প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে আসছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প !

আশিস গুপ্ত ,নয়াদিল্লি —– ভারতের বিদেশনীতি বড় ধাক্কা খেল। দেশের আগামী প্রজাতন্ত্র দিবসে মুখ্য অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত-আমেরিকার সু-সম্পর্কের যে দাবি করে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সেই দাবিতে কার্যত জল ঢেলে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর না আসার খবর শনিবার সরাসরি জানিয়ে দিল হোয়াইট হাউস।

অগাস্ট মাসের আগেই ভারতের তরফ খেকে আমন্ত্রণ পত্র পায় আমেরিকা। সেই কথা উল্লেখ করেই সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস জানায়, আমন্ত্রণ পত্র অনেক আগে মিললেও জানুয়ারিতে ভারতে যেতে পারবেন না ট্রাম্প। অবশ্য, বিষয়টি নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি পররাষ্টমন্ত্রী। প্রজাতন্ত্র দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারতে আসার খবর এক কথায় পাকাপাকি ভাবে জানিয়ে দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও বিশ্বাস ছিল ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক ট্রাম্পের ভারত সফরে অনেক বেশি ইতিবাচক হবে। কিন্তু, অক্টোবরের শুরু থেকেই ট্রাম্পের ভারতে আসা নিয়ে মুখ খোলেনি হোয়াইট হাউস।

শনিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্পের না আসার খবর দিলেন সাদা বাড়ির অন্যতম কর্মকর্তা সারা সান্ডের্স। স্টেট অফ ইউনিয়নের শীতকালীন অধিবেশনের কারণ দেখিয়েই ভারত সফর স্থগিত রেখেছেন ট্রাম্প। তবে, কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভারতের ইরানের থেকে তেল আমদানি জারি রাখাই ট্রাম্পের সফর বাতিলের অন্যতম কারণ। নভেম্বরের মধ্যেই ইরানকে তেল ব্যবসায় কোনঠাসা করতে চেয়েছিল আমেরিকা। গত ৬ মাস ধরে বিভিন্ন দেশকে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। সেই তালিকায় ভারতও ছিল।বিভিন্ন দেশ আমেরিকার কথা মেনে চললেও, এখনও পর্যন্ত ইরান নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি ভারত। সেখান থেকেই ভারতের সঙ্গে আমেরিকার দূরত্ব বাড়ে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আমেরিকার চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করেই রাশিয়ার থেকে এস -৪০০ মিসাইল কিনবে বলে জানিয়েছে ভারত। সবমিলিয়েই ভারতের উপর আমেরিকার রাগ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।  স্টেট অফ ইউনিয়নের সভাকে কারণ দেখিয়ে ট্রাম্পের না আসাকেও যুক্তিহীন মনে করা হচ্ছে। কারণ, ২০১৫ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের বিশেষ অতিথির আমন্ত্রণ গ্রহন করেছিলেন।আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভারত–আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত খারাপ বিষয়।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ নীতির পক্ষেও এটা বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। কারণ, দেশবাসীকে বরাবরই দাবি করে এসেছেন মোদি, এই বলে যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বের তামাম রাষ্ট্রনায়কদের সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্প্রতি ইরান ও রাশিয়া সম্পর্কে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তেও রীতিমতো ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। সেকারণেই ভারতকে চাপে রাখতে আমেরিকা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত