প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সি টানছে কর্মজীবীদের

কালের কন্ঠ : যানজট এড়াতে পারায় হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কর্মজীবী লোকজন এখন বেছে নিচ্ছে স্বস্তির এই পানিপথ। তবে প্রতিনিয়ত যাত্রী চাপ বাড়লেও বাড়ছে না ট্যাক্সির সংখ্যা। ফলে অসহনীয় যানজট এড়াতে পারলেও ট্যাক্সিতে উঠতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। বিষয়টি নজরে এলেও ট্যাক্সি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই কর্তৃপক্ষের। কর্মকর্তারা মনে করছেন, বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী, মহাখালী ও গুলশানের কালাচাঁদপুর পর্যন্ত এই পানিপথ সম্প্রসারণে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা নগরবাসীর জন্য অনেক স্বস্তিকর বিষয় হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত রামপুরা এবং মেরুল বাড্ডা ঘাটে অফিসগামী যাত্রীরা ভিড় করে। রামপুরা এবং বাড্ডা ঘাট থেকে গুলশান, পুলিশ প্লাজা ও কারওয়ান বাজারের যাত্রী বেশি থাকে। একইভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয় অফিসফেরত যাত্রীদের ভিড়। গুলশান, পুলিশ প্লাজা এবং কারওয়ান বাজার (এফডিসি) ঘাটে ওয়াটার ট্যাক্সির অপেক্ষায় থাকে তারা। যাত্রীদের অভিযোগ, যাত্রী চাপ ক্রমাগত বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়েনি ট্যাক্সির সংখ্যা। ফলে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় লাইনে।

রামপুরা ঘাটে অপেক্ষারত মিজানুর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, ‘নিরাপদ বাহন হিসেবে আমি নিয়মিত অফিসে যাই ওয়াটার ট্যাক্সি দিয়ে। কিন্তু অফিসে যেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় লাইনে। অনেক সময় তা বিরক্তির পর্যায়ে চলে যায়।’

শামসুন্নাহার লাইলী নামে এক নারী জানান, ওয়াটার ট্যাক্সি নারীবান্ধব বাহন। তাই নারীরা বাস বা অন্য গণপরিবহনের পরিবর্তে এটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে অফিস সময়ে নারীদের জন্য পৃথক ট্যাক্সির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ট্যাক্সির সংখ্যা বাড়লে আরো জনপ্রিয় হবে সেবাটি।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রতিদিন দুই হাজারের মতো যাত্রী যাতায়াত করেন ওয়াটার ট্যাক্সিতে। এদের বেশির ভাগই অফিসগামী। যাত্রী পরিবহনের জন্য ১৫টি ওয়াটার ট্যাক্সি রয়েছে। সকাল ও বিকেলে ভিড় বেশি থাকলেও অন্য সময়ে অলস বসে থাকে ট্যাক্সিগুলো। এ ছাড়া ছুটির দিনে সকালে যাত্রীর চাপ কম থাকে। তবে বিকেলে ভ্রমণপিপাসুদের চাপ বাড়ে।

হাতিরঝিল সমন্বিত প্রকল্পের পরিচালক জামাল আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনটি ট্যাক্সি দিয়ে শুরু হয়েছিল সেবাটি। এখন ১৫টি ট্যাক্সি চলছে হাতিরঝিলে। তবে অফিস টাইমে যাত্রী বেশি থাকলেও অন্য সময়ে অলস বসে থাকতে হয়।’

গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে ওয়াটার ট্যাক্সি দিয়ে কারওয়ান বাজার থেকে বারিধারার কালাচাঁদপুর পর্যন্ত সরাসরি যাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তারা। এ ছাড়া মহাখালী এবং বনানী চেয়ারম্যানবাড়ী থেকেও কালাচাঁদপুর পর্যন্ত যাওয়া যাবে পানিপথে। রাজউকের পরিকল্পনায় লেকে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ জলপথ এবং আরো চারটি বোট স্টেশন রাখা হয়েছে। রাজউকের মাস্টারপ্ল্যানটি বাস্তবায়িত হলে ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিসটি আরো জনপ্রিয় হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের দুই পাশের রাস্তায় অসহনীয় যানজটও নিরসন হবে। লেকের পানি পরিষ্কার হলে বাড়বে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা।

গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক এবং রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানে আওতায় চারটি বোট স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি পাস হওয়ার অপেক্ষায় আছে। লেকের পানি পরিষ্কার হলে নগরবাসী পানিপথ ব্যবহারে আরো আগ্রহী হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ