প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঁচ আসনেই আ. লীগ, বিএনপি প্রার্থীর ছড়াছড়ি

কালের কন্ঠ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি নির্বাচনী আসনই প্রচার-প্রচারণায় বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। এ আসনগুলোর হাট-বাজার, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় চাঙ্গা। প্রতিটি আসনেই বর্তমান সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। আবার দলে কোন্দল থাকায় প্রার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। তবে সব প্রার্থীই হাওরের ফসল রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে আশ্বস্ত করছেন কৃষকদের।

অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি পিছিয়ে থাকলেও পোস্টার-ব্যানার-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব রয়েছেন। তবে আন্দোলন নিয়ে কর্মসূচি চালাতে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় পিছিয়ে আছেন তাঁরা। কিছু সম্ভাব্য প্রার্থী সাত দফা দাবিতে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এদিকে রাজনীতিতে সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যের আত্মপ্রকাশ ঘটায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের কারণে বিএনপির অনেক শক্তিশালী প্রার্থী বলি হতে পারেন বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের কারণে অনেক নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ) আসনটি জেলার বৃহত্তম আসন। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে বিজয়ী হন মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। তিনি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দৃশ্যমান উন্নয়ন করে আলোচনায় রয়েছেন। হাওর অধ্যুষিত তিনটি উপজেলাকে জেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ করে দিতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর সময়ে এ আসনটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেতু নির্মাণ উল্লেখ করার মতো। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব রয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাত মনোনয়নপ্রত্যাশী এমপি রতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়েছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন লড়াইয়ে মাঠে আছেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিমা শাহরিয়ার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান সেলিম, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত সরকার, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক লেখক-গবেষক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম সচিব বিনয় ভূষণ তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাচনা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির ছয় প্রার্থী মাঠে আছেন। তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি নির্বাচনী আসনের অন্যান্য উপজেলায়ও কর্মসূচি পালন করছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত নজির হোসেন, গত জাতীয় নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী ডা. রফিক চৌধুরী, তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, তাহিরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক, সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশিদ শান্ত, সাংবাদিক ওমর ফারুক আল হাদী, হামিদুল হক আফিন্দির নামও শোনা যাচ্ছে। আনিসুল হক সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও দেখা করেছেন বলে জানা গেছে।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনটিতে সাতবারের সংসদ সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রাম-গঞ্জের তৃণমূলে তাঁর অগণিত কর্মী-সমর্থক রয়েছে। ২০১৭ সালে সুরঞ্জিতের মৃত্যুর পর এ আসনে উপনির্বাচনে তৃণমূলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তবে মায়ের পক্ষে ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত নিরলস প্রচারণা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মন জয় করেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মায়ের হয়ে এখনো তিনি দুই উপজেলায় নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এ আসনে সম্প্রতি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছয় নেতা জয়া সেনগুপ্তার বিরুদ্ধে সমাবেশ করে তাঁর প্রার্থিতার বিরোধিতা করে তাঁদের পক্ষে আওয়ামী লীগ থেকে যেকোনো একজনকে প্রার্থী করার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে বিপাকে আছেন জয়া সেনগুপ্তা।

এ আসনে গত উপনির্বাচন থেকেই আলোচনায় আছেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তালেব আহমদের ভাই ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম। এ ছাড়া সুরঞ্জিতের ব্যক্তিগত সহকারী ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ব্যারিস্টার অনুকূল তালুকদার ডাল্টন, যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগ নেতা শামছুল হক চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সিলেট এমসি কলেজের সাবেক ভিপি ইকবাল হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অবনী মোহন দাসও প্রচারণায় আছেন। সম্প্রতি মাঠে আলোচনায় আছেন সাংবাদিক দীপক চৌধুরী।

অন্যদিকে এই আসনে এ পর্যন্ত বিএনপির একক ও শক্তিশালী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে প্রবাসী বিএনপি নেতা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলও দেশে এসে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহকারী মহাসচিব মাওলানা শোয়াইব আহমদও মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনটি প্রয়াত নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের আসন হিসেবে পরিচিত। টানা দুইবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে বহুমুখী উন্নয়নের কারণে বিশেষভাবে আলোচনায় আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। নির্বাচনী এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বিভিন্ন নির্বাচনী সভা-সমাবেশে তিনি একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে তাঁর শেষ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে শেষবারের মতো সমর্থন চাইছেন।

তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ আজাদ ডন। দুই উপজেলায় তাঁরও কর্মী-সমর্থক রয়েছে, যারা তাঁর হয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনিও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নিয়মিত।

এম এ মান্নান ও আজিজুস সামাদ আজাদ ডনের সঙ্গে মাঠে কর্মসূচি পালন করছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। তিনি জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলাকায় সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠান করে দুস্থদের সহযোগিতা করেছেন। এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন আরেক যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নেতা সৈয়দ আবুল কাশেম। তিনিও নানাভাবে মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল কালামকেও মাঠে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় মৎস্যজীবী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট ইসলাম আলীও সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে এ আসনে এবার কোনোভাবেই ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হোক তা চায় না বিএনপির নেতাকর্মীরা। একজোট হয়ে তাঁর বিরোধিতা করে বিএনপি থেকেই প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতারাও চান এ আসনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হোক। এ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম কয়ছর আহমদ, কর্নেল (অব.) আলী আহমদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছাদউদ্দিন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এম খলকু, এম এ মালেক মনোনয়ন চাইতে পারেন। নির্বাচনী এলাকায় তাঁদের নামে পোস্টার-ব্যানার দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এ টি এম হেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাঠে প্রচারণায় আছেন।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনটি জেলা হেডকোয়ার্টার। কিন্তু জোটের রাজনীতির কারণে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ইকবাল হোসেন চৌধুরীর স্ত্রী মমতাজ ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিন মাসের মাথায় মারা গেলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর বদলে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু জোটবদ্ধ রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দিলে এমপি হন অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আবারও অ্যাডভোকেট মিসবাহকে প্রার্থী ঘোষণা করে গেছেন। তবে এর আগেই ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন সুনামগঞ্জ বালুর মাঠে নির্বাচনী শোডাউন করে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিছুদিন পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ার জন্য বিশ্বম্ভরপুরে বিশাল সমাবেশ করেছেন। তাঁরা দুজনও প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনে অ্যাডভোকেট ড. খায়রুল কবীর রোমেন ও সাবেক সংসদ সদস্য জুনেদ আহমদও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন। দুজন প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে এ আসনেও অন্যান্য আসনের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় নেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তবে সাত দফা দাবিতে তাঁরা জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করছেন। এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া। এ ছাড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল, জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকত, জেলা বিএনপির সভাপতি নাদির আহমেদের নামে তাঁদের সমর্থকরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ফলে জাসদ রব থেকে এ আসনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে হাসন রাজার পৌত্র দেওয়ান সুবক্ত রাজার। জাসদ রবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সুবক্ত রাজা সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন এমনটা জানা গেছে।

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনে তিনবারের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক জনপ্রিয়তায় এখনো এগিয়ে। উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে দুই উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়নের মূল কারিগর তিনি। সুরমা নদীতে সেতুর কাজ একনেকে অনুমোদন করিয়ে বিশেষ আলোচনায় আছেন। সম্প্রতি লন্ডনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মতবিনিময়ে শেখ হাসিনা আবারও এ আসনে প্রার্থী হিসেবে মুহিবুর রহমান মানিকের নাম ঘোষণা করেছেন—এমন খবর বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছে। তবে এ আসনে মনোনয়ন চেয়ে মাঠে আছেন ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ছোট ভাই শামীম চৌধুরী। এ আসনে দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ তারেকও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য আওয়ামী লীগকে আবারও ভোট দেবে জনগণ। কারণ এর আগে সব সরকার মিলে যে উন্নয়ন করেছে, আওয়ামী লীগ করেছে তার চেয়েও বেশি। হাওরের ফসলহানির পর প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে শুধু ফসলহারা কৃষকের হাতে সহায়তাই দেননি, পুরো বছর তাদের ভরণ-পোষণ করেছেন। হাওরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও সহযোগিতার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। জনগণ আওয়ামী লীগের এই উন্নয়ন ও সহযোগিতার কথা ভোলেনি।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। মিজানুর রহমান চৌধুরীর সমর্থকরা তাঁর নামে নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার-ব্যানার টাঙিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এ ছাড়া শিল্পপতি সৈয়দ মুনসেফ আলীও মনোনয়ন আলোচনায় রয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব করম আলী সম্প্রতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

অন্যান্য : সুনামগঞ্জ-৪ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শামছ উদ্দিন ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে আব্দুস সালাম মাদানীর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটি।

সুনামগঞ্জ-১ আসনে সিপিবির জেলা সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চিত্তরঞ্জন তালুকদার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকার চারটি থানায় তাঁর প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে কৃষকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে তাদের সচেতন করছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ