প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৈয়দ আশরাফের আসন নিয়ে নতুন আলোচনা

সমকাল : আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের তিনবারের এই সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ঘনিয়ে আসছে। এ অবস্থায় তিনি যদি প্রার্থী হতে না পারেন তাহলে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকার হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্বজনরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দ্রুতই সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসবেন।

আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়নও তিনিই পাবেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি প্রার্থী হতে না পারলে তার পরিবারের কোনো এক সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির নাম সৈয়দ পরিবারের কেউ এখনই বলতে চাইছেন না।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সার্বিক বিষয়াদি দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছেন তার চাচাত ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু। তিনি সমকালকে জানিয়েছেন, ইনশাল্লাহ- সবার প্রিয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হলে তার আসনের প্রার্থিতা নিয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এ ক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট তিন ভাইয়ের মধ্যে যে কোনো একজন- লন্ডনপ্রবাসী সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়াতুল ইসলাম ও অধ্যাপক সৈয়দ শরীফুল ইসলাম এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন।

তবে সৈয়দ পরিবারের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপির যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু। তাই কিশোরগঞ্জ-১ আসনে টিটুই সৈয়দ পরিবারের সবচেয়ে ভালো প্রার্থী। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে সামান্য ভোটে হারলেও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তার যে কোনো নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সক্ষমতা ও সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিবেচনায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নামটিই সবার আগে আসছে। তবে এ ব্যাপারে পারিবারিকভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন স্থানীয় নেতাও দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেজো ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সভা-সমাবেশ পরিচালনা করে আসছেন। অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রার্থী না হলে মনোনয়নের দৌড়ে রাসেল আহমেদ তুহিন এগিয়ে আছেন। তবে তুহিন নিজে এখনও এই আসনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ সরাসরি দেখাননি। যদিও তার রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সক্রিয়তা দেখে সবাই মনে করছেন, তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহী।

এই আসনে প্রার্থিতার দৌড়ে আরও রয়েছেন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ূন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. দীন মোহাম্মদ এবং জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন। তবে সবারই এক কথা- এ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আগ্রহ দেখালে তাদের কেউই দলের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করবেন না। তবে কোনো কারণে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রার্থী না হলে তারা প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে শামিল হবেন।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ আসনে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছেন রাসেল আহমেদ তুহিন। গত রমজানে তিনি কিশোরগঞ্জ পুরনো স্টেডিয়ামে ২০ হাজার মানুষের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সবার দৃষ্টি কাড়েন। কিশোরগঞ্জ সদরের ১১টি ও হোসেনপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের কোনো না কোনো এলাকায় তিনি প্রায় প্রতিদিন নৌকা প্রতীকের সমর্থনে কর্মসূচি পালন করে জনগণের সঙ্গে সংযোগ রেখে চলেছেন।

আরও কয়েকজন নেতা এ আসন থেকে নির্বাচন করার ব্যাপারে আগ্রহী হলেও কোনো অবস্থাতেই তারা নিজেরা কিংবা তাদের সমর্থকরা সে কথা জনসমক্ষে স্বীকার করছেন না। তবে দলীয় একাধিক প্রভাবশালী নেতাকর্মীকে জনসমাবেশ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে রাসেল আহমেদ তুহিন যেভাবে তৎপর রয়েছেন তাতে স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ পাল্টে যাচ্ছে। রাজনীতিতে নবীন হলেও তিনি অনেক প্রবীণ নেতাকে পেছনে ফেলে গত দুই বছরে দলের অভ্যন্তরে নিজস্ব বলয় গড়ে তুলতে এবং সাধারণ সমর্থকদের একটি অংশকেও নিজের নৌকায় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

এলাকার প্রবীণ রাজনৈতিক নেতারা জানান, সবার কাছেই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। কিশোরগঞ্জের মানুষের কাছে জাতীয় চার নেতার অন্যতম প্রয়াত সৈয়দ নজরুল ইসলামের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আজও অম্লান ও অক্ষুণ্ণ। এ জনপদের মানুষের হৃদয়ে তিনি এখনও দেদীপ্যমান। তার যোগ্য উত্তরসূরি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে পাশ কাটিয়ে কেউই এগোতে চান না। এ অবস্থায় এ আসনে রাসেল আহমেদ তুহিনের বিশাল সমাবেশ-কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কোনো বিকল্প নেই। কোনো কারণে তিনি নির্বাচন না করলে রাজনীতির প্রচলিত ধারা অনুযায়ী এ আসন তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের জন্য সংরক্ষিত থাকার কথা। এর বাইরে দল অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে রাসেল আহমেদ তুহিন সমকালকে বলেছেন, তিনি কাউকে সরিয়ে প্রার্থী হওয়ার জন্য মাঠে নামেননি। সবারই প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আগামী নির্বাচনেও এ আসনে দলের মনোনয়ন লাভ করুন, সবার মতো তিনিও তা প্রত্যাশা করছেন। তবে যদি কোনো কারণে তিনি নির্বাচন না করেন, সে ক্ষেত্রে এই আসনে অন্য কারোর প্রার্থী হতে চাওয়াটা নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না। আর এ বিবেচনা থেকেই তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ূন বলেছেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কোনো কারণে নির্বাচন না করলে তিনি প্রার্থী হতে চান। তবে দলের সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত।

ডা. দীন মোহাম্মদ বলেছেন, এই আসনটি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্যই নির্ধারিত। তবে তিনি যদি নির্বাচন না করেন, তা হলে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।

গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন জানিয়েছেন, তার দল ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক। শরিক দলের জেলা সভাপতি হিসেবে তিনি মনোনয়ন চাইবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ