প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টেস্ট সিরিজেও একই রূপে হাজির হতে চান ইমরুল

নয়া দিগন্ত : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জুড়ে দুর্দান্ত খেলেছেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। তিন ম্যাচের দুটিতে সেঞ্চুরি আর একটিতে সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান কম। টানা দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়েছেন। হয়েছেন তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক। করেছেন ৩৪৯ রানের বিস্ফোরিত পারফরমেন্স। এর সুবাদে সিরিজ সেরার তকমা পেয়েছেন তিনি। এবার তার টার্গেট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টেও বিস্ফোরণ ঘটানো। এমনটাই জানালেন এই স্বল্পভাষী ব্যাটসম্যান।

ইমরুল বলেন, ‘আমার জন্য এটি অসাধারণ একটি সিরিজ ছিল। ভালো এবং ভিন্ন কিছু করার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেছি।’

শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ২২০ রানের রেকর্ড গড়া জুটি গড়েন ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। প্রথম বলেই ওপেনার লিটন দাস শূন্য হাতে ফিরে গেল ক্রিজে আসেন সৌম্য। তার সাথে জুটি বেঁধে দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপের রেকর্ড গড়েন ইমরুল। এই পার্টনারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সৌম্য খুব উদীপ্ত ও অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। আমার সৌভাগ্য যে ওর সাথে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছি, রেকর্ড গড়েছি।’

ওয়ানডে সিরিজ তো শেষ হলো এবার পালা টেস্টের। ইমরুলের ভাষ্য, ‘ওয়ানডেতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, এখন টেস্টর পালা। টেস্টেও ভালো কিছু করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’

ইমরুল কায়েসের ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০০৮ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। দীর্ঘদিন পর এই স্টেডিয়ামেই ক্যারিয়ারের সেরা পারফরমেন্স করলেন তিনি। মাঝে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল তার ক্যারিয়ার নিয়ে। ২০১৭ এ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে আহামরি করতে পারেননি কিছু। আবারো সুযোগ হারান। ওয়েস্টইন্ডিজে খেলতে পারেননি। চান্স ছিল না এশিয়া কাপের স্কোয়াডেও। হঠাৎ তামিম ইকবালের ইনজুরিটা বেড়ে যাওয়া ও সাকিব আল হাসানের খেলাটা অনিশ্চয়তায় পড়লে সবাইকে বিস্মিত করে ঢাকা থেকে আরব আমিরাতে উড়িয়ে নেয়া হয় তাকে। ভাগ্যটা যেন সেখানেই খুলে গেল এ ক্রিকেটারের। এখন তিনি দলের অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন।

এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরমেন্স করেছেন ইমরুল। নিশ্চিত হারা ম্যাচটা যেন বাংলাদেশের অনুকূলে নিয়ে যান। আস্থা সেখানেই অবিচল হয় তার ওপর। এরপর জিম্বাবুয়ে সিরিজে তার খেলা চলা। বিশেষ করে তামিম ইকবালের অবর্তমানে আবার ওপেনিংয়ে নিয়ে আসা হয়।

এশিয়া কাপে আফগানদের বিপক্ষে ব্যাটিং করেছিলেন তিনি ছয়ে। ৭২ রানে ছিলেন অপরাজিত। ৮৯ বলে করা ওই রানের সুবাদেই বাংলাদেশের স্কোরটা ২৪৯ এ যায়। এবং ম্যাচও জিতেছিল বাংলাদেশ। হোমে সে ধারাতেই যেন ব্যাটিংটা করলেন এ বাঁহাতি। এতটা সাবলীল ব্যাটিং। এতটা ধারাবাহিকতা আর কখনোই দেখা যায়নি। গতকালেরটা নিয়ে ৭৬ ওয়ানডে হয়েছে তার। এর মধ্যে এ সিরিজেই তার চমৎকার ধারাবাহিকতা। প্রথম ম্যাচে ১৪৪ রানের দারুণ এক ইনিংসের পর জহুর আহমেদে দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরি পাবেন সেভাবেই খেলছিলেন। কিন্তু ৯০ রান করে অপ্রত্যাশিতভাবে আউট হয়ে যান তিনি। আর কাল তো সেঞ্চুরি পেরিয়ে ১১৫ রান করে গড়েন অসাধারণ এক রেকর্ড।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ