেশ কিছু নারী সাংবাদিক মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

ঘটনার চার দিনেও ব্যারিস্টার মইনুল প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি।

মইনুল হোসেনের মন্তব্যকে নারী সমাজের জন্য অবমাননাকর দাবি করে একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জামালপুরের আদালতেও মামলা করেন এক নারী। যদিও ওই দুটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। এ ছাড়াও একই ঘটনায় কুড়িগ্রাম ও রংপুরের আদালতেও পৃথক মামলা হয়। এর মধ্যে রংপুরের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

পরে ২৩ অক্টোবর মইনুল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সারুল ইসলাম।

এরপর সেদিন বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে। সেখানে মইনুলকে সাধারণ কয়েদিদের মতো রাখা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ