প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ হাসিনার সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে হেফাজতে অসন্তোষ

আদম মালেক : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আলেমদের মধ্যে যারা বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের সমর্থক তারা প্রধামন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়ার বিপক্ষে।

যারা আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলীয় জোটের সমর্থক তারা যে কোনো মূল্যে সংবর্ধন দিতে বদ্ধপরিকর। যারা এই দুই শ্রেণীর বাইরে তারা বাস্তবতা বিবেচনায় ইতিবাচক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে অতীতে সরকার ও ইসলামী দলগুলোর সম্পর্ক সমন্বয় সমঝোতাকে আমলে নেয়া জরুরী বলে জানা গেছে।

আলেমদের মধ্যে যারা সরাসরি বিএনপি করেন বা ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত তারা প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া মেনে নিতে পারছেন না। সংবর্ধনার আয়োজন ছোট হোক বা বড়, গোপনে হোক বা প্রকাশ্যে কোনোভাবেই তাদের সম্মতি নেই।

কারণ, তারা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে শেখ হাসিনাকে সম্মাননা দেওয়া মানে ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা। শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে আরও পাকাপোক্ত করার পথ সুগম করা। তাই, এটা হতে দেওয়া যাবে না। যে-কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। কারণ, আগামীতে সরকারে আমাদের পছন্দের লোককে বসাতে হবে। তাই, এ মুহূর্তে সংবর্ধনা দেওয়ার কোনো দরকার নাই। আবার তাদের মধ্যে অনেকেই যারা ২০১৩ সালে ৫ মের স্মৃতি ভুলতে পারছেন না তারা সংবর্ধনার চরম বিরোধী। এসব কর্মীরা মনে করেন, যে সংবিধানে আল্লাহও ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বাদ পড়েছে, হেফাজতের ৫ মের সমাবেশে এখনও যারা সরকারের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের অভিযোগ তোলে তারা মনে করেন, এ সংবর্ধনা হেফাজতের আত্মদানের সঙ্গে বেঈমানী।
আলেমদের মধ্যে যারা সরাসরি আওয়ামী লীগ করেন বা ১৪ দলীয় জোটকে সমর্থন করেন অথবা নতুন করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হতে চাচ্ছেন তারা যে-কোনো মূল্যে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার পক্ষে। সেটা কোনো ঘরোয়া মজলিস বা ছোট আকারের মঞ্চে নয়; দিতে হবে প্রকাশ্যে, বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে। তবেই-না প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।

জানা গেছে,এই শ্রেণির লোকজন মনে করছেন, সরকারকে সাধারণ (ধর্মপ্রাণ) মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও জনপ্রিয় করে তোলার এটিই মোক্ষম সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতেই হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেরাও কিছু ফায়দা অর্জন করতে পারবেন। সরকারের কাছাকাছি যাওয়া, সামনের নির্বাচন বা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা। অনেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ের জন্য শেখ হাসিনার কাছে তদবিরও শুরু করে দিয়েছেন।

আবার আলেমদের মধ্যে যারা বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কোনো দলের সঙ্গেই সম্পৃক্ত নয়। বড় এই দুই দলের কোনো পক্ষকে বিশেষ সমর্থনও করেন না। কেবল ইসলামের স্বার্থেই সংবর্ধনা দেওয়া-না-দেওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বা নেওয়ার কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে নানা বিষয়ে দুশ্চিন্তা করছেন। তারা হেফাজতের ৫ মে’র রাতের কথা ভুলতে পারছেন না।

এই শ্রেণির লোকদের কথা হলো, সরকার আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে ভালো কথা। কিন্তু এই সরকারই তো শাপলা চত্ত্বরে হেফাজত কর্মীর বুকে গুলি চালিয়েছে, তাজা রক্ত ঝরিয়েছে, নিষ্পাপ প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তাহলে, এই সরকারকে আমরা সংবর্ধনা দেব কোন হাতে!

আবার তারা ৫ মে রাতের রক্তাক্ত ঘটনার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিএনপিকেও দায়ী করে। তাদের জিজ্ঞাসা, সেদিন আন্দোলনের কি উদ্দেশ্য ছিল? কারা আন্দোলন হেফাজত কর্মীদের বিভ্রান্ত করেছিল? কারা আন্দোলনকে ভুল পথে পরিচালিত করেছিল?

তাদের কেউ কেউ মনে করেন,সরকার এবং হেফাজত নেতারা বাস্তবতা উপলব্ধি করে পরস্পরে কাছাকাছি আসতে চায় এবং সরকার আশপাশে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই ইতোমধ্যে হাইকোর্টের ফতোয়া বিরোধি রায় বাতিল করে বিজ্ঞ মুফতিদের ফতোয়া দানের সুযোগ প্রদান, পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম বিরোধী বিষয়াদী সংস্কার, সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণ, কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রদানসহ বেশ কিছু কাজের জন্য সংবর্ধনা হতেই পারে। তখন কেবল সংবর্ধনা নয়,আওয়ামী জোটে যোগদানের ব্যাপারেও আপত্তি নেই। যেমন ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছয় দফা চুক্তি করেছিলেন শাইখুল হাদিস আল্লাামা আজিজুল হক (রহ.)।

এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, কওমী সনদের স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বীকৃতি দেয়া উচিত। তবে আমরা ১৩ দফা থেকে এখনও সরে আসিনি।
আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব আল্লামা ফরিদউদ্দিন মাসউদ বলেন, প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। তিনি ইসলামের জন্য অসাধারণ কাজ করেছেন। তাঁর সংবর্ধনাও হবে অসাধারণ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ