প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমলগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সোহেল রানা, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক পরিণত হয় পরিণয়ে। কিন্তু প্রেমের সেই বিয়ের দুই বছরের মাথায় ইহকালেল মায়া ত্যাগ করতে হয়েছে প্রেমিকা তামান্নার। তামান্না বেগম (২০) নামে ঐ গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে কমলগঞ্জের কাটালকান্দি গ্রামের নিজ বসত ঘরের পাশের একটি আম গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তামান্নার শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের দাবী শনিবার রাতের কোন এক সময়ে তামান্না গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে তামান্নার পরিবারের দাবী তামান্নাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

অপর দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা গৃহবধুর পা মাটিতে ছিল। শনিবার রাতে অবিরাম বৃষ্টি হলেও ঝুলন্ত গৃহবধুর গায়ের কাপড় ছিল শুকনো। ঘটনাটি প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয়দের কাছে রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রেম করে ২০১৬ সালের শেষের দিকে মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুর গ্রামের আশিক মিয়ার কন্যা তামান্না বেগমকে বিয়ে করেন কমলগঞ্জের কাঠালকান্দি গ্রামের আছদ উল্ল্যার ছেলে হামিদ আলী (২৪)। এ বিয়ে প্রথমে হামিদের পরিবার মেনে না নিলেও পরবর্তীতে তার পরিবারের সদস্যরা মেনে নিলে উভয় পরিবারের মাঝে মিলমিশ হয়।

তামান্নার বাবা আশিক মিয়া জানান, তামান্নাকে বিয়ে করার বিষয়টি প্রথমে তার স্বামী হামিদ মিয়ার পরিবার মেনে নেয়নি। বিয়ের কয়েক মাস পর তাদের বিয়ে হামিদের পরিবার মেনে নেবার পর আমাদের উভয় পরিবারের মধ্যে মিলমিশ হয়। এরপর থেকে যৌতুকসহ নানা বিষয়ে তামান্নাকে মারধর করা হয়। এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হয়। শনিবার রাতে তার মেয়ে তামান্না তাকে ফোন করে বলে তার স্বামী তাকে মারধর করছে। এ সময় তিনি তার মেয়েকে শান্তনা দিয়ে বলেছিলেন রোববার সকালে আসবেন। কিন্তু রোববার সকালে তার শ্বশুড় বাড়ির লোক ফোনে জানান শনিবার রাতে তামান্না গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি বলেন,আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন মিলে নির্যাতন করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে তামান্নার শ্বশুড় আছদ উল্ল্যা বলেন, পরিবারের সদস্যদের অজান্তে শনিবার রাতের কোন এক সময় তার পুত্রবধু গাছের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনার রাতে রাতভর বৃষ্টি হলেও তামান্নার পড়নের কাপড় শুকনো কেন? এমন প্রশ্নের কোন জবাব মিলেনি তার কাছে। কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত