প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘দেশে ফিটনেসবিহীন ৬০ লাখ গাড়ি চলছে’

সমকাল : দেশে ফিটনেসবিহীন ৬০ লাখ গাড়ি চলছে। এসব গাড়ির চালকের মাধ্যমেই ঘটছে যত্রতত্র পরিবহন দুর্ঘটনা। গত বছর সারাদেশে তিন হাজার ৩৪৯টি দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৫৫৩ জন।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রশিক্ষিত চালকদের মাঝে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এসব তথ্য তুলে ধরেন।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুল রহমান।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা নিরসন করতে হলে প্রথমে সড়কের নিরাপত্তার বিষয়টি আসে। দুর্ঘটনার জন্য জেল-জরিমানাতে সমাধান নয়, সমাধান এর কারণ উদ্ঘাটন করে তা লাঘব করা। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ত্রুটি সংশোধন ও চালককে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ইনস্টিটিউশনের বিকল্প নেই। এমনিতেই আমাদের দেশে চালকের সংকট রয়েছে, সেক্ষেত্রে শুধু শাস্তি দিলেই সমাধান হবে না। সংশোধনের মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ দিতে হবে।’

তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ দশ বছর করা, অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে এবং তাতে কারও মৃত্যু হলে ৩০২ ধারায় মামলা করা প্রয়োজন বলে মত দেন।

‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ প্রসঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘এই আইনে সব বিষয় উঠে আসেনি। সেখানে শুধু শাস্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সারাদেশে দুই হাজার ৬২৬টি দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজার তিনজন নিহত ও ছয় হাজার ১৯৭ জন আহত হন। ২০১৬ সালে আরও কমে দুই হাজার ৩১৬টি দুর্ঘটনায় চার হাজার ১৪৪ জন নিহত ও পাঁচ হাজার ২২৫ জন আহত হন। ২০১৭ সালে এটি নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় তিন হাজার ৩৪৯টিতে (প্রতিদিন গড়ে ৯টি)। এতে সাত হাজার ৯০৮ জন আহত ও পাঁচ হাজার ৬৪৫ জন (প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন) নিহত হয়েছেন।

এসব দুর্ঘটনায় নিহত ২৭ ভাগই মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সচেতন করে তুলতে আমরা এসএসসি পাস চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলছি। এ ছাড়াও শিক্ষার্থী-শিক্ষকদেরও নিরাপদ সড়ক বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রসারিত করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোকে। যানজট কমাতে নতুন নতুন ফ্লাইওভার তৈরি করা হচ্ছে। নতুন করে সড়ক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সবার আগে গাড়িচালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য ট্রাফিক পুলিশকে আরও বেশি দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ৩৫ জন প্রশিক্ষিত চালককে দক্ষতার সনদ তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও নতুন করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ