প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইতিহাসের পাঠ
ইমাম আবু হানিফা রহ. এর বদান্যতা

আমিন মুনশি : একবার এক লোক এলো ইমাম আবু হানিফার (রহ.) কাছে। এসে বলল, আমি অনেক কঠিন একটি বিপদে পড়ে আপনার কাছে এসেছি। আপনি আমাকে একটু সাহায্য করুন।

ইমাম সাহেব তার সমস্যার কথা জানতে চাইলেন। লোকটি বলল, একজন ব্যক্তি আমার কাছে পনের দিরহাম পায়। কিন্তু আমি সেটা পরিশোধ করতে পারছি না। আমার এখন খুব অর্থ সঙ্কট। আপনি যদি আমাকে একটু সহযোগিতা করতেন!
আপনি যদি তাকে একটু বলে দেন। সে আমার ঋণ পরিশোধের সময় কিছুদিন বাড়িয়ে দিলে আমার জন্য বড় সুবিধা হতো। আমি একটু স্বস্তির সাথে তার ঋণ পরিশোধ করতে পারতাম।

ইমাম আবু হানিফা রহ. অনেক ব্যস্ততা থাকা সত্তে¡ও তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তাকে সান্ত¦না দিলেন। এমনকি লোকটির সাথে পাওনাদারের কাছে গিয়েও উপস্থিত হলেন। তিনি পাওনাদার ব্যক্তিকে বললেন, ‘আপনি তো তার কাছে পনের দিরহাম পান। সে একটু বিপদে আছে। আপনি যদি তাকে একটু সময় দিতেন তাহলে তার জন্য সুবিধা হত। আপনিও আল্লাহর কাছে অনেক বেশি সওয়াব পেতেন।’

ইমাম আবু হানিফা রহ. তো ছিলেন অনেক বড় মাপের ব্যক্তি। সবাই তাকে চিনতো। তখন সাথে সাথেই সেই পাওনাদার বললো, ‘ঠিক আছে। আমি বরং তার পুরো ঋণ মাফ করে দিলাম। আমাকে আর কিছুই পরিশোধ করতে হবে না।’ এভাবেই তিনি একজন আদর্শ মুসলিম পাওনাদারের পরিচয় দিলেন। খুব সহজেই অন্যের ঋণ মাফ করে দিলেন। আজকের পৃথিবী অনেক অগ্রসর হয়েছে ঠিক। কিন্তু ব্যক্তির সত্তাগত গুণ ও যোগ্যতার দিক থেকে আমরা আসলে অনেক পিছিয়ে গেছি। তাই এমনসব গুণের মানুষের দেখা পাওয়া আজ বিরল। উপরোন্তু কারো কারো মনে হতে পারে- এটি কাল্পনিক কাহিনী।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এরপর কী হলো! ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি বললেন, ‘না। মাফ করে দেওয়ার প্রয়োজন আমার নেই। আমার বরং কিছু সময় দরকার। কিছুদিন পরই যখন আল্লাহ আমাকে সামর্থ দেবেন; আমি আপনার ঋণ পরিশোধ করে দেব।’ (সূত্র: তারিখে বাগদাদ, ইমাম আবু হানিফার জীবনী)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ