প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ড. কামাল হোসেন, এতোদিন কোথায় ছিলেন?’

অসীম সাহা : ড. কামাল হোসেন বহুদিন পর গর্ত থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তাতে কামাল হোসেন যতোটা না উচ্ছ্বসিত, তারচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত আওয়ামী-বিরোধী গর্তের কুনো ব্যাঙগুলো। নিজেদের দু’পয়সার মুরোদ নেই, অন্যের মুরোদে যারা বাহাদুরি করে, তারা এবার নিজেদের বীরপুরুষ ভাবতে শুরু করেছেন। বিশেষত সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় জনতার বিপুল সমাগম দেখার পর থেকে তারা এখন মাথা নয়, লেজও নাড়তে শুরু করেছেন। ভাবখানা এমন যে, আমি পারি বা না পারি, আমার বাপজানে তো পেরেছে! কিন্তু তারা এই প্রবাদবাক্যটি ভুলে গেছেন, ‘ম্যারা কাঁদে খুঁটির জোরে’। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে জনসভা হলো, সেটা কি তাঁর নিজের ক্ষমতায়, নাকি বিএনপি-জামাতের সমর্থনে? তিনি নিজে তার দল গণ-ফোরামকে নিয়ে জনসভা করলে কজন লোক সেখানে উপস্থিত থাকতো? অতএব বুঝতে অসুবিধা হবার কথার নয়, ড. কামালেরও একটা শক্ত খুঁটির দরকার ছিলো। আর বিএনপি ও আওয়ামী বিরোধীদের দরকার ছিলো একজন শিখ-ি।

ড. কামাল সেটা হয়েছেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারছেন না, তিনি শিখ-ি হলেও তাঁকে বিএনপি মনে করছে ভা-ারি। অর্থাৎ কামাল হোসেনের ভাণ্ডারে ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল’ গোছের কিছু বর্জ্য জমা হয়েছে, যাদের কোনোকালেই মাটিতে সামান্য শেকড়ও ছিলো না। সেই পরগাছাদের নেতা এখন ড. কামাল হোসেন। তিনি কেন হঠাৎ করে গণতন্ত্র উদ্ধারে তাদের সঙ্গে হাত মেলালেন, যারা বঙ্গবন্ধু-খুনের হোতা এবং শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত? তিনি এতোদিন কোথায় ছিলেন? শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার যদি গণতন্ত্রকে হত্যা করেই থাকে, তা হলে সেটা কি ২০১৮-তে এসে তাঁর মনে হলো? ২০০৮ সালে যখন শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে, তখন কি দেশে গণতন্ত্রের জোয়ার বয়ে যাচ্ছিলো? ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারি ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও ড. কামালের এতো নর্তন-কুর্দন তো দেখা যায়নি।

তা হলে এতো দিন পর তাঁর ঘুম ভাঙলো কেন? রামায়ণের ‘কুম্ভকর্ণের’ ঘুম ভাঙতে সময় লেগেছিলো ছমাস। তাও তার কানের কাছে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে তাকে জাগাতে হয়েছিলো। কিন্তু ইতিহাস উল্টে দিয়ে ১০ বছর পর ঘুম ভাঙার সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করার জন্য বিএনপি এবং অন্যান্য দলকে যে তার চেয়েও বেশি নিনাদে জয়ডংকা বাজাতে হলো, তার পরিণাম কি খুব সুবিধাজনক হবে বলে জোটের অন্যান্য দল মনে করে? যদি করে, তা হলে তাদেরকেও বলি, জোটের ঘোঁট পাকানো কুশীলব ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী কিছুদিন আগে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সঙ্গে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ড. কামালকে ‘কাওয়ার্ড’ বলার মধ্য দিয়ে যে একটা ইঙ্গিতবাহী ভিন্ন সুর ও সংশয়ের ভেরি বাজিয়েছিলেন, ড. কামালের সঙ্গে জোট পাকানো দলগুলোর সেকথা মনে আছে তো? অবশ্য এটা নিশ্চিত, বিএনপি দল হিসেবে এতোটা নির্বোধ নয় যে, তাঁরা ড. কামালকে আপাতত মাথার মুকুট বানিয়েছেন বলে সময়মতো তা খুলে ফেলে দিতে তাদের সময় লাগবে!

ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে রেল লাইন ধরে দৌড়াতে কারা বাধ্য করেছিলো? ড. কামালেরও সে দৃশ্যটা মনে থাকবার কথা। এখন কেউ যদি এ-বয়সেও দৌড়প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চান, তা হলে তাঁকে ঠেকাবে সাধ্য কার? তবে ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী যে যথেষ্ট বোকা ছিলেন, তার দৌড়ের ভঙ্গি দেখে তা বোঝা গিযেছিলো; কিন্তু ড. কামাল বোধহয় অতো বোকা নন। অবস্থা বেগতিক দেখলে ডানায় ভর দিয়ে হলেও হয় পাকিস্তান না হয় আমেরিকায় উড়ে যেতে তিনি একটুও দ্বিধা করবেন না। বয়স হলেও এ-ব্যাপারে তাঁর দক্ষতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না।

যদি এমনটা কোনো কারণে ঘটেই, তা হলে বিএনপি কী করবে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখাটা বিএনপির জন্য খুবই জরুরি বলে মনে হয়। অবশ্য এ-ব্যাপারে বিএনপিই বা কতোটুকু কামিয়াব হবে, সে-ব্যাপারে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশলের কাছে যে তারা ১০ বছর ধরেই ধরাশায়ী হয়ে আছে, মেরুদন্ড সোজা করতে যাদের এখনো কাতরাতে হচ্ছে, ড. কামালের মতো ভাণ্ডারিকে শিখণ্ডি করে তারা কতোটকু মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে, আগামীদিনগুলোতে ড. কামালের ভূমিকা এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কতোটা তাদের অনকূলে যায়, তার ওপর নির্ভর করছে।

তবে সবকিছুর আগে সহযোগী দলগুলোর উচিত ড. কামালকে জিজ্ঞেস করা, নিদানকালে ভবতরী পার হবার জন্যে আপনাকে সঙ্গে পাওয়া যাবে তো? নাকি জীবনানন্দের সুরে সুর মিলিয়ে অনেকদিন বাদে আপনাকে ফের প্রশ্ন করতে হবে, ড. কামাল হোসেন, এতোদিন কোথায় ছিলেন?”

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ