Skip to main content

১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও এলডিপি গঠনের ইতিবৃত্তি

শাহাদাত হোসেন সেলিম : ২০০৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিনে বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা কর্নেল অলি আহমদ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলেন। সর্বত্র আলোচনা, গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। আমি তখন চক্রান্তের শিকার হয়ে ৬ বছর যাবৎ বিএনপির বাইরে, ফেরার পথ অনেকটা রুদ্ধ। দীর্ঘদিন পর গেলাম অলি সাহেবের সাথে দেখা করতে, উনার মনোভাব বুঝতে। আলোচনায় বুঝলাম কিছু কিছু কর্মকা-ে তিনি দারুন ক্ষুব্ধ এবং এ বিষয়ে তিনি সোচ্চার হবেন। আমি উনার পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। তিনি চট্রগ্রমে একটা শো ডাউন করার বিষয়ে আলোচনা করলেন। মে মাসে যথা সময়ে হেলিকপ্টার-এ কর্নেল অলি বীরের বেশে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করলেন। বিশাল সমাবেশে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখলেন। সমাবেশের উপস্থাপনায় ছিলাম আমি। ব্যাপক হই চই রাজনৈতিক অঙ্গনে। ঢাকায় ফিরে এলাম। অনেকের সাথে আলোচনা করলাম। সবাই গন্তব্যের কথা জানতে চাইলেন। গন্তব্য তখনো অজানা। নেতার সাথে আলোচনা করলাম বেশ কয়েকবার। তিনি লম্বা সময়ের জন্য লন্ডন ও আমেরিকা গেলেন। আমার মাথায় তখন নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয় কিলবিল করতে লাগলো। নির্বাচন কমিশনে গিয়ে রাজনৈতিক দলের তালিকা সংগ্রহ করলাম। নাম নিবন্ধন নেই এমন কটি নাম ঠিক করলাম (তখন ৫০০০ টাকা জমা দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হতো)। সুহৃদদের অনেকেই আমাকে পরামর্শ দিলেন, বি চৌধুরী সাহেবের সাথে দেখা করার জন্য। আমি নেতার সাথে টেলিফোনে কথা বলে তর সম্মতি নিয়ে বি চৌধুরীর সাথে দেখা করলাম। তিনি তখন বিকল্পধারার সভাপতি। সেখানে পরিচয় হলো মাহী বি চৌধুরীর সাথে। আলোচনায় বুঝলাম দলের নিয়ন্ত্রণ তারই হাতে। আলোচনা করলাম এক সাথে কিছু করা যায় কিনা। সিনিয়র সাংবাদিক দোলন ভাই এর সাথে একদিন আলাপ হলো। কদিন পর তিনি ‘দল গঠন করবেন কর্নেল অলি’ এ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করলের যাতে আমার একটি মন্তব্য ছিলো। বেশ সাড়া পেলাম। নেতা তখনো বিদেশে বেশ কবার উনার সাথে টেলি যোগাযোগ হলো। আমি বিস্তাারিত জানালাম। বলেন দেশে ফিরে বিস্তারিত কথা বলবেন। দেশে ফিরে এলে নেতার সাথে ব্যাপক আলোচনা হলো। প্রাথমিক ভাবে তিনি দুটি নাম সিলেক্ট করলেন। ঘোষণাপত্র এবং গঠনতন্ত্র তৈরি করার গুরু দায়িত্ব ও দিলেন আমাকে। বিকল্প ধারার নিকট প্রথম প্রস্তাব ছিলো তাদের দল বিলুপ্ত করতে হবে। এতে তাদের প্রবল আপত্তি। আমি দিনের পর দিন বি চৌধুরী, মেজর মান্নান, মাহী বি চৌধুরী ও ফিরোজ এম হাসানের সাথে কখনো যৌথভাবে, কখনো এক এক করে আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকলাম। ৪ মাস পর আলোচনা ভেঙ্গে গেল। আমরা এককভাবে দল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম। হঠাৎ মাহীর ফোন পেলাম আর একবার আলোচনায় বসার জন্য। নেতা কে জানালাম। তিনি অনুমতি দিলেন। ১২ই অক্টোবর আমি প্রস্তুতি  নিয়ে গেলাম বি চৌধুরীর বাসায়। সন্ধ্যা ৭ থেকে ভোর ৫ অবধি বি চৌধুরী, মেজর মান্নান, মাহী চৌধুরী ও ফিরোজ এম হাসানের সাথে আমি একা আলোচনা করে দল গঠনের রূপরেখা চূড়ান্ত করলাম। ১৩ই অক্টোবর সন্ধ্যায় ডা. বি চৌধুরী ও কর্নেল অলি আহমদ তাতে স্বাক্ষর করলেন। বিকল্পধারার পক্ষে মুখ্য ভূমিকা ছিলো মাহী বি চৌধুরীর। ২৬ অক্টোবর সেফরন হোটেলে দলের আত্মপ্রকাশের সমস্ত দায়িত্ব এবং আর্থিক দায় আমি বহন করেছি। কথা ছিলো মাহী বি চৌধুরী দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন। সদ্য প্রাক্তন সাংসদরা প্রেসিডিয়াম মেম্বার হবেন, এ নীতিমালা গ্রহণ করলে মাহী প্রেসিডিয়ামে অন্তভুক্ত হয়। মাহীর কিছু অরাজনৈতিক কর্মকা-ে দল গঠনের ৮ মাসের মাথায় আমরা বিকল্পধারা বাদ দিয়ে কর্নেল অলির নেতৃত্বে এলডিপি নিয়ে আলাদা হয়ে যাই। সে এক লম্বা ইতিহাস। বিকল্প ধারার অনেকেই আমাদের সাথে রয়ে যায়। আজ এলডিপি প্রতিষ্ঠার এক যুগ। সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। পরিচিতি : যুগ্ম মহাসচিব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)

অন্যান্য সংবাদ