প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজকে ওস্তাদজী ধরসেন

সাদিয়া নাসরিন : যতোই বলি, বাপ আজকে মাফ করে দে। তিনি ততোই জোরে চেপে ধরেন, ‘না, আজকেই, এখুনি।’ এবং কোন ধরনের ডিস্টার্ব ছাড়া তালিম দেওয়ার জন্য উনার রুমে নিয়ে বসালেন।

তো, আজকে তালিম দিলেন, আবেগ, অনুভব ইত্যাদির উপর। প্রথমেই আমাকে বললেন, ‘একটা কবিতা আবৃত্তি করো’। আমি করলাম। তিনি খুব মন দিয়ে শুনলেন। তারপর বললেন,

– তুমি কবিতা ভালো করো। এখন বলো, তুমি কি একটা কবিতায় সব শব্দ একই রকম করে ডেলিভারি দাও?

– না। এক রকম করে দেই না। যে শব্দের অর্থ যেমন, তেমন করেই ডেলিভারি দেই।

– এক্সাক্টলি তাই। গানও কিন্তু এক ধরনের অভিনয়। তুমি যদি প্রেমের গান গাও তাহলে প্রেমের সাথেই ডেলিভারি দিতে হবে। যুদ্ধের গান গাইলে তোমার ভোকাল অনেক স্ট্রং হবে। এই যেমন ধরো, ‘হুশিয়ার’ শব্দটা তো আদর করে বললে হবে না। ‘হুশিয়ার’ বললে অন্যজন যেন এলার্ট হয়, সেভাবে বলতে হবে। দেশের গান গাইলে মমতা লাগবে। তুমি তো মা, তুমি তো সবচেয়ে ভালো বুঝবে মমতা কি, তাই না? তুমি মনে করবে, দেশ মানে আমরা, মানে তোমার বাচ্চারা। ওকে?

– আচ্ছা। বুঝছি, এখন গান শেখাও।

– কি গান করবা বলো, দেশের গান, প্রেমের গান নাকি যুদ্ধের গান?

– প্রেমের গান

– আচ্ছা ধরো।

– ‘তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে, আমায় শুধু ক্ষণিক তরে…’

– মা, থামো। আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রেম করসো জীবনে?

– না। শুরু করছিলাম। কমপ্লিট করতে পারি নাই। তার আগেই তোর বাপে বিয়ে করে ফেলছে।

– তো! বিয়ের পরে প্রেম করতে পারো নাই? আজব!

– ক্যামনে করবো? তোর বাপের সাথে প্রেম করা যায়? সে কি প্রেম করার মতো মানুষ?

– আচ্ছা, যাও, মুড অফ কইরো না। তুমি প্রেম করো নাই, ঠিক আছে। এখন ভাবো যে, তুমি প্রেম করতেছো। তুমি তার কাছে গিয়ে বসতে চাও। লিরিকটা প্রেম দিয়ে বুঝ। সুরের মধ্যে সেই আবেগ নিয়ে আসো। তারপর সফটলি ডেলিভারি দাও।

আমি সফটলিই ডেলিভারি দিলাম। ওস্তাদজীর পছন্দ হয় না। মিনিমাম চারবার চেষ্টা করলেন, আমার সুরে প্রেম আনতে। আমি যতোই সুরে প্রেম দিই না কেন, উনার পছন্দ হয় না। তারপর বললেন, আচ্ছা যাও, তোমার প্রেমের গান গাইতে হবে না। প্রেম ভেঙে গেছে এমন একটা গান গাও। দুঃখের গান। দুঃখের গান গাওয়ার সময় তুমি যে কান্না করো, সেই কষ্টটার কথা মনে করবা। দুঃখটাকে ফিল করবে। মনে থাকবে?

-থাকবে। আমি মোটামুটি গলায় যতো মমতা, দুঃখ, কষ্ট আছে তার সবটুকু ঢেলে দিয়ে গান ধরলাম,

“আগে যদি জানতাম/তবে মন ফিরে চাইতাম/এই জ্বালা আর প্রাণে সহে না/ও হো মন রে/ কিসের তরে রয়ে গেলি তুই…”

ওস্তাদ এবারও চেষ্টা করলেন কয়েকবার। আমার কোন দুঃখই উনার মনপুত হয় না। শেষে হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘মা..! উঁহু, এভাবে হবে না। আগে তুমি একটা প্রেম করো, তারপর তুমি প্রেম বুঝবা। তুমি তো প্রেমই বুঝ না, প্রেম ভাঙা বুঝবা ক্যামনে? ভুল আমারই হইসে। আমার আগেই মনে রাখা উচিত ছিলো।’ ফেসবুক থেকে। সম্পাদনা : ফাহিম আহমাদ বিজয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ