প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দ্বীপ জেলা ভোলায় যেতে চান না চিকিৎসকরা, ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা

অনলাইন ডেস্ক: অন্যান্য জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দ্বীপ জেলা ভোলায় যেতে চান না চিকিৎসকরা। তাদের পদায়ন করা হলেও অনেকে যোগদান করছেন না। এতে ভেঙে পড়েছে পুরো জেলার স্বাস্থ্যসেবা। সামর্থবানরা বাইরে চিকিৎসা নিতে পারলেও বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ক্লিনিকগুলো।

বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার সাত উপজেলায় প্রায় ২০ লাখ লোকের বসবাস। জেলার সাত উপজেলায় চিকিসৎকের ২০৯ টি পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৫৭ জন। বাকি ১৫২টি পদ শূণ্য রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে চলছে পুরো জেলার চিকিৎসা কার্যক্রম।

জেলার একমাত্র ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতেও দেখা দিয়েছে জনবল সংকট। দিন দিন ভেঙে পড়েছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের শেষ ভরসা সদর হাসপাতালটিতে ৫৬ চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছে মাত্র ১১ জন।

নেই কার্ডিওলজী কনসালটেন্ট, সার্জারি কনসালটেন্ট, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজীস্টসহ মেডিকেল অফিসার। দ্রুত চিকিৎসক সংকট সমাধান না করলে যে কোন সময় স্বাস্থ্যসেবায় বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তারা।

গত ২০ অক্টোবর হাসপাতালটি পরিদর্শনে এসে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছন, অচিরেই চিকিৎসক সংকট সামাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সাথে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় জেলা ভোলার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভোলা সদর হাসপাতাল। ১৯৯৮ সালে হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি এর জনবল।

৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলে আসছে চিকিৎসা কার্যক্রম। বর্তমানে হাসপাতালে ৫৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ১১জন। চিকিৎসকের পদের মধ্যে ৪৫টি খালি রয়েছ।

জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও মেলেনা চিকিৎকের দেখা। এতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। আবার যে সকল চিকিৎসক এই হাসপাতালে পদায়ন হয়, তাদের অনেকে এখানে যোগদান করেন না। এছাড়াও নার্সসহ অন্যান্য জনবলেও রয়েছে তীব্র সংকট। সব মিলিয়ে অনেকটা নাজুক জেলার স্বাস্থ্যসেবা।

অসহায় হয়ে এখানকার রোগীদের অপারেশনের জন্য উচ্চমূল্যে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ঢাকা কিংবা বরিশালে। এতে প্রায় মারা যাচ্ছেন রোগী। ফলে দরিদ্র রোগীরা পড়ছেন চরম সংকটে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সালমা বেগম বলেন, “অন্তঃসত্ত্বা নারী বেশী বিপাকে পড়ছেন। তাদের চিকিৎসা হচ্ছে না হাসপাতালে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হচ্ছে ক্লিনিকগুলোতে। আর জটিল অপারেশন করতে হচ্ছে ভোলার বাইরে।”

রোগীর স্বজন নাজনিন আক্তার বলেন, “প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে জটিল কোনো রোগী আসলেও তাদের ভোলার বাইরে রেফার করা হয়। এদের মধ্যে যারা দরিদ্র তাদের কোনো উপায় থাকে না।”

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সহিদ তালুকদার বলেন, “আমাদের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ভোলা সদর হাসপাতাল। এ সদর হাসপাতালে দিনের পর দিন কোনো অপারেশন হয় না। কয়েকদিন আগে হাসপাতালে ইলিশা থেকে আসা সাপেঁ কাটা এক রোগী ভ্যাকসিনের অভাবে মারা গেছেন।”

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকতা ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, “হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও ভর্তি হয় গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ জন। আর আউট ডোরে চিকিৎসা নিতে আশে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ জন। এতো রোগীর সেবা দিতে গিয়ে ডাক্তার-নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “ভোলা অন্যান্য জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াতে অনেক ডাক্তার এখানে পদায়ন হলেও আসতে চান না। তারপরেও আমরা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে দিয়ে চিকিৎসক সংকট নিরসনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা গেলে কিছুটা সংকট নিরসন করা যাবে।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ