প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এসডিজি অর্জনে প্রধান বাধা অর্থায়ন

কালের কন্ঠ : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে অর্থায়নই বাংলাদেশে প্রধান বাধা। এটা অর্জন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাত ও উন্নয়নসহযোগীদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ মানি মার্কেট ও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে এই দুই বাজারকে আরো সুরক্ষিত করতে হবে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘রোল অব প্রাইভেট সেক্টর ইন ইমপ্লিমেন্টিং সাসটেইনেবল গোল (এসডিজি)’ বিষয়ক কর্ম অধিবেশনে বক্তারা এমন অভিমত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশ নেন, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কেওআইসিএ) কান্ট্রি ডিরেক্টর, ক্যারি হাইউনগো জো, ইউনাইটেড ন্যাশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (ইউএনইএসসিএপি) অর্থনৈতিকবিষয়ক কর্মকর্তা ড. মাসাতো আবে প্রমুখ।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের মানি মার্কেট এবং ক্যাপিটাল মার্কেট দুই বাজারের অবস্থাই ভালো নয়। এসব খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য সংস্কার করা না গেলে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আসবে না। কেননা আমাদের ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। ফলে এসব খাতে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। তাই এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে অর্থনৈতিক খাতগুলোতে সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এসডিজি বাস্তবায়ন বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে।

ক্যারি হাইউনগো জো বলেন, এসজিডি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। কেননা এটা বাস্তবায়নে মোট অর্থায়নের ৪০ শতাংশই আসবে বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। জো বলেন, বেসরকারি খাতকে গতিশীল করতে হলে শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কেননা বিশ্ব বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে চীন ও ভিয়েতনামের পরই বাংলাদেশ। তাই একক পণ্য তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে শিল্প বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে।

বেসরকারি খাতকে গতিশীল করার কথা উল্লেখ করে জো আরো বলেন, ব্যবসা সহজীকরণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে সুশাসন এখন কিছুটা ভালো হলেও এটাকে আরো ভালো করতে হবে। আর এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় বাস্তবতায় ভাবতে হবে।

মাসাতো আবে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে এসেছি এই দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এই দেশের জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ হ্রাসে কাজ করতে চাই। তবে এ জন্য তাঁর পরামর্শ এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোকে কাজ করতে হবে। সংগঠনগুলো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে এসব খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেমিনারে আলোচকদের আলোচনায় এটাই উঠে এসেছে এসডিজি বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন। এটা মোকাবেলা করতে হবে ইনোভেটিভ ওয়েতে। সরকারের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাতসহ উন্নয়ন সহযোগীদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া সরকার পণ্য বহুমুখীকরণে পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ এমপ্লয়মেন্ট ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি কামরান টি রহমান, ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (আইএসটিআই) নির্বাহী পরিচালক মো. ইকবাল ইউসুফ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত