প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী প্রচারণায় বঙ্গবন্ধু পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট : দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব দলই ব্যস্ত সভা-সমাবেশ বা গণসংযোগ করতে। পিছিয়ে নেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও। তবে এবার নির্বাচনী প্রচারণায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ দলটির নির্বাচনী প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে দলটির নির্বাচনী প্রচারণায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এবারের নির্বাচনে জয়কে বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। আইসিটি বিশেষজ্ঞ জয়ের নেতৃত্বেই এবার ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব প্রভৃতি সাইটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা চলবে। নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই দেশে চলে এসেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়, তরুণদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘২১ শে আগস্ট: বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান-ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রেখেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। আজ বক্তব্য রেখেছেন ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড- ২০১৮’ তেও।

বঙ্গবন্ধুর নাতনি, শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও এবার নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পুতুলের স্বামী এবং ফরিদপুর-৩ আসনের সাংসদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র খন্দকার মাশরুর হোসেন ফরিদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর আরেক দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি সিআরআইয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন বা সিআরআই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সংসদের প্রত্যেকটি আসনে কোন দলের কি অবস্থান, কোন আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান কেমন এবং কে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য বা এলাকায় কার গ্রহণযোগ্যতা কেমন তা গবেষণার মাধ্যমে নির্ণয় করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের বিভিন্ন নীতিনির্ধারনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সিআরআই যার সঙ্গে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা ও শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানাও নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশে আসবেন বলে জানা গেছে। যদিও শেখ রেহানা একাধিকবার বলেছে তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা নেই কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একাদশ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ -১ আসন থেকে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের যে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হলো, সেখানেও গোপালগঞ্জ থেকে শেখ রেহানাকে যেন প্রার্থী করা হয় সে বিষয়ে চাপ এসেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য অতীতের নির্বাচনগুলোর মতো নয়। কারণ এই নির্বাচনে অন্য সব বিষয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিজেদের পরবর্তী নেতা নির্বাচন করা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ কন্যা শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, এই নির্বাচনের পর আগামী মেয়াদে অর্থ্যাৎ ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন। আজীবন আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলেও এরপর আর নেতৃত্ব কিংবা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন না বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। এর মাধ্যমে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে নতুনদের নেতৃত্ব আসার সুযোগ প্রদান করে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। এই পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের জন্য নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পরিচালিত রাজনৈতিক সংগঠন। তাই বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার ছাড়া এই দলকে গতিশীল রাখা, দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই চাইছেন এবার নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে আওয়ামী লীগের প্রচারণার বিষয়টিই যাতে শুধু মুখ্য না হয়. বঙ্গবন্ধু পরিবার থেকে নতুন নেতৃত্বও যাতে এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এটাই তাঁদের চাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবসরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি অজানা আতংক সৃষ্টি হয়েছে। নিজ কর্মগুণে শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেতাদের কাতারে চলে গেছেন। জরিপে প্রমাণিত হয়েছে, শেখ হাসিনার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা আওয়ামী লীগের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ বেশি। তাই শেখ হাসিনার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে আসবে তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা দুশ্চিন্তা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এবারের জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দলের নতুন নেতৃত্বের সূচনা হবে বলে আশা করছেন দলের নেতাকর্মীরা।