প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাস্তির প্রস্তাবসহ ইভিএম ব্যবহারে আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায়
অনুমোদন সাপেক্ষে সোমবার উঠছে সংসদে

আনিসুর রহমান তপন : আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ব্যবহারের লক্ষ্যে বিদ্যমান রিপ্রেজেন্টেশন অব দি পিপল অর্ডার (আরপিও), ১৯৭২ এর কিছু বিধান সংশোধন করছে সরকার। তাই বিদ্যমান আরপিও সংশোধন করে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দি পিপল (এমেণ্ডমেন্ট এ্যাক্ট), ২০১৮’ নামে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। যা আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকে অুমোদন পেতে পারে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে মন্ত্রিসভার সম্মতি পাওয়া সাপেক্ষে সোমবার আবার সেটা অনুমোদনের জন্য বর্তমান সংসদের চলতি অধিবেশনের শেষ দিনে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে এ তথ্য।

তাছাড়া শনিবার খুলনায় অনুষ্ঠিত ইভিএম মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে কোনো আইন নেই। এ সংক্রান্ত আইন হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

ইভিএম ব্যবহার সাশ্রয়ী হওয়ায় নির্বাচনের ৬০ শতাংশ ব্যয় কমানো সম্ভব। সময় নির্ধারণ করাতে আগে-পরে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকছে না। আর আঙ্গুলের ব্যবহার থাকায় ইভিএম দিয়ে ভোট কারচুপিও সম্ভব নয় বলেও এসময় জানান সিইসি।
এদিকে ইভিএম দিয়ে সরকার ভোট কারচুপি করবে এই আশঙ্কায় প্রবল আপত্তি জানিয়ে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করছে সরকার বিরোধী সকল দল ও জোট।

আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যায়ক্রমে ইভিএম পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে। এতে দ্রুততম সময়ে ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা যাবে। ফলে ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থা আরো উন্নত ও যুগোপযোগী করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, শহর এলাকায় সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তাই বিদ্যমান আরপিও সংশোধনের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেলে সেটা এদিনই সংসদের চলতি অধিবেশনে উত্থাপন করা হতে পারে। ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত অপরাধের জন্য প্রস্তাবিত খসড়ায় কিছু শস্তির বিধান রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে ঠিক কি পরিমান বা ধরণের শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে সেটা আমি দেখিনি। আইন মন্ত্রণালয় তা ঠিক করে দিয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাগেছে, অসৎ উদ্দেশ্যে ইভিএম ব্যবহারের জন্য এর সঙ্গে সংযুক্ত যে কোনো প্রকার সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বা যুক্ত যন্ত্রাংশ ধ্বংস করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

তাছাড়া খসড়াতে নির্দিষ্ট সময়সীমার বিধান বিলুপ্ত করে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দাখিলের পূর্ব পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়েছে। মনোনয়ন পত্র দাখিলের জন্য প্রার্থী নিজে অথবা তার মনোনীত ব্যাক্তি অথবা প্রার্থীর প্রস্তাবক রিক্রুটিং অথবা সহকারী রিক্রুটিং কর্মকর্তার নিকট দাখিল করতে পারবেন। তাছাড়া প্রার্থী নিজেও অনলাইনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে পারবে এমন বিধান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে তারিখ, স্বাক্ষরসহ মনোনয়ন পত্র জমা নেয়ার সময় উল্লেখ করে প্রার্থীকে স্বীকার পত্র দিবেন রিক্রুটিং অথবা সহকারী রিক্রুটিং কর্মকর্তা। তাছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর প্রদানের সনদ (টিআইএন নম্বর) এর সনদের কপি দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায়।
এছাড়াও কমিশনের ইচ্ছা অনুযায়ী একই বুথে একাধিক ইভিএম মেশিন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে এতে। এটা কোনো নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট বা কম্পিটার নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকবে না বিধায় এটা হ্যাক করা যাবে না। ফলে নিরাপদ ও কারিগরি জালিয়াতি মুক্ত। শুধুমাত্র কমিশনের অনুমোদন করা সোর্স কোড থাকায় এবং ফ্রিকোয়েন্সি রিসিভার বা ডাটা ডিকোডার না থাকায় বাইরের কোনো ডাটা বা কোড গ্রহণ করবে না ইভিএম। তাছাড়া প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বা সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কন্ট্রোল ইউনিট চালু করলেই এর মাধ্যমে ভোট দেয়া যাবে। ভোট গ্রহণ শেষে ইভিএম দিয়ে যতবার খুশী ততবার ভোট গণনা করা যাবে এবং প্রতিবারই একই ফলাফল প্রদর্শন করবে। এতে ভোটারের পরিচয় সনাক্ত করার জন্য ইসির নিজস্ব প্রোগ্রাম থাকায় ভিন্ন পরিচয়ে ভোট জালিয়াতি সম্ভব হবে না বলেও জানান আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ