প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিরাইয়ের উজানধলে ভূমি অফিস নির্মাণে বাধাসৃষ্টির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে জনগণ

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে ভূমি ও তহসিল অফিস নির্মাণ কাজে জঙ্গি-জামায়াত-বিএনপির কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চালানো হচ্ছে অপপ্রচার। গতকাল শনিবার বিকেলে উজানধল মাঠের স্কুলপ্রাঙ্গনে এলাকার সহস্রাধিক  মানুষ জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ করেছেন। প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টিকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে তারা একতাবদ্ধ। রাষ্ট্র ও এলাকাবাসীর স্বার্থে নির্ধারিত স্থানেই উজানধল ভূমি অফিস স্থাপিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ উল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো মূল্যে অশুভ শক্তিদের মোকাবিলা করা হবে। মুষ্টিমেয় কিছুলোক পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চক্রান্তকারীরা মাঠে নেমেছে। মূল উদ্দেশ্য আগামী নির্বাচন নস্যাৎ করে দিয়ে দিরাইয়ের উজানধল এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা। মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায় তারা। সকল ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এলাকাবাসীকে জাগ্রত থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে পরিবেশ নষ্ট ও অশান্তি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে লন্ডন ও অস্ট্রিয়াসহ বিদেশে কর্মরত একটি চক্র মোটা অংকের অর্থ সংগ্রহ করে দেশে পাঠাচ্ছে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বাউল গবেষক ও তরুণ ব্যবসায়ী দুলন চৌধুরী বলেন, উজানধল ভূমি ও তহসিল অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়ার আগে সরকার স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। জরিপ করেছে। জায়গা বাছাই করার পর অত্র অঞ্চলের মানুষের সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনার মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উজানধল ভূমি ও তহসিল অফিস নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গি চক্র এখানে একটি ইস্যু সৃষ্টি করতে চায়। তাই তারা এটাকেই ইস্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে।

তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে বিব্রত করতে ও বেকায়দায় ফেলতে নানারকম ষড়যন্ত্র করছে। জামায়াত-জঙ্গি-সন্ত্রাসী চক্র দেশের যেকোনো স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে চায়। যেখানেই সুবিধা পাবে সেখানেই তারা গোলাগুলি, ত্রাস ও অগ্নিসন্ত্রাস চালাবে। অন্যায়ের প্রতিবাদকারী হিসেবে পরিচিত তরুণ গবেষক দুলন চৌধুরী বলেন, এই অশুভ শক্তি শান্তি নয়, তারা অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। আপনাদের নিশ্চয়ই অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল সাহেবের কথা মনে আছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তাকে প্রাণ নাশের জন্য যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের বাড়ি আমাদের এই দিরাইয়ে। সুতরাং জায়গার দোষ নয়, জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা যেকোনো স্থানের হতে পারে। নিজের কাছে আশঙ্কাজনক বিস্ময়কর তথ্য আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, উজানধল ভূমি অফিস নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে জঘন্য কাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ধলের মানুষ হলেও বর্তমানে লন্ডনের একটি শহরে বসবাসকারী আহসান হাবিব তালুকদারের ফেসবুক আইডিতে মোহাম্মদ এম রহমান নামে এক ব্যক্তি হুমকি দিয়ে কমেন্ট করেছে, ‘সমস্যা সমাধানের একমাত্র রাস্তা নতুন সরকার ক্ষমতায় আসা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে পরের দিন ফজরের আগেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ বিদেশে বসে তারা কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করছে এমন তথ্যও আমার কাছে আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা তান্ডব শুরু করার পরিকল্পনা করছে। দুলন চৌধুরী বলেন, সুতরাং আমি এসব বিষয়ে সরকারের আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাদের অনুরোধ করবো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার। গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব বা কাউন্টার টেররিজমের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গি সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বীরমুক্তিযোদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল  মহোদয়ের কাছেও আমাদের বিনীত অনুরোধ। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ছেলে শাহ নূর জালাল (বাবুল), গীতিকার ও ভাটি বাংলা বাউল একা ডেমী ও গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি শাহ আবদুল তোয়াহেদ, ইউপি সদস্য মো. লাল মিয়া, ইয়াদ আলী, উজানধল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ সমিরুল, সমাজসেবক তহসিল রানা, বাউল শিল্পী রণেশ ঠাকুর, মো. ফরহাদ, ময়না মিয়া, উজানধল শিবমন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জ্যোতিষ চক্রবর্তী প্রমুখ। #

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ