প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুদর্শন বন-নারাঙ্গা

সমকাল : গাছটির ইংরেজি নাম ফলস্‌ লাইম যথার্থ। পরিপকস্ফ ফলের রঙ দেখতে অনেকটা পাকা লেবুর মতোই। বুনো ঝোপঝাড়ের ভেতর আপনাআপনি জন্মানো এ গাছ কীভাবে রমনা পার্কে ঠাঁই পেল তা রহস্যই থেকে গেল। ২০০৮ সাল থেকে তরুপল্লব আয়োজিত রমনা পার্কের প্রতিটি ‘গাছ দেখা গাছ চেনা’ অনুষ্ঠানের আগে সম্ভাব্য স্থানের গাছগুলোর নাম সরেজমিনে গিয়ে নোট নিয়ে আসতে হয়।

অনুষ্ঠানের দিন উপস্থিত সবাইকে গাছের নাম সংবলিত একটি নির্দেশিকা বিতরণ করা অনেকটাই রেওয়াজ হয়ে পড়েছিল। এ রকম একটি অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগে গেলাম কাঙ্ক্ষিত গাছগুলো দেখতে। রমনা চায়নিজের ডান দিকের একটি গাছ একেবারেই অচেনা মনে হলো। একসঙ্গে অন্য জাতের দু-তিনটি গাছের ভেতর থেকে একটি ডাল মাটির সমান্তরালে বেড়েছে। গাছের গড়ন কিংবা পাতার সৌন্দর্য তেমন আকর্ষণীয় না হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা দুর্লভই মনে হলো। কাছাকাছি অবস্থানে লেকের ধারে বনআসরার একমাত্র গাছটিও চোখে পড়ল।

অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মাকে গাছটির অবস্থান জানাতেই তিনি বলেছিলেন, এটা বন-নারাঙ্গা। কোথাও কোথাও ফাটাগোটা নামেও পরিচিত। ফলগুলো দেখতে অনেকটা পীতরাজ বা রয়নার গোটার মতো। মনে পড়ে, গাছটি তুলনামূলকভাবে অপরিচিত এবং নগরীতে দুর্লভ হওয়ায় সেদিন গাছ চেনানোর অনুষ্ঠানে বন-নারাঙ্গা সম্পর্কে তিনি উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন। ড. নওয়াজেশ আহমদ ‘ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার্স অব বাংলাদেশ’ গ্রন্থে গাছটিকে বিপন্ন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ঢাকার অদূরে গাজীপুরের শালবন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে দেখা যায়। জানা মতে মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান এবং বলধা গার্ডেনে কোনো গাছ নেই। আরেকটি গাছ আছে মিন্টো রোডের পূর্বপাশের ফুটপাতে। সম্ভবত আমাদের ঘরবাড়ির চারপাশের গাছগুলো অপ্রয়োজনীয় (!) হিসেবেই কাটা পড়েছে। যার অধিকাংশই জ্বালানি হিসেবে গৃহস্থের উনুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। আমাদের হিসাবটা মোটামুটি এমন; যে গাছ থেকে নামিদামি ফল বা কাঠ পাওয়া যায় না, সে গাছটি রেখে কী লাভ? কিন্তু একটি গাছ কী শুধু ভোগ্যপণ্য হিসেবেই ব্যবহূত হয়, প্রকৃতিতে তার সার্বিক অবদানের কথা কি একটুও বিবেচনা করা যায় না?

বন-নারাঙ্গা (Suregada multiflora) একসময় লোকালয়ের প্রাকৃতিক বনবাদাড়ে বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামেই দু-একটি দেখা যায়। আমাদের আশপাশের গাছগুলো এখন আর খুব একটা নেই। গাছ মাঝারি আকৃতির, কাণ্ড মসৃণ। পাতা গাঢ়-সবুজ, আয়তাকার বা বল্লাকার। পুং ফুল হলদেটে, সমভূমমঞ্জরি, পরাগকেশর ৪০ থেকে ৬০টি। স্ত্রী গাছে অসংখ্য বর্তুলাকার উজ্জ্বল কমলা রঙের ফল থাকে। ফলের এই রঙ পাকা। কিন্তু অপরিপকস্ফ ফল সবুজ রঙের। তিনটি শক্ত খোসার ভেতরে থাকে ফলগুলো। ফল ভক্ষ্য নয়। প্রস্টম্ফুটনকাল ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল। মুকুল থেকে হলুদ রঙের লাক্ষা পাওয়া যায়। তা ছাড়া জীবাণুনাশক হিসেবেও কার্যকর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ