প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিল্লিতে একের পর এক বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন মিন্টু

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিএনপি নেতাদের আনাগোনা বাড়ছে ভারতের রাজধানী শহরে। আর এই আনাগোনা নিয়ে এখানকার রাজনৈতিক মহলে একটা চাপা চাঞ্চ্যল্যের সৃষ্টি হয়েছে।গত প্রায় সাতদিন ধরে দিল্লিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে চলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিল্লির একেবারে কেন্দ্রে লা মেরিডিয়ান হোটেলে শিবির পেতে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক রামমাধব, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্ষিরেন রিজিজুর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান।কিন্তু সবথেকে যেটা উল্লেখযোগ্য বিষয় তা হলো ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে আবদুল আউয়াল মিন্টুর বৈঠক।

সরকারিভাবে এই বৈঠকের কথা জানা না গেলেও, রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বেরোনোর পরবর্তী সময়ে বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে দু’জনের মধ্যে।

উল্লেখ্য, মাস পাঁচেক আগে নয়াদিল্লিতে এসে ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছিলেন বিএনপির কয়েক জন প্রতিনিধি।

কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, ভারত-বিরোধী রাজনীতির জন্য পরিচিত বিএনপি কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করে চলেছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মিন্টুর চলতি সফরের উদ্দেশ্যও তাই। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া অনুপ্রবেশের একটি মামলায় আটক বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদও বেকসুর খালাস পেয়েছেন শিলংয়ের একটি আদালত থেকে, যখন দিল্লির সরকারি মহলে মিন্টু ঘোরাফেরা করছিলেন। ২০১৫-র মার্চে ঢাকার উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়ার দু’মাস পর মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের রাস্তায় পাওয়া যায় সালাউদ্দিনকে। মিন্টুর ভারত সফরের সময়েই সালাউদ্দিনের এই মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে কূটনৈতিক শিবিরে। তবে বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ারে হওয়ায় মুখ খোলেনি কেন্দ্র।

সূত্রের খবর, মিন্টু তার চলতি সফরে ভারতীয় নেতৃত্বকে এই বার্তাই দিয়েছেন যে তারা বাংলাদেশে ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।

সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে অন্তত ৫০টি আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়া হবে—এমন কথাও মিন্টু ভারতীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে যে বিএনপির তরফে নির্দিষ্ট বার্তা নিয়েই দিল্লি এসেছেন মিন্টু।

বার্তাটি হল- শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি কূটনৈতিক পক্ষপাত বহাল না-রেখে বিএনপির সঙ্গেও সমঝোতা করুক সাউথ ব্লক। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নাগপুরে আরএসএস-এর একটি অংশের সঙ্গে বিএনপির কয়েক জন প্রতিনিধি দেখা করেন।বছর খানেক আগে খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলে সঙ্ঘের প্রবাসী কিছু নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

তবে মিন্টুর চলতি সফর নিয়ে বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতা বলেছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচনের পর বাংলাদেশে কারা ক্ষমতায় ফিরবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। এই পরিস্থিতিতে সেখানকার প্রধান বিরোধীদল যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চায় তাতে আপত্তির কিছু দেখছি না। তবে সাবধানে পা ফেলতে চাই আমরা, কারণ এর আগের বিএনপি-জামাত জোট সরকার সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত।