প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খুলনায় পরিবহন ধর্মঘটে সীমাহীন দুর্ভোগ

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা: সারা দেশের ন্যায় খুলনায় রোববার ভোর থেকে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে বিভাগীয় নগরী খুলনা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম বরিশাল ও রাজশাহীসহ সব রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীরা পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে।

খুলনার সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে রোববার কোনও বাস ছাড়েনি। সকালে যাত্রীরা বাস টার্মিনালে গিয়ে বিপাকে পড়েন। তাদের অধিকাংশই ধর্মঘটের কারণ জানেন না। দূরপাল্লার যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে গেলেও স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকে করে গন্তব্যে ছোটেন। এ সুযোগে এসব ছোট যানবাহনের চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।

পরিবহন ধর্মঘটে খুলনায় নজিরবিহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বিশেষ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১ম বর্ষে অংশ নিতে দূর থেকে আসা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে।

ধর্মঘটের কারণে অভ্যন্তরিণ ও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে না যাওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এতে চাপ বেড়েছে ছোট ছোট যানবাহন ও ট্রেনের ওপর। যদিও ট্রেনের টিকিটও মিলছে না । সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে সারা দেশের ন্যায় খুলনায়ও পালিত হচ্ছে ধর্মঘট।

তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা এ ধর্মঘটের পক্ষে খুলনায় কোথাও কোন পরিবহন শ্রমিককে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না। এমনকি অন্যান্য পরিবহন শ্রমিক নেতাদেরও কোন দেখা মিলছে না। খুলনা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা জানান, এ ধর্মঘট ঢাকা থেকে ডাকা হয়েছে। আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।

গ্রীনলাইন পরিবহনের রয়্যাল কাউন্টারের বুকিং সহকারী জাহাঙ্গীর বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘটে কোন গাড়ি চলছে না। যারা ধর্মঘট চলাকালিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আগাম টিকিট কেটেছিলেন তাদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালসহ শিববাড়ির মোড় ও রয়্যাল মোড় থেকে দূরপাল্লার কোন বাস চলাচল করছে না। প্রায় সব কাউন্টার বন্ধ।
প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ভাড়াই চালিত মটর সাইকেলে এবং বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহার করে যাত্রীরা গন্তব্যে ছুটছেন। এর জন্য তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর খুলনা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, জনস্বার্থে কিংবা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন আটকে গেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর কারণে। গত আট মাসে সারা দেশে অন্তত ২০ বার ধর্মঘট ডেকেছে এসব সংগঠন। আইনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যে ধর্মঘট পালন করছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনী।

ধর্মঘটের নামে জনগণকে জিম্মি ও ক্ষতিগ্রস্ত করার দায় তাদের। শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের এ জন্য শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আব্দুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, শনিবার কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আজ ঢাকার বাসায় ফেরার কথা। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে এসে দেখি বাস বন্ধ। এখন কিভাবে যাবো তাই ভাবছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ